শীর্ষবিন্দু নিউজ: ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত হামলার নিরপেক্ষ তদন্তে অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করার দাবি জানিয়েছে ফোরাম। আজ শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোট সাতটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘুদের বর্ণনা এবং বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের আলোকে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এই সুপারিশমালা তৈরি করে বলে জানানো হয়। ফোরাম মনে করে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সংখ্যালঘুদের হারানো নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৯ মার্চ ঢাকায় সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের চেয়ারম্যান এ কে খন্দকার বলেন, ৫ জানুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে অনেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অত্যাচারিত হয়েছে। তাদের ভোট গণনা ঠিকভাবে হয়নি। ভবিষ্যতে উপজেলা নির্বাচনে সরকারের কাছে আবেদন জানাব, যেখানে বিশেষ সংখ্যালঘু থাকে, সেখানে আলাদাভাবে ভোট গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য আলাদা লোক ব্যাপৃত থাকবে। তাঁরা শুধু সংখ্যালঘুদের ভোট গণনা করবেন।
ফোরামের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান কে এম সফিউল্লাহ বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম বাঙালি হয়ে, এ কথাটি মনে রাখতে হবে। সংখ্যালঘু, এ কথা যেন আমাদের মুখ দিয়ে না বের হয়। আমরা সবাই বাঙালি। বাঙালিদের মধ্যে কিছু গোষ্ঠী নির্যাতিত। সেই নির্যাতিত গোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য সরকারকে কার্যক্রম নিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সেটা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ যেই অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই বাংলাদেশ আমরা দেখব না।
ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক কেয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধসহ সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরেন ফোরামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুন হাবিব। অন্যদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান আবু ওসমান চৌধুরী ও সি আর দত্ত বক্তব্য দেন।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—যেহেতু দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী প্রবল নিরাপত্তা এবং আস্থাহীনতায় ভুগছে, কাজেই তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে; আক্রান্ত প্রতিটি পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করতে হবে; যে সব স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সাম্প্রদায়িক হামলা রোধে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে; সন্ত্রাসী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডে মসজিদের মাইকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে; এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে প্রভৃতি।