আগামী ১৯ নভেম্বর শনিবার সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিভাগীয় গণসমাবেশ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এদিকে এই সমাবেশকে ঘিরে সিলেটে চাপা উত্তেজনা ও শঙ্কা রয়েছে।
বিভাগের চার জেলার সবকটি উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংঠন সভা ও জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া গণসমাবেশ সামনে রেখে বিয়ানীবাজারে বিএনপির প্রচার মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় মুসলিম মিয়া নামের এক শ্রমিক আহত হন। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধূরী বলেন, সর্বকালের বৃহৎ সমাবেশ ঘটাতে চান তারা। দীর্ঘ ১০ বছর পর আয়োজিত বৃহৎ এই গণসমাবেশে সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম করতে চায় বিএনপি। কাইয়ূম চৌধূরী বলেন, আশা করি সাড়ে চার লাখ লোক সমাগম ঘটবে। গত দুদিন থেকে মাদরাসা মাঠের পূর্ব দিকে চলছে মঞ্চ নির্মাণকাজ।
এদিকে ৭০ ফুট প্রস্থের ও ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই গণসমাবেশ মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। মাঠের বিভিন্ন জায়গার উঁচু-নিচু স্থান বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। প্রতিদিনই নগর থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলায় চলছে লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা।
দলটির অভিযোগ, সমাবেশ পণ্ড করতে ইতোমধ্যে পুলিশ ধরপাকড় শুরু করেছে। একই সঙ্গে দেশের অন্য স্থানের মতো সিলেটেও সমাবেশের আগে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিন্তু বিএনপি নেতারা বলেছেন, মানুষকে আর ঘরে আটকে রাখা যাবে না। তবে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক শ্রমিকরা বলেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে সিলেট বিএনপিতে বিভেদ ভুলে মুক্তাদির-আরিফ বলয়ে বিভক্ত তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও এক হয়ে মাঠে নেমেছেন।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বরত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হাসান জীবন গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের বাধা-বিপত্তির কথা মাথায় রেখেই গণসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন।
তবে রোববার মৌলভীবাজারে প্রচারণার সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ চারজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এ সময় লাঠিপেটা করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজনকে আহত করা হয়। মামলা-হামলার ফলে জনগণ সমাবেশের দিকে আরও আগ্রহী হয়েছে।
এদিকে সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশ সফল করতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে সিলেট নগরীর সব কটি কমিউনিটি সেন্টার বুকিং দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়। আগে ভাগে সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীদের রাখা হবে এসব সেন্টারগুলোতে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কতোগুলো সেন্টার ভাড়া করা হয়েছে, এখনি বলা যাচ্ছে না। অনেকেই বিচ্ছিন্নভাবে ভাড়া করেছেন। তবে এগুলো আমরা করছি না, নেতা-কর্মীরা যারা আগে আসবেন, তারা স্ব-উদ্যোগে করছেন। আলিয়া মাদরাসা মাঠেও নেতা-কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সুদীপ দাস বলেন, যদি বেআইনি কোনো কাজে না জড়ায়, বেআইনি কাজে ভাড়া না দেয়, তাহলে সমস্যা নেই। কিন্তু বেআইনি কোনো কিছু করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply