আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘মসজিদে বাইয়াত’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।
বাইয়াত আরবি- শব্দটি একটি ইসলামিক পরিভাষা। এর অর্থ আনুগত্যের চুক্তি, আনুগত্যের শপথ ও আনুষ্ঠানিক আনুগত্য (সূত্র: আল মুজামুল ওয়াফী) ৷ এর মূলধাতু হলো যার অর্থবিক্রয় করা, লেনদেন করা, শপথ করা, চুক্তি করা ইত্যাদী। তবে, ইসলাম ধর্মে বাইয়াত বলতে শপথ পাঠ বা আনুগত্যের চুক্তিকে বুঝানো হয়।
হিজরতের ছয় বছর পর হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা থেকে উমরা পালনের জন্য ১ হাজার ৪০০ সাহাবাকে নিয়ে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন। মক্কা থেকে মাত্র ৯ মাইল দূরে হুদায়বিয়া নামক স্থানে পৌঁছলে কোরাইশরা তাদের গতিরোধ করে।
মুশরিকরা যে কোনো মূল্যে মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশে করতে বাধা দিতে তৎপর হয়। মুশরিকদের এ অন্যায় আস্ফালনের চূড়ান্ত জবাব দিতে মুসলমানরা হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন। মুসলমানরা খোদায়ি মদদে কুফরি শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কারণ এরই মধ্যে বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা যে ছিল মুসলমানদের! তারা কোনোভাবেই নতজানু হওয়ার পাত্র নয়। এক অদম্য মনোবল নিয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হুকুমের অপেক্ষা করছিলেন তারা।
কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সা.) শান্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাহাবাদের প্রতিরোধ আকাঙ্ক্ষা ও প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও মুশরিকদের সঙ্গে এক অসম চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলেন। ওই চুক্তিতে ছিলো-
মিনা এলাকায় জামরাতের কাছে এর অবস্থান।
নবুয়তের দ্বাদশ বছরে মদিনার একদল সাহাবি রসুল (স)-এর হাতে বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করেন। পরের বছর একই স্থানে একটি বড় দল বাইয়াত গ্রহণ করে রাসুলকে (সা.) মদিনায় হিজরতের অনুরোধ করেন। ইসলামের ইতিহাসে যা আকাবার শপথ নামে বিখ্যাত। ১৪৪ হিজরিতে খলিফা আবু জাফর মনসুর এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।
Leave a Reply