রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪০

নির্বাচন ঠেকাতে না পারায় চুপ থাকতে বললেন শেখ হাসিনা

নির্বাচন ঠেকাতে না পারায় চুপ থাকতে বললেন শেখ হাসিনা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সহিংসতা চালিয়ে নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন চুপ থাকেন। কোনো কিছুই ঠেকাতে পারবেন না। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় গণভবনে ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষকে যন্ত্রণা দেবেন না। নির্বাচনই যখন আটকাতে পারেননি, তখন আর কিছুই আটকাতে পারবেন না। তিনি বলেন, বিএনপি হয়তো ভেবেছিলো, বাধা দিয়ে একটা সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে। কিন্তু জনগণ তাদের সে সুযোগ দেয়নি। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে ৪০ ভাগ ভোট পড়েছে। অনেক উন্নত দেশেও এত ভোট পড়ে না। এত বাধা অতিক্রম করেও যখন ভোট হয়েছে তখন আর কী করবেন? আমি এখন এটাই চাইবো, ওনার যেন হুঁশ ফিরে আসে। উনি যেন এই জনগণকে আর কষ্ট না দেন।

আলোচনার দরজা খোলা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জামায়াত আর যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ছেড়ে যদি আলোচনা করতে আসেন। তবে, আমরা আলোচনা করে আগামী দিনে কীভাবে চলা যায় সেটা দেখবো। এজন্য হাইকোর্টে নিষিদ্ধ জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে। সরকারবিরোধী সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের কড়া সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, কিছু কিছু লোক গণতন্ত্র চাইবে না এটা আমরা জানি। এরা তারা, যারা ভাবে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা থাকলে, গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে তাদের কোনো মূল্য নেই, অগণতান্ত্রিক কেউ আসলে তাদের আবার মূল্য বাড়ে। কেউ কেউ ভাবে, অগণতান্ত্রিক কেউ ক্ষমতায় আসলে তাদের গাড়িতে পতাকা উড়বে। ফাইভ স্টার হোটেলে বসে মিটিং করে বাংলাদেশের সর্বনাশা চিন্তা ছাড়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেসব জায়গায় মিটিংয়ের খবর আমাদের কাছে আছে। তাই একটু সচেতন থাকা ভালো।

যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষের প্রত্যাশা ছিলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখবো এবং বিচারের রায় কার্যকর করবো। বিএনপি নেত্রীর যত রাগ ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার ওপর মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, এখন কীসের হরতাল-অবরোধ। এখন ‘ও লেভেল’, ‘এ লেভেল’র পরীক্ষা চলছে। তাদের সব আন্দোলনেই শিশুরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রী তার ছেলেদের পড়াশোনা করাতে সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কেমন শিক্ষিত করেছেন তা দেশের মানুষ জানে।

সংবাদ মাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের উচিত গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রেখে কাজ করা। অবশ্য কিছু কিছু মিডিয়ায় ‘অগণতান্ত্রিক’দের কদর বাড়ে। প্রাইভেট চ্যানেলগুলোতো আমাদেরই দেওয়া। এ কথাটা বেশি না বলতে গেলেই ভালো। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেউ প্রাইভেট চ্যানেল দেওয়ার সাহসই পাননি। ১৯৯৬ সালে আমিই দিয়েছি। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। মানুষের কর্মসংস্থানটা কীভাবে বাড়ে সে চিন্তাটা আমি করেছি।

সংবাদ মাধ্যমকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মিডিয়াগুলোকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। তারা এমন অনেক কাজ করেছে যেটা আমাদের সহযোগিতা করেছে। আবার অনেক কাজ করেছে যেটা সন্ত্রাসে সহায়তা করেছে। আগুনের ছবি দেখিয়েছে। অনেকে আবার দিয়াশলাই দিয়েছে। সবারই দেশের প্রতি একটা দায়িত্ব আছে। সবারই একটু দৃষ্টি দিতে হবে, যেন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

বিএনপিকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। বিএনপি ২০০১ সালে প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। সাধারণ মানুষসহ আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করেছে। এখনো তাদের অভ্যাস বদলায়নি। এখন আবার তারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করছে। তিনি বলেন, যেখানে যেখানে হামলা হচ্ছে, সেখানে ব্যাপক অভিযান চালানো হবে। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে এবং প্রাকৃতিক বৈরি পরিবেশেও মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026