একদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয় সরকারের’ অধীনে ১৮ দলীয় জোটকে ছাড়াই এক তরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আর একতরফা নির্বাচনের তফসিল বাতিল করে নির্দলীয় সরকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে অনড় থেকে টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
এমন অবস্থায় দেশে যে রাজনৈতিক সঙ্কট এবং অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তার সুষ্ঠু, সঠিক সমাধান না হলে ভবিষ্যৎ আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্টজনেরা।
নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকায় নেমে এসেছে বিপর্যয়। প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। কিন্তু এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের কোনো সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষণিক আভাস মিললেও পরক্ষণেরই তা মিলিয়ে যাচ্ছে। আর এ অবস্থার জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিকেই দায়ী করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সংঘাত-সহিংসতা এবং দুই দলের অনমনীয় মনোভাবের কারণে চলমান সংকট আরো ঘণীভূত হচ্ছে। এর ফলে সমাধানের পথও কঠিন হয়ে পড়ছে। এখনই এসবের দ্রুত সমাধান করতে হবে। তা না হলে আরো বড় কোনো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে দেশে।
সঙ্কট সমাধানে সবার আগে দুই নেত্রীকেই এগিয়ে আসতে হবে:
দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও আইনবেত্তা ব্যারিস্টার রফিকুল হক মনে করেন, চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে দুই নেত্রীকেই এগিয়ে আসতে হবে। এককভাবে কারো পক্ষে তা সম্ভব নয়। কিন্তু দু’জনই বিপরীতমুখি অবস্থানে আছেন।
আগামী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কয়েক মাসের মধ্যে তা আবার বাতিল করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলানিউজকে রফিকুল হক বলেন, এই এক তরফা নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। ১৯৯৬ সালের বিএনপি এ রকম একতরফা নির্বাচন করেছিল, পরে তা বাতিল করতে হয়েছিল।
এ অবস্থায় তফসিল বাতিল করে নতুনভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখছেন ব্যারিস্টার রফিকুল হক। কারণ যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তারা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এক্ষেত্রে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পর তা বিলুপ্ত করে ১১তম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এর সমাধান দেখছেন তিনি।
রাজনৈতিক সঙ্কটের পাশাপাশি সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে : সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সার্থে ঘোষিত তফসিল বাতিল করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’র সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
বিরোধী দল প্রশ্নে সরকারের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করে বাংলানিউজকে তিনি বলেন, অবশ্যই মানবতাবিরোধীদের বিচার এবং শাস্তি হওয়া উচিৎ। এক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে যে রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়নের মাধ্যমে এর সমাধান হবে না।
চলমান রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি এরই মধ্যে সাংবাধানিক সংকটও সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন বদিউল আলম মজুমদার। তার মতে, সংসদের মেয়াদ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তাই সংসদ ডেকে সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার বিরোধ নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে সংলাপের প্রয়োজন আছে। তা না হলে স্থায়ী বা টেকসই সমাধান আসবে না।
বদিউল আলম মজুমদারের অভিমত, আমাদের অভিজ্ঞতা বলে সমঝোতা সম্ভব নয়। কিন্তু এখন আমরা এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি, হয় দ্রুত একটি সমাধানের দিকে যেতে হবে, না হয় চরম সংকটের দিকে চলে যাব। সহিংসতা আরো বাড়তে পারে, বিরোধী দলকে দমন করেও সরকার সফল হবে না। ফলে দিন দিন আমরা ভয়াবহ ভবিতব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছি।
তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ এবং প্রহসনমূলক নির্বাচন নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। অসন্তুষ্টির বিষয়টি সরকারের আমলে নেয়া দরকার। ১৯৯৬ সালে বিএনপিএ একটি পাতানো, একতরফা নির্বাচন করে সফল হতে পারে নি। পরে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছিল। আমি আশা করি অচিরেই সরকারেরও শুভবুদ্ধির উদয় হবে। প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করে দেশ, জাতির সার্থে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তারা করবে।
সংঘাত-সহিংসতার মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যারা বানচাল করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। এক্ষেত্রে জনগণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সহযোগিতা করবে। কিন্তু সরকার এই অজুহাতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দমন করলে সেটাও মানুষ ভালোভাবে নেবে না।
কোনো ফর্মুলা দেখছি না: সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের কোনো একজন মন্ত্রীকে বলতে শুনলাম এ নির্বাচন নিয়ে করার কিছু নেই। এগারতম নির্বাচন নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে। এ নির্বাচন নিয়ে যদি কথা বলার না থাকে তবে সংঘাতের আশু অবসান হচ্ছে না বলেই ধরে নেওয়া যায়। বিরোধী দলও তাদের জায়গায় অনড়, ছাড় দিতে চাচ্ছে না। সরকারও নির্বাচন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে মারমুখি হয়ে উঠছে জামায়াত-শিবির।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলন আর রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংঘাত-সহিংসিতার দিকে চলে যাচ্ছে। একটি রাজনৈতিক সমাধান না হলে এ পরিস্থিতি থেকে কিভাবে উৎরে ওঠা যাবে তার কোনো ফর্মুলা দেখছি না।
তবে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার অবশ্য এটাও মনে করেন যে, এই পরিস্থিতি সাংবিধানিক কোনো সঙ্কট তৈরি করবে না। তার মতে, সরকার সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচন করছে। তারপরও যদি সঙ্কট সৃষ্টি হয়ে যায় তাহলে পরবর্তী সরকারের উপর নির্ভর করবে এর সমাধান।
কিন্তু সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, এ সরকারের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সংবিধান সংশোধন করার। চাইলে এখনই সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে। পরবর্তী সংসদের উপর নির্ভরশীল হতে হয় না। কিন্তু এ বিষযে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে না। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াটা তো আইনগতভাবে সিদ্ধ। সে সুযোগটাই সরকার নিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
‘রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান হলে হামলা-সংঘাত-সহিংসতা কি বন্ধ হয়ে যাবে?’– এমন প্রশ্নের জবাবে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজনেতিক সঙ্কট সমাধান হলে সহিংসতা এমনিতেই কমে আসবে। সব মানুষ নির্বাচনমুখি হলে দলগুলো নিজেদের স্বার্থেই সন্ত্রাস করবে না। তখন জামায়াত-শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করার সুযোগও তৈরি হবে।
এতবড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সরকার কতটুকু সফল হবে বা অভিযান কতদিন চালাতে পারবে, এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
তার মতে, সব ধরনের সংঘাত-সহিংসতা বন্ধে সরকার এবং বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ বিরোধী দল সরকারেরই একটি অংশ। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের চেয়ে সরকারের দায়িত্বই বেশি বলে মনে করেন এম সাখাওয়াত।
পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হবে: সামাজিক, রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সঙ্কট সমাধানে প্রথমত উদ্যোগটা আসতে হবে সরকারের দিক থেকে। কিন্তু সরকারের উদ্যোগের অভাব আছে। তারা রেকর্ডসৃষ্টিকারী একটি নির্বাচন করতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন করলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকেই তারা প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এরই মধ্যে এ নিয়ে পুরো বিশ্বেই সমালোচনা হচ্ছে। কোনো দিক থেকেই এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।
কিন্তু আইনগতভাবে সরকার গঠনে যেহেতু সমস্যা নেই, তাই আওয়ামী লীগ এ নিয়ে সন্তুষ্ট বলেই মনে হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ বিএনপির দেখানো ১৯৯৬ সালের মডেল সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে করেন তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির এই মুখপাত্র।
আনু মহাম্মদ বলেন, সে-সময় বিএনপি একটা যুক্তি দাঁড় করিয়েছিল যে, সংবিধান সংশোধনের জন্য তাদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার ছিল এ কারণে তারা সেটি করেছে।
কিন্তু এখন তো দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে আওয়ামী লীগের। তারা যা যা সংশোধন করতে চায় তারা সেটি এই সংসদেই করতে পারে। সেবার খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তার গৌরব বাড়েনি, এবার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হলে তার গৌরবও বাড়বে না।
অর্থনীতির এ অধ্যাপক মনে করেন, এবার ’৯৬ সালের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচন হওয়ার আগেই আইনগত বৈধতার সুযোগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা বিজয়ী। ভোটার ছাড়াই হয়ে যাচ্ছে নির্বাচিত সরকার।
জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে ব্যাপক জাতীয় ঐক্যমত রয়েছে। কিন্তু সরকার যেভাবে বিষয়টিকে সমাধান করার চেষ্টা করছে তাতে জামায়াত-শিবিরকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে মনে করেন আনু মুহাম্মদ।
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিঃশেষিত অবস্থা থেকে তুলে এনেছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। এতকিছুর পরও জামায়াতের জনসমর্থন বাড়ে নি। এরকম অবস্থায় আওয়ামী লীগের পক্ষে খুব সহজ ছিল বড় ধরনের একটি জাতীয় ঐক্যমত তৈরি করে জামায়াতকে কোনঠাসা করে ফেলার।
কিন্তু আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধ ও জামায়াত ইস্যুকে ভোটের রাজনীতির অংশ করে রাখতে চেয়েছে। নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে জামায়াতের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে অনেক দলকে।
এতে নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন আর যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের আন্দোলন একাকার হয়ে তাদের শক্তিবৃদ্ধিই বরং হয়েছে। ফলে যারা নির্বাচন নিযে ক্ষুব্ধ তাদের ক্ষোভটা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে যাচ্ছে।
তাছাড়া ইসলামপন্থী রাজনীতি যারা করে তাদের মধ্যে জামায়াতবিরোধী অংশটাই ছিল বেশি। কিন্তু আওয়ামী লীগের এসব তৎপরতা জামায়াতের প্রতি এসব ইসলাম পন্থী দলের সহানুভূতির সম্পর্ক তৈরি করে দিয়েছে। এই ধরনের সহানুভূতির সম্পর্ক ভবিষ্যতে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
তবে রাজনৈতিক সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে সামরিক শাসন আসার আশংকা করছেন না আনু মুহাম্মদ।
ঘোলা পানিতেই অপশক্তির উদ্ভব ঘটে:
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী মনে করেন, চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের বিষয়টি অসম্ভব রকম রাজনৈতিক।
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, জনগণ এই সঙ্কট সৃষ্টি করে নি। রাজনীতিকদের তৈরি করা সঙ্কটের দায়ভার রাজনীতিকদেরই নিতে হবে। আমরা জনগণ বুঝতে পারছি না, যে সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকেছি তার শেষ মাথায় আলো আছে কিনা। এরকম একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা রয়েছি।
একদিকে আলাপ-আলোচনা চলছে, অন্যদিকে ধরপাকড়, সহিংসতাও চলছে। ফলে আমরা আসলেই বুঝতে পারছি না যে, সমাধানটা কিভাবে হবে। তবে রাজনীতিকদের দেশ-দশের কথা ভেবে দ্রুত সমাধানে আসা উচিৎ।
রাশেদা কে চৌধুরী আরো বলেন, জামায়াত-শিবির হচ্ছে অপশক্তি। মূল ধারার রাজনীতিতে গণতন্ত্র যখন মুখ থুবড়ে পড়ে, মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায় তখন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পরিস্থিতি তৈরি হয়, অপশক্তির উদ্ভব ঘটে। এটা আমাদের কাম্য ছিল না। কিন্তু অনেক বছর ধরে এই অপশক্তি তার ডালপালা বিস্তার করেছে। এই রাজনীতিকরাই একে পাশ কাটিয়ে গেছেন, না হয়, পাশে বসিয়েছেন। রাজনীতির মাঠ যখন ফাঁকা হয়েছে তখনই এ ধরনের সহিংসতা-সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি মনে করেন, মূল ধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যদি বোঝেন তাহলে এখনো একে প্রতিহত করা সম্ভব।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে আগামী ৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ তা গ্রহণযোগ্য হবে না। উৎসবমূখর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবাই ভোট দিতে যাবে এটাই মানুষের চাওয়া। কিন্তু এই একতরফা নির্বাচন মানুষকে তার চাওয়া থেকে বঞ্চিত করবে।
উল্লেখ্য, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ গত মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে শুরু হয়েছে। শুক্রবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত সারা দেশে রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে ১৮ দল।
একতরফা নির্বাচনের তফসিল স্থগিত এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী দলের ডাকা সর্বশেষ অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয় গত শুক্রবার ভোর ছয়টায়। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের কারণে গত চার দিন ১৮ দলের কোনো কর্মসূচি ছিল না। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রতিবাদে রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছিল জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী।
এর আগে গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ১৮ দল। এরপর ৩০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর এবং ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও দুই দফায় ১২ দিন অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয়।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪