নিউজ ডেস্ক: নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসায়িকভাবে আরো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিভাবে অর্জন করা যায় তাই জানাতে ঢাকায় এসেছেন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশসমূহের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশে সবুজ ব্যবসা অর্থাৎ নবায়নযোগ্য বিদ্যুত ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে এর ব্যবহার কৌশল নিয়ে আলোচনা হলো মঙ্গলবার ওয়েস্টিন হোটেলে।
ডেনমার্ক ও সুইডেনের একটি ব্যবসায়িক গ্রুপ নিয়ে গঠিত হয়েছে নরডিক গ্রিনগ্রোথ ডেলিগেশন। নরডিক গ্রিনগ্রোথ ডেলিগেশনের মূল উদ্দেশ্যে নিজেদের দেশে বেসরকারি খাতে টেকসই ব্যবসার প্রবৃদ্ধির কৌশল এবং প্রযুক্তি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মাঝেও ছড়িয়ে দেওয়া। ডেলিগেশনে ২০টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হানে হোগাল স্কেজার। তিনি তার প্রবন্ধে বলেন, গত বছর বাংলাদেশে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে এদেশের আরো এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের ১১টি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে বাংলাদেশকেও বিবেচনা করা হয়। এটি একটি অবিশ্বাস্য অর্জন।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূত এনিয়েল লিন্ডাল কেনি বলেন, বেসরকারি খাতের সঙ্গে জলবায়ু নিয়ে কাজ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই যৌথ ব্যবসায় দু’দেশই উপকৃত হবে। ডেনমার্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর এনেতে সেনেডগার্ড ক্লাস্কজেট অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে। তবে দেশের জন্য এখন নিরাপত্তা, জ্বালানি ও বৈশ্বিক উষ্ণতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নরডিক গ্রিনগ্রোথ সহায়ক হবে। ভৌগলিক কারণেই বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, গ্রিনহাউজের প্রভাবের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয়। কিন্তু এজন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ আমরা। আমাদের মতো দেশগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে এজন্য ক্ষতিপূরণ দিতে উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব নেওয়া উচিত। তবে আমরা এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় বসে নেই। আমরা আমাদের সীমাবদ্ধ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সাধ্যমতো কাজ করছি। ডেনিশ ও সুইডিশ সরকারকে বাংলাদেশ ও নরডিকের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০১৫ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের হার ৫ শতাংশে উন্নীত করা। ২০২০ সালের মধ্যে এর হার ১০ শতাংশে নেওয়া হবে। আমরা এরই মধ্যে ২৮ লাখ সোলার এনার্জি বসাতে পেরেছি। তারপরও আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন যে আমরা ৬০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডেনিশ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছি। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতে বিগত ৫ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার ৩৪১ মেগাওয়াট।