সুমন আহমেদ: নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে অবশেষে বৃটেনের বাংলাদেশীদের মূল প্রাণকেন্দ্র টাওয়ার হ্যামলেটসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হলেন লুৎফুর রহমান। আর এর ফলে বৃটেনে বাংলাদেশীদের জয়ের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটেনে বাঙ্গালীর বিজয় হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষে শুক্রবার লন্ডন স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট গনণা শেষ হয় রাত দেড়টায়। নির্বাচনে সর্বমোট ভোট ৮৬ হাজার ৪ শত ২ ভোট টি গ্রহণ হয়। প্রথম ধাপে লুৎফুর রহমান পায় ৩৬ হাজার ৫ শত ৩৯ ভোট, যা মোট ভোটের ৪৩.৩৬%। তবে, নির্বাচনের কোন প্রার্থীই মোট ভোটের ৫১% ভোট না পাওয়া দ্বিতীয় ধাপের ভোট গণণা শুরু হয় শুক্রবার রাত ১১টায়। আর ২য় ধাপেই ৩হাজার ২ শ ৫২ ভোটের ব্যবধানে জয় পুরোপুরি নিশ্চিত করেন লুৎফুর রহমান। তিনি পান ৩৭ হাজার ৩শত ৯৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী লেবার দলীয় জন বিগস পায় ৩৪ হাজার ১ শত ৪৩ ভোট।
টাওয়ার হ্যামলেটস এর মেয়র নির্বাচনে লুৎফুর রহমান পান ৩৭৩৯৫ ভোট, লেবার দলীয় প্রার্থী জন বিগস ৩৪১৪৩ ভোট, কনজারভেটিভ প্রার্থী ক্রিস উইলফোর্ড ৭১৭৩ ভোট, গ্রীণ পার্টির প্রার্থী স্মিথ ক্রীস ৪৬৯৯ ভোট, ট্রেড ইউনিয়নের প্রার্থী পিয়ের হুগো ৮১৭ ভোট, ইউকেআইপি এর প্রার্থী ৪৮৯০ ভোট, লিবডেম এর প্রার্থী রিতেন্দ্র নাথ ১৯৫৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজা আহমেদ ফয়সল চৌধুরী শোয়াইব ২০৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী খোয়াজ আলী ১৬৪ ভোট, হাফিজ আব্দুল কাদির ১৬২ ভোট।
সদ্য পূনরায় নির্বাচিত লুৎফুর রহমান সিলেটের বালাগঞ্জের সিকান্দরপুর গ্রাম থেকে পিতার সঙ্গে মাত্র চার বছর বয়সে বৃটেনে আসেন। তার পিতা সুরুজ মিয়া জীবিকার সন্ধানে ১৯৫৭ সালে বৃটেনে পাড়ি জমান। ১৯৮৫ সালে স্পিটারফিল্ডের প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সদস্য হন লুৎফুর। পরে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯০ সালে হন কিন স্টুডেন্টস সাপ্লিমেন্টারি স্কুলের কোষাধ্যক্ষ। কাজ করেছেন কমিউনিটি অ্যালায়েন্স ফর পুলিশ অ্যাকাউনটিবিলিটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। পাশাপাশি নিযুক্ত হন টাওয়ার হ্যামলেটস ল সেন্টারের চেয়ারম্যান। ২০০২ সাল। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচনে স্পিটারফিল্ড-বাংলাটাউন ওয়ার্ড থেকে লেবার পার্টির সমর্থনে কাউন্সিলর মনোনীত হন লুৎফুর রহমান। পাশাপাশি তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস পৌর কর্তৃপক্ষের শিক্ষাবিষয়ক দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬-এর নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর হন। এবার তাঁকে সংস্কৃতি বিষয়ক দলের নেতা নিয়োগ করা হয়।