শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের জন্য তা বিপর্যয়কর হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটিতে জন্ম নেয়া বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় লেখক, চিত্রকর ও আইনজীবীরা। এ বিষয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের এই খোলা চিঠি দ্য গার্ডিয়ান সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে এনডিটিভি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করেই বলা যায়, ২০০২ সালে গুজরাটে সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনার সময় মোদি সরকার যে ভূমিকা রেখেছিল তা স্মরণ করা জরুরি। এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্যরা হলেন লেখক সালমান রুশদি, ভাস্কর আনিশ কাপুর ও চলচ্চিত্রনির্মাতা দীপা মেহতা।
বিজেপি’র উপনেতা রবিশঙ্কর প্রাসাদ বলেছেন, এই মন্তব্যগুলো পূর্বধারণা প্রসূত, বিদ্বেষপূর্ণ। বেশ ক’বছর ধরেই এদের মধ্যে কয়েকজন মোদির বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করে বিকৃত আনন্দ পেয়ে আসছেন। অনেক বছর ধরে এদের বিরুদ্ধতা সত্বেও বিজেপি বড় দলে পরিণত হয়েছে, আর তাদের সমর্থন সত্বেও বামেরা ডুবে গেছে। এর কারণ ভারত যেসব দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তা থেকে মোদি ও বিজেপি তাদের রক্ষা করতে পারবে বলে ভারতবাসী বিশ্বাস করে।
গার্ডিয়ানে প্রকাশিত চিঠিটির শিরোনাম করা হয়, মোদি নির্বাচিত হলে, ভারতে দুর্ভোগ নেমে আসবে। চিঠিটিতে স্বাক্ষর করা অন্যান্যদের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হোমি কে ভাবা, শিল্পী দয়ানিত সিং ও ভিভিয়ান সুন্দরম, শিল্পের ইতিহাসকার গীতা কাপুর এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য মাইক উড ও ফিয়োনা ম্যাকটাগ্গার্ট।
চিঠিতে বলা হয়, যদিও নরেন্দ্র মোদি সরকারের কয়েকজন সদস্য বর্তমানে বিচারাধীন আছেন, ওই ঘটনার কোনো দায়িত্ব নিতে বা ওই বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বারবার অস্বীকার করেছেন মোদি। নৈতিক চরিত্র ও রাজনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে মোদির এই ব্যর্থতা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই সংবিধান বহুমত ও পথের ভিত্তিতে এবং সংখ্যালঘুদের স্বচ্ছ ও পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব দেয়ার আশ্বাসে রচিত হয়েছিল।
এই ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে, দেশের সকল মানুষ ও সব সম্প্রদায়কে সুরক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়া দেশ হিসেবে ভারত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
অন্যতম স্বাক্ষরকারী লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক চেতন ভাট বলেছেন, আধুনিক রাষ্ট্র ভারত যে উদার গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত তা মোদির অপরের প্রতি নিষ্ঠুর অশ্রদ্ধা, স্বৈরাচারী ও বিপজ্জনক দৃষ্টিভঙ্গীর ঠিক বিপরীত। এই খোলা চিঠির বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা।