শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দিনের মতো ভারতে সফরে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক। সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার তিনি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সুজাতা সিং বলেছেন, ২০১০ সালের যৌথ ইশতেহার ও ২০১১ সালের যৌথ বিবৃতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। গত পাঁচ বছরে দু দেশের সম্পর্ক খুবই ইতিবাচক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশি সচিব। ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ভেড়ামারা-বাহরামপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ত্রিপুরার পালাতানায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অতিরিক্ত সরঞ্জামাদি দ্রুত সরবরাহের ওপর জোর দেন দুই সচিব।
নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থা নিয়ে দু দেশের উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সচিবদ্বয়। সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা কমানোর বিষয়ে ভারতের কড়া অবস্থানের প্রশংসা করেন শহিদুল হক। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, ভারতের এমন অবস্থানে সীমান্তে হত্যা শূন্যে নেমে আসবে। শহিদুলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, অব্যাহত প্রচেষ্টায় হত্যাসংখ্যা কমেছে। তিনি বলেছেন, সীমান্তে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও সেটি দুঃখজনক। সীমান্তে হত্যার সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে ভারতের সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারত শিগগিরই তিস্তা পানি চুক্তিতে সই করবে আশাব্যক্ত করেন বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বাংলাদেশ তিস্তার পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছে, তিস্তা পানি চুক্তি সই করতে দেশীয়ভাবে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তারা। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। কারিগরী দলকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনের জন্য ভারতের রাজ্যসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল উত্থাপন করার বিষয়টির প্রশংসা করেন বাংলাদেশি সচিব।
বিকেলে ভারতের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন শহিদুল হক। বৈঠকে দু দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সেদিক নিয়েও আলোচনা করেন দুই সচিব। এছাড়াও ভারতের পররাষ্ট্র সম্পর্ক ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।