সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানার লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের প্রথম প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকীকরণ প্ল্যান্ট।
প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য টেকসই উপায়ে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম শনিবার এই প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন।
এরপর রবিবার চালু হয়েছে প্ল্যান্টটির কার্যক্রম। এখান থেকে প্রতিদিন ২০০ টন বর্জ্যকে পৃথক্করণ করা হবে।
এতে করে নগরের বর্জ্য আর জমা থাকবে না। সেগুলো প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া হবে। এই প্লান্টের কারিগরি সেবা দিচ্ছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ।
১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। তাদের সহায়তা করছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড।
এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অপচনশীল প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার প্ল্যান্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিক ও লাফার্জহোলসিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের টেকসই ব্যবস্থাপনা আমাদের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ।
এটি মোকাবিলায় নানা ধরনের টেকসই পদক্ষেপ নিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশ সরকারও সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ হ্রাসে কাজ করে যাচ্ছে।
সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, সিসিক ও লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এটাই দেশের প্রথম প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকীকরণ প্ল্যান্ট।
এ প্রকল্পে সিটি করপোরেশনকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার পাশাপাশি সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে লাফার্জহোলসিম।
এই প্লান্টের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অপচনশীল প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা করা সম্ভব হবে। প্ল্যান্টটি চালু হওয়ায় প্লাস্টিক বর্জ্যের হাত থেকে মুক্তি পাবে সিলেটবাসী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সিলেটকে একটি প্লাস্টিকমুক্ত নগরীতে রূপান্তর করা আমাদের লক্ষ্য। প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকীকরণ প্ল্যান্টের মাধ্যমে নগরীর বর্জ্য আমরা দ্রুত অপসারণ করতে পারব।
লাফার্জ সুরমা হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, এ প্রকল্পের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এখান থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
এতে করে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন বর্জ্য পৃথক্করণের পাশাপাশি পুরাতন বর্জ্যও পৃথক্করণ করা হবে। এটা দেশের মধ্যে প্রথম কোনো নগরে চালু হলো। এতে সিলেটের মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply