বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:২৩

নতুন মন্ত্রিসভায়ও চার জন সিলেটে ক্ষোভ ও হতাশা

নতুন মন্ত্রিসভায়ও চার জন সিলেটে ক্ষোভ ও হতাশা

ওয়েছ খছরু |

চারের বৃত্তে বন্দি সিলেট। পুরাতন দু’জন বাদ। ঢুকলেন নতুন দু’জন। সংখ্যা বাড়লো না। এ নিয়ে সিলেটে আনন্দের পাশাপাশি আছে বেদনাও। বাদপড়া দুই মন্ত্রীর অনুসারীরা হতাশ। তারা ক্ষুব্ধও। অন্যদিকে নতুন দু’জনের অনুসারী উদ্বেলিত। ২০০৮ সালে সরকার গঠনকালে সিলেটবাসী প্রথমে তিন জন মন্ত্রী পেয়েছিলেন। এরপর নয়া মন্ত্রণালয় গঠন করে মন্ত্রী করা হয় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে।

এর আগে মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে এনামুল হক মোস্তফা শহীদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই পাঁচ বছর চার মন্ত্রী সিলেটে উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। পাশাপাশি বিতর্কও কুড়িয়েছেন অনেক। সিলেট-১ আসনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নিয়ে বিতর্কের অন্ত ছিল না। নিজ দলের ভেতরে অর্থমন্ত্রীকে নিয়েই বিতর্ক ছিল বেশি। আর বিতর্কের মূলে ছিল সিলেটের উন্নয়ন। উন্নয়ন নিয়ে সাবেক মেয়র কামরানের সঙ্গে কিছুটা মানসিক দ্বন্দ্বেও পড়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। পাঁচ বছর শেষে অর্থমন্ত্রী সিলেটে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন দেখাতে পারেননি।

তবে, তার প্রচেষ্টায় সিলেটের বাদাঘাটে নতুন কারাগার স্থাপন ও সুরমার উপর স্থাপিত কাজির বাজার সেতুর কাজ এখনও চলছে। বিভাগীয় স্টেডিয়ামের ৮৭ কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে কয়েক দিন আগে। এবার সিলেট-১ আসনে একক প্রার্থী ছিলেন অর্থমন্ত্রী। এ জন্য এই আসনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। এ কারণে অর্থমন্ত্রী হতে পারেননি ভোটারের মুখোমুখি। আগামী ৫ বছরের উন্নয়নের কোন প্রতিশ্রুতি পাননি সিলেটবাসী। ফলে অর্থমন্ত্রীর কোন জবাবদিহিও নেই। এবারের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী থাকলেও তাকে ঘিরে সিলেটের মানুষের মধ্যে কোন উৎসাহ নেই। তার মন্ত্রী হওয়া না হওয়া নিয়েও গতকাল পর্যন্ত সিলেটে দল থেকে কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকেও এবার জনগণের মুখোমুখি হতে হয়নি। তিনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে নতুন করে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবে, তিনি নিজ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। সময় পেলেই এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। অর্থমন্ত্রীর মতো শিক্ষামন্ত্রীরও আগামী দিনের কোন অঙ্গীকার পাওয়া যায়নি। গত পাঁচ বছরে গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা নদীতে কোন ব্রিজ নির্মাণ করতে পারেননি তিনি। বিগত সরকার কাজ শুরু করলেও এ কাজের সমাপ্তি ঘটাতে পারেননি। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে এলাকায় তেমন কোন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। তবে, দুই মন্ত্রী স্বচ্ছ ধারার রাজনীতিবিদ হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে প্রশংসিত। বিগত সরকারে থাকা রেলপথ মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিতর্ক নিয়েই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন।

এরপর প্রায় দেড় বছর তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে। এবার তিনি বিনা বাধায় নির্বাচনী বৈতরণী টপকে গেলেও মন্ত্রী হতে পারলেন না। এনামুল হক মোস্তফা শহীদের মন্ত্রণালয়ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেনি। এ কারণে গত পাঁচ বছরে তিনিও হয়েছেন বিতর্কিত। এই দু’জনকে বাদ দিয়ে নতুন করে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মৌলভীবাজার থেকে সৈয়দ মহসীন আলী ও সুনামগঞ্জ থেকে সাবেক সচিব এমএ মান্নানকে। এর মধ্যে সৈয়দ মহসিন আলীকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী ও এমএ মান্নানকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। তারা দু’জন নতুন করে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নিজ নিজ আসনে অনুসারীরা আনন্দিত। তারা আনন্দ উল্লাস করছেন। তবে, এবার শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে জোর লবিং চালিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু অনেক দূর এগিয়েও পিছিয়ে গেলেন তারা।

এর মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তে আসন ছেড়ে দেয়া সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী এবার প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী হতে পারেন এমন গুঞ্জন ছিল। শফিকুর রহমান চৌধুরী ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে ২০১৩ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি মাঠে ছিলেন। কিন্তু মহাজোটের ঐক্য ঠেকিয়ে রাখতে শফিকুর রহমান চৌধুরী তার আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেন এবং নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অনড় অবস্থানে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তার কারণে ১৮ দলবিহীন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অধিকতর নবীন প্রার্থী ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়াও বিজয়ী হন সংসদ নির্বাচনে।

কিন্তু সব কথা রাখলেও পুরস্কার জুটলো না শফিকুর রহমান চৌধুরীর কপালে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েই তাকে এ মুহূর্তে থাকতে হচ্ছে রাজনীতিতে। তাকে প্রতিমন্ত্রী না করায় সিলেট-২ আসনে তার সমর্থকরাও হতাশ হয়ে পড়েছেন। এবার শেখ হাসিনার ডাকের অপেক্ষায় ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। কিন্তু নির্বাচন কিংবা নতুন মন্ত্রিসভায় তার ডাক পড়েনি। ফলে আপাতত দল নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে কামরানকে।

এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়াও লবিং চালিয়েছিলেন। কিন্তু তারাও ডাক পাননি প্রধানমন্ত্রীর। আওয়ামী লীগ থেকে না পেলেও নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেট বিভাগে জাতীয় পার্টি থেকে কেউ স্থান পাননি। ফলে পুরাতন দুই ও নতুন দুই জনকে নিয়েই আপাতত সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে সিলেটবাসীকে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026