শীর্ষবিন্দু নিউজ: বর্তমানে দেশব্যাপী চরম সংকট ও নৈরাজ্য মধ্যে আরো বড় কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। দেশজুড়ে অসহযোগে দেশবাসীর প্রতি তারা এ সরকারের সব কর্মকাণ্ড বর্জনের আহবান জানাবে।
দলীয় সূত্র বলছে, দেশ অচল করে দিতে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর দিন থেকে লাগাতার হরতাল-অবরোধ দিতে যাচ্ছে তারা। আর ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১ জানুয়ারি থেকে তারা দেবে টানা অসহযোগ কর্মসূচি। ওই সূত্র জানায়- বিএনপি দেশবাসীকে অফিস-আদালত, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বর্জনের আহবান জানাবে। তবে অসহযোগ আন্দোলনের আওতামুক্ত থাকবে হাসপাতাল, সংবাদপত্র ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে শনিবার রাতে মিডিয়ার একাংশের কয়েকজন নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। তারা দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেন। শনিবার রাতে ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন- বিএফইউজের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বিএফইউজের সাধারণ সম্পাদক শওকত মাহমুদ, ডিইউজের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমেদ।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ১৮ দলের প্রধান খালেদা জিয়া বলেছেন, ১৯৭১ সালে দেশ শত্রুমুক্ত হলেও অপশক্তির নীলনকশা বাস্তবায়নে শত্রুদের চক্রান্ত আজও বিদ্যমান। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে গ্রাস করে একটি পদানত জাতিতে পরিণত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত। ওই অপশক্তির নীলনকশা বাস্তবায়নে এ দেশেরই কিছু চিহ্নিত মহল মদদ যুগিয়ে চলেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, শোষণ-বঞ্চনামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়েই ১৯৭১-এ এ দেশের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। ওদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র বিপদমুক্ত করতে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। মহান বিজয় দিবসে তিনি দেশবাসীসহ সকলের প্রতি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে আমাদের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, জনগণের মৌলিক ও মানবিক অধিকার খর্ব হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই এ দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।তিনি দেশবাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।