বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৭

বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের উত্থান

বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের উত্থান

বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকেরা ৩৯টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারছেন। সূচকে বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছে ৯৪তম স্থানে, যেখানে ২০২১ সালে ছিল ১০৮তম স্থানে।

২০২৫ সালের হেনলে পাসপোর্ট সূচকের অর্ধবার্ষিকী প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাসপোর্ট, এক সময়ের শীর্ষস্থানীয় ভ্রমণ নথি, এখন ৬ষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে। ২০১৫ সালে প্রথম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্য এখন ১৮৬টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পেলেও, আগের মর্যাদা থেকে এটি এখন অনেক নিচে। যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টও একই ধরণের পতনের মুখে, ১০ম স্থানে নেমে এসে এখন ১৮২টি দেশে প্রবেশাধিকার রয়েছে।

পাসপোর্ট সূচক ধারণার উদ্ভাবক ড. ক্রিশ্চিয়ান এইচ. কেলিন বলেন, প্রবেশাধিকার অর্জন করতে হয় এবং তা বজায় রাখতে হয় কৌশলগত ও সক্রিয় কূটনীতির মাধ্যমে।

তিনি বলেন, যেসব দেশ ভিসা মওকুফ সংক্রান্ত আলোচনায় সক্রিয়, তারাই সাধারণত সূচকে উপরে উঠে আসে।

বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব দেশে ভিসামুক্ত সুবিধা পায়, তার মধ্যে রয়েছে বাহামা, ভুটান, ফিজি, কেনিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, গ্রেনাডা, রুয়ান্ডা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ আরও অনেক দেশ।

সিঙ্গাপুর পাসপোর্ট ১৯৩টি দেশে প্রবেশাধিকার নিয়ে সূচকের শীর্ষে রয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ১৯০টি দেশে প্রবেশাধিকার নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় এবং ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেনসহ সাতটি ইইউ দেশের পাসপোর্ট ১৮৯টি দেশে প্রবেশাধিকার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে আরও ইউরোপীয় দেশ ও নিউ জিল্যান্ড।

পাসপোর্ট র‍্যাংকিংয়ে ভিন্নমুখী চিত্র দেখা দিলেও, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক বহুমাত্রিক রয়ে গেছে। ২০২৪ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ব্রিটিশ ইন্দো-প্যাসিফিক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সফর করেন। যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা সংকট ও দুর্যোগে সহায়তা হিসেবে অতিরিক্ত তহবিল ঘোষণা করেছে।

২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ৩.৯ বিলিয়ন পাউন্ডে, যদিও তা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

তবে দুই দেশই বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্রিটেনের উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য স্কিম (ডিসিটিএস) সংস্কারের ফলে বাংলাদেশ এখনও শূন্য শুল্কে তৈরি পোশাক ও ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানি করতে পারছে।

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে এক মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ। লন্ডনের ইস্ট লন্ডনসহ কয়েকটি বরোতে এই জনগোষ্ঠীর ঘনত্ব বেশি। প্রতিবছর এই প্রবাসী সমাজ প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠান, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, যার নাগরিকরা মাত্র ২৫টি দেশে পূর্ব ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন।

সর্বোচ্চ পতন হয়েছে ভেনিজুয়েলার (১৫ ধাপ), এরপর যুক্তরাষ্ট্র (৮ ধাপ), ভানুয়াতু (৬ ধাপ), যুক্তরাজ্য (৫ ধাপ) এবং কানাডা (৪ ধাপ)। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পাসপোর্ট গত চার বছর ধরে ধীরে ধীরে উপরে উঠছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026