ইমরান আহমেদ: বাংলাদেশের ঐতিহ্যে মিশে আছে পান। গ্রামের মাটির ঘর থেকে শহরের অট্টালিকায় শোভা পায় পান-সুপারি। বিয়ে থেকে শুরু করে সব উৎসবে মেহমানদের শেষ আপ্যায়ন হিসেবে রাখা হয় পান-সুপারির ব্যবস্থা।
সারা বছর স্থিতি পণ্যের বাজারের মধ্যে পান বাজার অন্যতম। সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর পাশেই অবস্থিত রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পানের বাজার। এখানে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার পান কেনাবেচা হয়। তবে বিগত বছরের তুলনায় দেশের সামগ্রিক পান উৎপাদন কমে গেছে। আর এজন্য ভারত থেকে পান আমদানি করাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের উড়িষ্যা,মেদিনিপুর থেকে প্রচুর পরিমানে নিম্নমানের পান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ সব পানের দাম অনেক কম। আর এ কম দামের পানের সঙ্গে তাল মিলাতে না পেরে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে দেশি চাষিরা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পান বাজারে ৬২টি আড়ৎ নিয়মিত পান আমদানি ও বিক্রয় করে। এ সব আড়তে চালতা, চেরফুলি,মিঠা, চালতা, বাংলা, ঝাল, ভাবনা, রংপুরীসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫ ধরনের পান বিক্রি হয়। বিভিন্ন আকৃতির পানের বিভিন্ন দাম।
এক বিরা বা ৮০টি দেশীয় পানের দাম ৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে উঠানামা করে। কিন্তু ভারতীয় এক বিরা পানের দাম ১০ টাকা থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠানামা করে। দাম কম হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের ভারতীয় পানের প্রতি আগ্রহ বেশি। বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, খুলনা, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, মহেশখালী, চট্রগ্রাম, রংপুর, যশোর থেকে নদী এবং স্থল উভয় পথে পান আসে ঢাকায়। তবে নদী পথে লঞ্চ যোগে আসে বেশী। একসঙ্গে বেশী পান আসায় নদী পথকে বেশী গুরুত্ব দেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, সারা বছর বাজারে পান থাকলেও শীত মৌসুমে দাম কিছুটা বেড়ে যায়। তবে দেশীয় সুপারিই চাহিদা মেটাচ্ছে ক্রেতাদের। টেকনাফ, রংপুর, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ২শ’ থেকে আড়াইশ’ বস্তা সুপারি আসে এখানে।
প্রতি বস্তা সুপারি বিক্রয় হয় ৮ হাজার টাকার মধ্যে। প্রতি বস্তায় ২২শ’ থেকে ২৫শ’ সুপারি থাকে। পান-সুপারির ব্যবসায়ী লাইসুজ্জামান দিপু বলেন, দেশীয় সুপারিই দেশের চাহিদা পূরণ করছে। আজমেরী পান ভান্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী মো: রাশেদ আলম বলেন, দুই বছর আগে যশোর, খুলনা এলাকায় অনেক বেশী পান উৎপাদন হত। তবে ভারতীয় পান আসায় এবং সঠিক রক্ষাণাবেক্ষণের কারণে উৎপাদন অনেক কমে গেছে।
পান বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ভারতীয় পান আমদানি হওয়ায় দেশীয় চাষিরা অন্য পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করছে । এছাড়া শ্রমিকরা শহরমুখী হওয়ায় পান চাষ কিছুটা কমেছে। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং গুদামজাতকরণের অভাবেও দেশীয় পান উৎপাদন কমেছে বলে তিনি জানান। পান নিয়ে ঢাকায় আসার আগে পান বাজার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাষিদের পরামর্শ দেন তিনি।