মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২

সরকারের গুড বুক থেকে মিজারুল কায়েসের বিদায়

সরকারের গুড বুক থেকে মিজারুল কায়েসের বিদায়

জেসমিন পাপড়ি: সরকারের এক সময়কার আস্থাভাজন পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েসকে এবার গুড বুক থেকে বিদায় দিল সরকারই। এর ফল হিসেবে তাকে লন্ডনের হাইকমিশনার পদ থেকে সরিয়ে নতুন এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মিশন ব্রাজিলে পাঠানো হচ্ছে। গত সরকারের আমলে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালনকারী কায়েসকে লন্ডনের বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো।

নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণেই তার প্রতি সরকারের অনাস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছে একাধিক ক‍ূটনৈতিক সূত্র। ব্রিটেনে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেননি বলেও অভিযোগ আছে। কথিত আছে, বিশেষ করে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বৃটিশ সরকারকে বোঝাতে সক্ষম না হওয়ায় তার উপর তুষ্ট নয় সরকার। মিশনের কাজের চেয়ে তিনি নিজের সাহিত্যচর্চা আর ব্যক্তিগত কাজেই ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ আছে।

দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গেও তার সম্পর্ক ভালো নয়। শুধু তাই-ই নয়, সচিব থাকা অবস্থায় মন্ত্রণালয়ে তার করা দুর্নীতির খবরে মিজারুল কায়েসের প্রতি রুষ্ট হয় সরকার। অভিযোগ আছে, নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের পদোন্নতিসহ নানা অনিয়মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভারী করে তোলেন সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব। দূতাবাসগুলোর নামে চিত্রকর্ম কেনা তার অন্যতম দুর্নীতি। অভিযোগ আছে, এ কাজ করেই তিনি কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। বিদেশ সফরে গিয়ে সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন থেকেও তিনি হিসাব ছাড়াই টাকা নিয়েছেন। এখানেই শেষ নয় তার দুর্নীতি।

এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি মালদ্বীপের হাইকমিশনার ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পান। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, মালদ্বীপে রাষ্ট্রদূত থেকে রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলি হওয়ার সময় মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা এবং ২০০৯ সালের জুলাইয়ে রাশিয়া থেকে পররাষ্ট্র সচিবের পদোন্নতি পেয়ে দেশে ফেরার সময় আরও ৫০ লাখ টাকা অগ্রিম নেন মিজারুল কায়েস। ওই এক কোটি টাকার বিষয়ে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অডিট আপত্তি তোলা হয়। সেই টাকার কোনো হিসাব না দিয়েই তিনি লন্ডন হাইকমিশনে যোগ দেন। সে হিসেব আজো দেননি মিজারুল কায়েস।

এদিকে সংস্কৃতিপ্রেমী কায়েস পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের বিভিন্ন চিত্রশিল্পীর চিত্রকর্ম সংগ্রহ করে মিশনগুলোতে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। এ লক্ষে তিনি প্রায় ৫ কোটিরও অধিক টাকা খরচ করে চিত্রকর্ম কেনেন। যার বেশিরভাগই এখনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি কক্ষে অবহেলা, অযত্নে পড়ে আছে। মন্ত্রণালয়ের এনএক্স ভবনের দ্বিতীয় তলা ও আনক্লস ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুটি কক্ষে এসব চিত্রকর্ম পড়ে থাকতে থাকতে নষ্টই হয়ে যাচ্ছে। মূলত এসব কারণেই মিজারুল কায়েসের উপর বিরক্ত হয়ে সরকার তাকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মিশনে পাঠাচ্ছে।তবে শুধু মিজারুল কায়েসই নয়, রদবদল ঘটছে বিদেশের আরো অনেক বাংলাদেশ মিশনেও। নতুন সরকার বিতর্কিত রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সরিয়ে সেসব স্থানে পরিচ্ছন্ন ইমেজধারীদের নিয়োগ দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারীদেরও আর চুক্তি বাড়ছে না। ফিরিয়ে আনা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায় দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রদূত লে.জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের দায়িত্বে থাকা তারিক এ করিম এবং ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে থাকা আকরামুল কাদেরকে।

তবে এবারও থাকছে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ। মিজারুল কায়েসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন নতুন সরকারের আস্থাভাজন রাষ্ট্রদূত আবুল হান্নান।দিল্লিতে তারিক এ করিমের স্থলে নিয়োগ পাচ্ছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী। ২০০৯ সাল থেকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে থাকা আকরামুল কাদেরের স্থলে যাচ্ছেন অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ এম. জিয়াউদ্দিন। তিনি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পাবেন। ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনকারী শামীম আহসান জেনেভায় স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হচ্ছে থাইল্যান্ডে কর্মরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেনকে। তার স্থলে ব্যাংকক মিশনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম সফল কূটনীতিক সাঈদা মুনা তাসনিম। এছাড়া মিয়ানমারসহ আরো কয়েকটি দেশের বাংলাদেশ মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ রদবদল আসছে বলে জানা গেছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026