সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:১২

তৃতীয়বার সরকার গঠনে চেষ্টা চালাবে কংগ্রেস

তৃতীয়বার সরকার গঠনে চেষ্টা চালাবে কংগ্রেস

পরিতোষ পাল:

ভারত জুড়ে মোদি  ঝড়ের কথা বিজেপির নেতারা প্রচার করলেও কংগ্রেস সেই প্রচারে একমত হতে রাজি নয়। বরং কংগ্রেসের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা দাবি করছেন যে, মোদি হাওয়া বলে কিছু নেই। কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হবে।

কংগ্রেসের অনেক নেতাই মনে করছেন, নির্বাচনের পর ভারতে কংগ্রেসই তৃতীয় ইউপিএ সরকার গঠন করবে। কংগ্রেস মুখপাত্র অজয় মাকেন তৃতীয় ফ্রন্টের সাহায্য নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছেন। অথচ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব দাবি করেছেন, ভারতে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে পরবর্তী সরকার গঠন করবে তৃতীয ফ্রন্টই। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের যে হালচাল বোঝা যাচ্ছে তাতে বিজেপির পক্ষে ২৭২-এর ম্যাজিক নাম্বারে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এই চাপান উতোরের মধ্যে কংগ্রেসের কোর গ্রুপের অনেকে বলতে শুরু করেছেন, কংগ্রেস এবার সরকার গঠনের জন্য নতুন শরিকের সন্ধান করবে। সরকারের স্থায়িত্বের দিকে লক্ষ্য রেখেই নাকি কংগ্রেসের এই ভাবনা।

১৯৯০-৯১ ও ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতির কথা মনে করেই কংগ্রেসের মধ্যে এই নতুন ভাবনা মাথাচাড়া দিয়েছে। এই দু’বারই কংগ্রেস বাইরে থেকে সমর্থন দিয়েছিল চন্দ্রশেখর, এইচ ডি দেবেগৌড়া ও আইকে গুজরাল সরকারকে। কিন্তু কোন সরকারই পূর্ণ সময়কাল সরকার চালাতে পারেনি। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার নিরিখে এবার কংগ্রেস ইউপিএ-র নতুন জোটসঙ্গী খোঁজার চেষ্টা চালাবে। কংগ্রেস নেতাদের এই ভাবনার পেছনে রয়েছে জনমত জরিপের চেয়ে অনেক বেশি আসন পাবার সম্ভাবনা।

কংগ্রেস একশ’র বেশি আসন পাবে না বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত দেয়া হলেও কংগ্রেসের ভোট ম্যানেজাররা মনে করছেন, কংগ্রেস ১২০ টি আসনের বেশি আসন পাবে। আর ইউপিএ-র সঙ্গীদের আসন যোগ করলে সংখ্যাটা অনেকটাই বেড়ে যাবে। অবশ্য এবারের নির্বাচনে  ইউপিএ’র জোট সঙ্গীর সংখ্যা এমনিতেই অনেক কমে গিয়েছে। তামিলনাডুতে ডিএমকে ইউপিএ ছেড়ে বেরিয়ে এসে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিহারে লালু প্রসাদের আরজেডির সঙ্গে জোট হলেও রামবিলাস পাসোয়ান জোট ছেড়ে বিজেপির জোটে নাম লিখিয়েছে।

অন্যদিকে ইউপিএ-কে বাইরে থেকে সমর্থন দিলেও মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি এবং মুলায়ম সিংয়ের সমাজবাদী পার্টি এককভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে সামিল হয়েছে। তাই নির্বাচনী ফল প্রকাশের পরে আঞ্চলিক দলগুলির ফল দেখেই কংগ্রেস নতুন সঙ্গীর খোঁজ করবে। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য সঙ্গী হতে পারে তামিলনাডুর জয়ললিতা, পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ওড়িশার নবীন পট্টনায়েক ও বিহারের সংযুক্ত জনতা দল।

এদের মধ্যে ভাল ফল করবে মনে করে  প্রধানমন্ত্রী হবার জন্য মনে মনে আশা পোষণ করছেন অনেকে। জয়ললিতা প্রকাশ্যেই প্রধানমন্ত্রী হবার ইচ্ছের কথা বলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ললিতার সেই ইচ্ছে পূর্ণ করতে সমর্র্থন দেবে বলে আগেভাগেই আম্মাকে জানিয়ে দিয়েছে। মমতা নিজে প্রধানমন্ত্রী হবার ব্যাপারে স্পষ্ট কোন ইঙ্গিত না দিলেও তিনি যেভাবে কংগ্রেস কিরোধিতায় সুর চড়িয়েছেন তাতে তিনি কংগ্রেসের জোয়ালে মাথা গলাবেন কিনা সে ব্যাপারে সংশয় রয়েছে। আবার দলিতদের বেটি মায়াবতীও প্রধানমন্ত্রী হতে চান। তিনি উত্তর প্রবেশের এক জনসভায় বলেছেন, দলিতরা একটু বুদ্ধি করে ভোট দিলে বহুজন সমাজ পার্টি সরকার গঠনে প্রধান  ভূমিকা নেবে। প্রধানমন্ত্রী হবার ইচ্ছে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো মুলায়ম সিং যাদব আনেক দিন ধরেই পোষণ করছেন। আবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশকুমারও প্রধানমন্ত্রী হবার মৃদু আশা বুকে লালন করে চলেছেন।

তবে বিহারে সংযুক্ত জনতা দলকে বিজেপি ল্যাজেগোবরে করবে বলেই জনমত জরিফে আভাস দেয়া হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী হবার আশা নিয়ে এতজন যেখানে বুক বেঁধে রয়েছেন সেখানে কংগ্রেসের আকর্ষণে কোন দল সেদিকে যাবে সেটাই বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে বিজেপিতেও জোট সঙ্গী খোঁজার জন্য আগেভাগেই কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীকে ঠিক করে রাখা হয়েছে। নরেন্দ্র মোদীকে ঘিরে হাওয়া যদি শেষ পর্যন্ত বিজেপিকে ম্যাজিক নাম্বারে নিয়ে যেতে না পারে তাহলেই নতুন জোট সঙ্গীর প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে এমন অনেক দল রয়েছে যারা বিজেপির জোটে নাম লেখাতে রাজি হলেও মোদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মানবে না।

তাই সরকার গড়ার প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তে সেই লৌহপুরুষের কাছে গিয়ে নেতৃত্ব দেবার আবেদন করার সম্ভাবনা প্রবল বলে একদল রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন। তবে সঙ্ঘ পরিবারের নেতারা তাদের এক সময়ের প্রচারকের পেছন থেকে সরে আসবে সেটা ভাবারও কোন কারণ নেই বলে অনেকে মনে করছেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026