শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:০২

অপেক্ষার কৌশলে বিএনপি

অপেক্ষার কৌশলে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: হার্ডলাইনে সরকার। বিএনপির ঘরোয়া কর্মসূচিতেও দেয়া হচ্ছে বাধা। সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দু’টি কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ কারণে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে নাগরিক সম্মেলন আর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণের আইনজীবী সমাবেশ কোনটিই নির্দিষ্ট স্থানে হতে পারেনি। সরকারের এই কঠোর অবস্থান ভাবিয়ে তুলেছে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের।

তবে আপাতত অপেক্ষা করার নীতিই অনুসরণ করবে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকদের অনেকেই মনে করেন সরকার বিএনপিকে এক ধরনের উস্কানি দিচ্ছে যেন বিএনপি অপ্রস্তুত অবস্থায় আন্দোলনে নেমে শক্তি ক্ষয় করে। অন্তত দু’টি ইস্যুতে সরকার বিএনপির ওপর কৌশলে চাপ প্রয়োগ করছে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দু’টি বিচারের জন্য আলিয়া মাদরাসা মাঠে আদালত স্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকায় খালেদা জিয়ার কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। বিএনপিকে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে নিয়ে যেতে সরকারের এসব পদক্ষেপ বলে দলটির অনেকেই মনে করেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখনই হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে যাওয়ার পক্ষপাতী নন। সর্বশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এখনই এ ধরনের কর্মসূচিতে না যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অবশ্য ওই বৈঠকে স্থায়ী কমিটির কোন কোন সদস্য এখনই সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত কর্মসূচি দেয়ার পক্ষে মত দেন। গত শনিবার বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগকে আরও পচতে সময় দেয়ার কথা বলেছেন। সময় হলেই আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার কথা বলেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীর ঘটনার পর সরকার এমনিতেই বিপাকে রয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে সরকার আর কোন ইস্যুতেই এতটা চাপে পড়েনি। আওয়ামী লীগের অনেকেও সরকারের সমালোচনায় মুখর রয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীতে এক ধরনের উৎকণ্ঠা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে র‌্যাবকে নিয়ে বিপাকে রয়েছে সরকার। এ অবস্থায় বিএনপি অন্য কোন ইস্যু তৈরি করতে চাইছে না। আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ লড়াই কত দূর যায় তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্ব সরকার শিগগিরই কাটিয়ে উঠতে পারবে না বলে মনে করেন বিএনপির অনেক নীতিনির্ধারক। এ কারণে সরকার আরও বিপর্যস্ত হওয়ার পর আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলছেন তারা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়া যখন চাইবেন তখনই ঢাকায় সমাবেশ করবেন। তবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে দল গোছানোর কথা বলা হলেও দল গোছানোর তেমন কোন কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিভিন্ন মহল থেকে দায়ী করা হয়েছিল। নির্বাচনের পরপর খালেদা জিয়া দলের ঢাকা মহানগর কমিটি এবং অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও এসব কমিটি পুনর্গঠনের ব্যাপারে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। যুবদল, ছাত্রদল সহ সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগও থেমে আছে। ছাত্রদল পুনর্গঠনের ব্যাপারে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রশ্ন তুলে সে কার্যক্রম থামিয়ে দেয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্তই রয়ে গেছেন। তার ব্যাপারেও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের একটি বড় অংশ  অসুস্থতাসহ নানা কারণে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে না পারলেও স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেই। কেন্দ্রীয় কমিটিও আগের মতোই রয়েছে। পুনর্গঠন বলতে কয়েকটি জেলা কমিটি ভেঙে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এখন আবার জেলা সফরও শুরু করছেন তিনি। অথচ সরকার বিরোধী আন্দোলনে তৃণমূল পর্যায়ে তেমন কোন ব্যর্থতা ছিল না।

অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে আগে তৃণমূল পর্যায়ে যে আন্দোলন হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন তীব্র আন্দোলন অতীতে কখনও হয়নি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই সরকারবিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি আত্মত্যাগ করেছেন।  অথচ এখন ব্যর্থতার ভার দেয়া হচ্ছে তৃণমূলকে। তবে সরকারি কৌশলের বিপরীতে বিএনপি কোন কৌশলে এগোয় তার ওপরই আগামী দিনের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026