শীর্ষবিন্দু নিউজ: ঘড়ির কাঁটায় প্রতিটি দিনই এক রকম। কিন্তু ইতিহাসের কাঁটা আলাদা। ইতিহাস কখনও কখনও হাজার হাজার দিনের চেয়ে একটি দিনকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ২৯শে ডিসেম্বর ২০১৩ দিনটি কেমন কাটবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য? বিরোধী জোটের মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি কি সফল হবে? তাদের কর্মী-সমর্থকরা কি ঢাকায় আসতে পারবেন? ঢাকায় কি সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে? বুধবার সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া যখন নতুন ধরনের এ কর্মসূচি ঘোষণা করলেন তখনই এসব প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে রাজধানী অভিমুখী এ ধরনের কর্মসূচি অবশ্য নতুন কিছু নয়। গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা এসেছিল। রাতের আঁধারে শাপলা চত্বর থেকে তাদের উচ্ছেদ করতে পরিচালিত অভিযান নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। মূলত আরব বসন্তের অভিজ্ঞতার কারণেই রাজধানী শহরে কোন ধরনের জমায়েতের ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্সনীতি অনুসরণ করে আসছে। বিরোধী দলের সর্বশেষ মার্চ ফর ডেমোক্রেসিকে নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
এরই মধ্যে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছেন। রাজধানীর কোথাও বিরোধী জোটের সমর্থকদের কোন ধরনের জমায়েত না হতে দেয়ার নির্দেশনা এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযানের তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। গতকাল দিনভর তার বাসা এবং কার্যালয়ের সামনে আতঙ্ক তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
তার বাসায় প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে ফিরে যান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। বিরোধীদলীয় নেতার বাসা এবং অফিসের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন সংসদ সদস্য শাম্মি আখতার এবং সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। আইনজীবী এবং সাংবাদিকদেরও বিরোধী নেত্রীর অফিসে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। যদিও দুজন আইনজীবী এবং চারজন সাংবাদিককে সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়। মূলত বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার জন্যই এ কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।
ওদিকে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি সফলে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী এ কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সর্বোচ্চসংখ্যক নেতাকর্মীকে ঢাকা অভিযাত্রায় শামিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার শক্তি প্রয়োগ করলে তার বিপরীতে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকেও শক্তি প্রয়োগ করা হতে পারে। ২৯শে ডিসেম্বর কেমন কাটে তার ওপর বহুলাংশে নির্ভর করছে বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ।