মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৭

পাকিস্তানের সাংবাদিক হামিদ মীর গুলিবিদ্ধ

পাকিস্তানের সাংবাদিক হামিদ মীর গুলিবিদ্ধ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জিও টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক ও জনপ্রিয় উপস্থাপক হামিদ মীর অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দেশটির বন্দর নগরী করাচির ফয়সাল সেনানিবাসের ‍নাথা খান ব্রিগেডের কাছে শরয়ী ফয়সাল এলাকায় তার ওপর এ হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, গাড়ি লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানো হলে হামিদ মীরের শরীরে তিনটি গুলি লাগে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি করানোর পর কিছুক্ষণ অচেতন থাকলেও এ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এখন আশঙ্কামুক্ত এবং তার হুঁশ ফিরেছে বলে জানান চিকিৎসকরা।

জিও নিউজের সাংবাদিক আফজল ‍নাদিম দোগার জানান, এয়ারপোর্ট থেকে নিজের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় একটি সামরিক এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে হামিদ মীরের গাড়ি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, পুলিশ স্টেশন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের এলাকায় দু’টি মোটর সাইকেলে চড়ে হামিদ মীরের ওপর গুলি ছোঁড়া হয়।

করাচি পুলিশের প্রধান শহীদ হায়াৎ জানান, তাকে তিন বার গুলি করা হয়েছে, একটি তার পেটে লাগে, অপর দু’টি গুলি পা ও শ্রোণি-চক্রে (পেলভিক এরিয়া) আঘাত করে। জিও নিউজের ইসলামাবাদ ব্যুরো প্রধান রানা জাওয়াদ জানান, হামলা চালানোর পরপরই হামিদ মীর তাকে ফোন করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন তার পিছু নিয়ে বারবার গুলি করছিল দুর্বৃত্তরা।

হামিদ মীরের ওপর হামলায় কারা জড়িত ব্যাপারটি এখনও স্পষ্ট না হলেও তার ভাই আমির মীর জিও নিউজকে জানিয়েছেন, হামিদ আগে থেকেই তার পরিবার, প্রতিষ্ঠানের সহকর্মী, সরকার ও সেনাবাহিনীর বন্ধুদের জানিয়ে রেখেছিলেন, তিনি যদি কোনো ধরনের হামলার শিকার হন, তাহলে এজন্য দায়ী থাকবেন দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টিলিজেন্স’র (আইএসআই) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জহিরুল ইসলাম। আমির দাবি করেন, তার ভাইকে হত্যার জন্য এ পরিকল্পনা করেছে আইএসআই ও তার প্রধান।

এর আগে, ২০১২ সালের নভেম্বরে পার্কিংয়ে রেখে কোনো কাজে গেলে হামিদ মীরের গাড়িতে বিস্ফোরক পেতে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে অবশ্য টের পেয়ে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করে নিরাপত্তা বাহিনী। এ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসাইন ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ইমরান খান।

উল্লেখ করা যেতে পারে, হামিদ মীরই একমাত্র সাংবাদিক যিনি নিহত আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের রাতের গণহত্যার ভয়াবহতা সচক্ষে দেখতে একদল শিক্ষার্থী নিয়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন প্রয়াত অধ্যাপক ও সাংবাদিক ওয়ারিস মীর। নির্মমতার চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক ওয়ারিস তা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন দৈনিক জং পত্রিকায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য ওয়ারিসকে সম্প্রতি সম্মাননা জানায় বাংলাদেশ সরকার। সেই ওয়ারিস মীরেরই সন্তান হামিদ মীর।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026