রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯

সিলেট ৩য় দফায় বন্যার কবলে

সিলেট ৩য় দফায় বন্যার কবলে

তৃতীয়বার বন্যার কবলে পড়লো সিলেট। সিলেটে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হলে সিলেটে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

দ্বিতীয় দফার বন্যায় ৭ লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দী। এরই মাঝে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সোমবার (১ জুলাই) নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে জেলার ৩টি উপজেলায়। তবে মহানগরে এখনো হয়নি বন্যা।

সিলেটে গত ২৭ মে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই সপ্তাহ ব্যাপী স্থায়ী এ বন্যায় পানিবন্দী ছিলেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রথম বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন থেকে ফের বন্যা হয় সিলেটে।

বিশেষ করে ঈদুল আযহার দিন ভোররাত থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে মহানগরসহ সিলেটের সব উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ হয়ে পড়েন।

পরবর্তী এক সপ্তাহ সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি ছিলো ভয়াবহ। এরপর পানি নামতে শুরু করে। তবে সে গতি ছিলো খুব ধীর। দ্বিতীয় দফা বন্যা শেষ হওয়ার আগেই সোমবার থেকে সিলেটে ধাক্কা দেয় তৃতীয় দফা বন্যা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস সোমবার জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় সিলেটের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এছাড়া সিলেটে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ২৬০ মিলিমিটার। আগামী ৪ দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। হলে বন্যা পরিস্থিতি সিলেটে আবারও ভয়াবহ হবে।

পাউবো সূত্র জানায়, সোমবার বিকাল ৬টায় সিলেটে ৩টি নদীর পানি ৪ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে ছিলো। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১০২ সে.মি., কুশিয়ারার পানি আমলশীদ পয়েন্টে ২৮ সে.মি, এ নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৮৮ সে.মি ও সারী নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রবিবার এগুলোর মধ্যে শুধু কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ছিলো বিপৎসীমার উপরে। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিলো বলে জানায় পাউবো।

এদিকে, রবিবার রাতে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়- এদিন সকাল পর্যন্ত মহানগর ও জেলার সদর ছাড়া বাকি ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ১৩৪টি গ্রামের ৭ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী। এসব উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজার ৭১৩ জন মানুষ রয়েছেন।

বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও প্রত্যেক উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কন্ট্রোল স্থাপন করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করে বন্যার্ত অসুস্থ মানুষকে প্রদান করা হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

রবিবার (৩০ জুন) দিনভর সিলেটে থেমে ও উজানে ভারী বৃষ্টির ফলে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার যেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছিলো সেসব এলাকা ফের প্লাবিত হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কানাইঘাটে সুরমা ও লোভা নদীর পানি দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। ফলে আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত সুরমা ডাইকের অন্তত ১৮টি স্থান দিয়ে সুরমা ও লোভা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রত্যন্ত জনপদ ফের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে প্লাবিত বাড়ি-ঘরের মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন।

এছাড়া বিভিন্ন বাজার তলিয়ে পানি ঢুকেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এতে নতুন করে ক্ষতিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া প্লাবিত হয়েছে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার নতুন নতুন এলাকা। ফলে তৃতীয় দফা ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026