মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩

৪১-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দুঃসহ জীবন

৪১-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দুঃসহ জীবন

মাজেদুল নয়ন: পঞ্চাশোর্ধ বাদশা মিয়ার মুখ রক্তলাল হয়ে আছে। দরদর করে ঘাম ঝড়ছে কপাল বেয়ে। গায়ের শার্ট ঘেমে শরীরের সঙ্গে লেপ্টে আছে। হাতের শিরাগুলো থেকেও যেন ‍বাষ্প বের হচ্ছে। মুখ হাঁ করে যেন দম নিতে চাইছেন বাদশা মিয়া। দুপুরে সূর্য তখন মাথার উপর। বৈশাখের দাবদাহে পরিবেশ যেমন উত্তপ্ত হয়ে আছে, তেমনি মাথার উপর যেন সরাসরি অগ্নি বৃষ্টি ছড়াচ্ছে। কপালে বাঁধা গামছা দিয়ে গলার ঘাম মুছেন তিনি।

ঢাকাতেই চার মেয়ে আর স্ত্রীসহ জগন্নাথ রোডে বাস করেন বাদশা মিয়া। গরম নিয়ে কথা উঠাতেই বলেন, ‘উফ… আর পারি না…শরীর পুইড়া যায়।’ সকাল আটটা থেকে রিকশা চালাচ্ছেন তিনি। দুপুর নাগাদ আয় কেমন হয়েছে? জানতে চাইলে বলেন, গরমে মানুষ বেরই হয় কম। যাত্রী নেই। দেড়শো টাকার কিছু বেশি আয় হইছে। গরমে ভাড়া বাড়ান কিনা জানতে চাইলে বলেন, বৃষ্টিতে ভাড়া বেশি চাওয়‍া যায়, কিন্তু গরমে মানুষ দিতে চায় না।

এদিকে রাস্তায় গরমের ব্যারোমিটারে তাপমাত্রা আরও বাড়ছে। বাড়ছে রোদের তেজ। সেই সঙ্গে চরাচর হয়ে উঠছে আরও অসহনীয়। শহরের রাস্তায় এই গরম অনুভূত হচ্ছে বাড়তি তেজে। আবহাওয়ার বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঢাকার রাস্তা পুড়িয়ে দিচ্ছে সূর্যের তেজ। আর বিশেষজ্ঞ মতে কংক্রিটের রাস্তায় ৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রা নিয়ে সূর্যালোক পড়ে তা থেকে যে রেডিয়েশন ছড়ায় তাতে গরম বেড়ে যায় আর প্রায় ৪ ডিগ্রি।

কি হতে পারে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। গবেষকরা দেখিয়েছেন, এই তাপমাত্রা উঁচু ভবন থেকে সিদ্ধ পানি ছুঁড়ে দিলে তা কারো গায়ে লেগে পুড়িয়ে দেবে না। কারণ এ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হবে খুব সহজেই। এ অবস্থায় গ্রীষ্মের তাপদাহে হাপিয়ে উঠেছে জনজীবন। প্রখর রোদে নগরীতে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে কম। আর গরমকে পুঁজি করে সড়কের পার্শ্বে বসেছে বিভিন্ন ধরনের পাণীয়ের দোকান। এসব পান করছেন খেঁটে খাওয়‍া মানুষেরা।

বৈশাখের দাবদাহকে বিকেলে শান্ত করে দিতে এবার এখনো কালবৈশাখীর ঝড় আসেনি। প্রখর রোদে দিনব্যাপী তপ্ত হতে থাকে ধরার মাটি। এবার প্রকৃতি যেনি একটু বেশি নিষ্ঠুর। রাতেও আসেনা একটু শীতল বাতাস। আবার ভোরে সূর্যের প্রথম আলোর রেখা থেকেই শুরু হয় আগুন ছড়ানো। সে আগুনে জানের পানিও যেন শুকিয়ে যায় প্রাণীকূলের। দৈহিক শ্রমজীবি মানুষগুলোর যেন বেশি কষ্ট এই গরমে। মুটে মজুর আর রিকশাওয়ালাদের পেশীর মোচঁড়ে বেরিয়ে আসে ঘাম। আগুনের হলকার মতো বাতাস খিটমিটিয়ে তোলে মনকে।

কিন্তু কতদিন চলবে এই অসহনীয় গরম? সে প্রশ্নে আবহাওয়া বিশ্লেষণ বলছে আগামীকাল সোমবারটিও ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পুড়বে দেশ। কিন্তু মঙ্গলবার নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙবে তাপমাত্রা। এইদিন ধরাধামে সূর্য তার তেজ বিকিরণ ঘটাবে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পরের দিনেও একই তাপমাত্রা বিরাচ করবে।

শ্রমজীবী মানুষের উৎসবের দিন পহেলা মেতে ঢাকার তাপমাত্রা আবার ৪১ ডিগ্রিতে। সেদিন লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ তাদের লাল পতাকা হাতে রাস্তায় নামবে, সে লালকে আরও তীব্র করে তুলবে প্রচণ্ড সূর্যতাপ। এরপর ২ মে থেকে তিন দিন ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, ৫ এপ্রিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং ৬ এপ্রিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসবে সূর্যতাপ। আর। সেদিন সুর্য ঢাকা পড়বে মেঘে। পরে দিন ৭ এপ্রিল ফের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফিরে যাবে। তবে পরের দিন দেশবাসী দেখতে পারে বৈশাখের প্রথম কালবৈশাখী। এই দিন দুইদফা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া বিশ্লেষণ। আর এই দিন তাপমাত্রাও নেমে আসবে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

এরপর ৩১ মে পর্যন্ত গোটা মাসে তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। তবে গোটা মাস জুড়েই থাকবে ঝড়-বৃষ্টির খেলা। আবহাওয়া বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে গোটা মে মাসের অন্তত ২০ দিনই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026