বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:১৩

জনগণের প্রতি আস্থা নেই প্রধানমন্ত্রীর

জনগণের প্রতি আস্থা নেই প্রধানমন্ত্রীর

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অন্যান্য দলের ১৫৪ প্রার্থীকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করে নির্বাচন কমিশন প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করেছে এবং জনগণের ভোটের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো আস্থা নেই বলে দাবি করেছে বিএনপি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  রোববার এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছেন।

ওই বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সরকারের পোষ্য নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে ঘোষিত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দলীয় আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তাদের দিয়ে সাজানো প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে যে প্রহসনের নাটক নির্বাচন কমিশন মঞ্চস্থ করেছে তা নজিরবিহীন এক লজ্জাজনক ঘটনা। ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই বিবৃতি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই জনগণের ভোটের অধিকারের কথা বলেন, বিনা বাধায় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রয়োগ করার অধিকারের কথা বলেন, কিন্তু বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি জনগণের ভোটাধিকার চূড়ান্তভাবে হরণ করার যে নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তা ভূতের মুখে রাম নামের সমান।

তিনি  দাবি করেছেন, বাংলাদেশের নিবন্ধিত প্রায় ৪২টি দলের মধ্যে  মহাজোটের অর্ন্তভুক্ত মাত্র ৫টি দলের অংশগ্রহণে এই সাজানো পাতানো-নীল নকশার নির্বাচন আয়োজন করা হয়।  অন্যদিকে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট ও অন্যান্য বিরোধী সংগঠনের নির্বাচন বয়কট করার আহ্বান গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। শনিবার দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক ভাষণ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপিও নির্বাচনে এলে তাদেরও একইভাবে আসন বন্টন করা হতো-তার এ বক্তব্যে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কথায় প্রমাণ হয়, তিনি জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস কখনই মনে করেন না এবং জনগণের ভোটের প্রতিও তার কোনো আস্থা নেই বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফখরুলের দাবি, জনগণের রায়কে ভয় পেয়ে ও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমি ধস পরাজয়কে এড়ানো এবং গণরোষ থেকে বাঁচার জন্য তিনি ভোটারদের অর্ধেকেরও বেশি সংসদীয় আসনে ভোট দেয়ার সুযোগ না দিয়ে তথাকথিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন নির্বাচনে প্রার্থীদের সংসদ সদস্য হওয়ার কলঙ্ককে বরণ করে নিতে কুণ্ঠিত হননি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথিত ফলাফল বাতিলসহ নির্বাচনী কার্যক্রম, বিরোধী দলের আন্দোলনের দমাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার ও বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা, গুমের অপরাজনীতি অনতিবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিরোধীদল হিসেবে আমরা গত পাঁচ বছরে চূড়ান্তভাবে নির্যাতিত হয়েও শুধু দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এখনও সংকট নিরসনে এবং সকল দলের অংশগ্রহণ ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব থেকে দূরে সরে আসিনি। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও জয়পুরহাটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বিরোধীদলের ৬ জন নেতা-কর্মী, নারায়ণগঞ্জে এক জন নিহত হয়েছে।

এসব নেতাকর্মী নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন । তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে গুম, খুন, গণগ্রেফতার ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় জনতার রুদ্ধরোষ থেকে পালিয়ে যাবার কোনো পথই খোলা থাকবে না। বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিহত নেতা-কর্মীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026