ঊর্মি মাহবুব: অন্যান্য দিনের মতোই কাজে এসেছিলো নিজামুল। কাজ শেষে বিকাল ৫টায় নিজামুল, সুমন, সুলতানসহ মোট আটজন শ্রমিককে মিসকিফ গার্মেন্ট থেকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার জন্য আটকে রাখার খবর পাওয়া গেছে।
নিজামুল বাংলানিউজকে বলেন, কারখানা ছুটির আগে স্যারের আমাদের উপরে যেতে বলা হয়। আমরা সেই অনুযায়ী ওপরে আসছি। এখন আমাদের বলছে কার্ড জমা দিয়ে কারখানা থেকে চলে যেতে বলা হচ্ছে। হঠাৎ চাকরি চইলা গেলে রাস্তায় বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবো না। নিজামুলের মতো একই অবস্থা কারখানার অন্যান্য শ্রমিকদেরও। কারখানার জিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রমিকদের ওপরে নানা অত্যাচার নির্যাতন চলে বলে জানায় শ্রমিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় মিসকিফ কারখানায় ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। শুধু মজুরিই না প্রয়োজনীয় কোনো ছুটি দেওয়া হয় না কারখানাটিতে। ছুটির বদলে বাড়তি টাকা চাইলে তাতের নির্যাতনের শিকার হতে হয় শ্রমিকদের। বৃহষ্পতিবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মালিকপক্ষের লোকজন মোট আটজনকে মিসকিফ গার্মেন্টেসের নয় তলায় আটকিয়ে রেখেছে। তবে এ বিষয়ে মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি।
এমন ঘটনার ঘটেছে বলে জানিয়েছেন টেক্সটাইল গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক তপন সাহাও। তপন সাহা বাংলানিউজকে বলেন, মিসকিফ গার্মেন্টের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলো। আমরা মালিকদের সাথে কথা বলতে চাইলেও তাদের কোনো সাড়া পাই না। ন্যূনতম মজুরি কেন দিচ্ছে না এ নিয়ে মালিকপক্ষ কারো সাথেই আলোচনায় বসতে রাজি না। তাছাড়া এই কারখানা শ্রম আইনের কিছুই মানা না হলেও দিব্যি কার্যকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আজ (বৃহষ্পতিবারও) কিছু শ্রমিককে আটকে রাখা হয়েছে খবর পেলাম। এভাবে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলেই তাদের শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় মিসকিফে বলে জানান তপন সাহা।