শীর্ষবিন্দু নিউজ: সিলেট নগরীর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ৪ কোটি টাকা দাবি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। ব্যাংকের কাছে মেয়রের অর্থ দাবির এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই অর্থ দাবির বিষয়টি কেউ কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে তুলনা করছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ১৯ ফেব্রুয়ারি এসসিসি/-৯/২৫৬/১১/২২৮/৫০ নং স্মারকে সিলেটে অবস্থিত প্রাইভেট ব্যাংকের ৪০ টি শাখায় চাহিদাপত্র লেখেন। চাহিদাপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমবারের মতো সিলেটে আন্তর্জাতিক আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ সুন্দর ও সফল করার উপলক্ষে সিলেট মহানগরকে অধিকতর সৌন্দর্য বর্ধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৮ ফেব্রুয়ারি নগর ভবনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও সিলেটে কর্মরত সকল ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আলোচনায় ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পে প্রত্যেক ব্যাংককে ১০ লাখ টাকা হারে অনুদান প্রদানের মত ব্যক্ত করা হয় ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই অবস্থায় টি-২০ বিশ্বকাপ সফল করে তুলতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে সিটি করপোরেশনের পাশে থাকবে এবং ব্যাংকের বিজ্ঞাপন বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের খেলা প্রদর্শনের সময় মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপিত মনিটরে প্রদর্শন করা হবে।
এ ব্যাপারে জানতে সিলেট বিভাগীয় ক্রিড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টি-২০ ক্রিকেট বিষয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর করার কিছু নেই। নগর কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের। নগরভবন কর্তৃপক্ষ যদি নিজ ইচ্ছায় কোনো কিছু করেন তা ভিন্ন বিষয়। তবে, সরকারের তরফ থেকে নগর ভবন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে টি-২০ চলার সময় নগরীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার। সিলেট জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি প্রকৌশলী এজাজুল হক বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে যা বুঝায় তা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। টি-২০ ক্রিকেট পরিচালনার বিষয়টি সরকারের। কোথায় কী করতে হবে সেই সিদ্ধান্ত সরকারই নেবেন।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী চিঠি লেখার বিষয় স্বীকার করে বলেন, টি-২০ ক্রিকেট উপলক্ষে তিনি ব্যাংকগুলোর কাছে টাকা চেয়েছেন নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন করতে। সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল থেকে ব্যাংক ওই ধরনের অনুদান দিতে পারে। তবে, ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই চাহিদাপত্র লেখার পর এখনো কোনো ধরনের সাড়া পাননি বলে জানান মেয়র আরিফুল হক। টি-২০ ক্রিকেটের সঙ্গে নগর ভবন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র আরিফ বলেন, আমি ঝাড়ুদার, আমি পরিচ্ছন্ন কর্মী। টি-২০ ক্রিকেটকে সামনে রেখে নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন করা আমার দায়িত্ব। এই জন্য আমি ব্যাংকগুলোর কাছে পত্র লিখেছি সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার জন্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার মহা ব্যবস্থাপক মোবারক হোসেন বলেন, সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত টি-২০ ক্রিকেট তদারকিও করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সিলেট সিটির মেয়র নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে টাকা চেয়ে চিঠি লিখেছেন। বৈঠকও করেছেন। টাকা দেওয়ার বিষয়টি হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের। তবে এ পর্যন্ত কোনো ব্যাংকই সিলেট সিটি করপোরেশনকে টাকা দেননি বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা।
তবে সিলেটের সচেতন মহল মনে করেন, যেহেতু মেয়র আরিফ সিলেট নগরীর কর্ণধার সেহেতু টি-২০ ক্রিকেটকে সামনে রেখে তিনি নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য অনুদান চাইতেই পারেন। মেয়র মহোদয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে অনুদান দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। এটাকে চাঁদাবাজির সাথে তুলনা করা দূরভিসন্ধিমূলক। ব্যাংকগুলোরও উচিৎ নগরপিতার ডাকে সাড়া দেয়া।