মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬

সিলেটে বড় অঙ্কের বিনিময়ে মুক্তি পেলেন গুরুতর আহত মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ

সিলেটে বড় অঙ্কের বিনিময়ে মুক্তি পেলেন গুরুতর আহত মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ

আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে নিজ বাসার সামনে থেকে অপহরণ করে নির্যাতন করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে বড় অঙ্কের মুক্তিপণের বিনিময়ে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পরিবার।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে নগরের সুবিদবাজার এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাগরদিঘির পার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বৃহস্পতিবার রাতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা তার অটোরিকশার গতিরোধ করে।

এরপর অস্ত্রের মুখে তাকে অন্য একটি অটোরিকশা তুলে নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা মিসবাহ সিরাজের মোবাইল ফোন থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পরিবারের লোকজন টাকা হস্তান্তর করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরের সাগরদিঘিরপাড় এলাকার শ্মশান সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেটে সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।

তাকে গতকাল ভোরে নগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে মিসবাহ সিরাজ অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছেন। ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক জেলা পিপি এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ আত্মগোপনে রয়েছেন।

স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, তিনি নিজ বাসায় না থেকে নগরের সুবিদবাজার এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। ভোর ৪টার দিকে নগরের সাগরদিঘীর পাড় এলাকায় মিসবাহ সিরাজ রক্তাক্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

এরপর একটি বেসরকারি হাসপাতালের এম্বুলেন্সযোগে তাকে নগরের সুবহানীঘাটের আল হারমাইন হাসপাতালে ভর্তি করান।

চিকিৎসকরা জানান, ভোররাত ৪টার দিকে এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার হাত ও পা রক্তাক্ত অবস্থায় জখম ছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত-পায়ে আঘাত করা হতে পারে বলে জানান তারা।

এরপর মিসবাহ সিরাজকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে মিসবাহ সিরাজকে কোথায় নেয়া হয়েছে, সেটি কেউ বলতে পারছেন না। ঘটনা সম্পর্কে জানতে মিসবাহ সিরাজসহ তার পরিবারের একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

নিকট আত্মীয়দের মধ্যে কয়েকজন জানান, তারাও শুনেছেন মিসবাহ সিরাজের ওপর হামলা হয়েছে। তবে কোথায় কখন তিনি আহত হয়েছেন, সেটি গত রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তার পরিবারের তরফ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নগর পুলিশের কাছেও নেই।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এ সংক্রান্ত একটি খবর তারাও শুনেছেন। কিন্তু কোথায়, কিভাবে ঘটেছে সেটি জানেন না। এ ব্যাপারে পুলিশের তরফ থেকে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মিসবাহ সিরাজের স্বজনরা জানান, প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সিলেটে দায়ের করা কয়েকটি মামলার আসামি মিসবাহ সিরাজ। এ কারণে তিনি নগরীর ফাজিলচিস্ত আবাসিক এলাকার বাসাতে না থেকে সুবিদবাজার এলাকার একটি বাসায় বসবাস করতেন। একমাত্র পরিবারের সদস্যরা তার খবর জানতেন। শুক্রবার দুপুরের পর তারা আহত হওয়ার খবর পেয়েছেন।

তারা জানান, ভোররাতে নগরের সুবিদবাজারের পার্শ্ববর্তী সাগরদিঘীর পাড় এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে শুনেছেন। তার স্ত্রী ও সন্তান গিয়ে কয়েকজন যুবকের হাত থেকে তাকে উদ্ধার করেন।

এ সময় ওই যুবকদের চাহিদামতো টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে বলে তারা জেনেছেন। তারা জানান, সুবিদবাজার এলাকার বাসা থেকেই মিসবাহ সিরাজকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে মিসবাহ সিরাজের ফোন থেকেই স্ত্রী ও সন্তানের মোবাইল ফোনে ফোন দেয়া হয়।

এরপর ওই যুবকদের তথ্যমতে, তাকে নগরের সাগরদিঘীর পাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের শরীরের আঘাত গুরুতর। হাতে ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কয়েকটি রগ কেটে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এখন তাকে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থনে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তারা।

সিলেটের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতার হোসেন খান ও পলাতক সন্ত্রাসী পাঙ্গাস ছিলেন মিসবাহ সিরাজের অনুসারী।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারা মিসবাহ সিরাজের শেল্টারে হাউজিং এস্টেট, জালালাবাদ এলাকায় বিতর্কিত ঘটনা ঘটিয়েছে। এমনকি বিরোধী বলয়ের বাসা বাড়িও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল।

এ ছাড়া পিপি হিসেবে নানা সময় বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এডভোকেট মিসবাহ সিরাজ। এসব ঘটনার কারণে আওয়ামী লীগ শাসনের শেষদিকে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এরপর থেকে সিলেটে অবস্থান করলেও রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026