শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:০১

বিমানে লোকসানের নয়া কারণ

বিমানে লোকসানের নয়া কারণ

কাজী সোহাগ:

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লোকসানের নতুন কারণ খুঁজে পেয়েছে মন্ত্রণালয়। এবার মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশ থেকে সংগৃহীত জ্বালানি তেলের দামকে। সঙ্গে যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম ৩১৭ দশমিক ১৯৭ টাকা। অপরদিকে যেসব বিদেশী স্টেশন থেকে বিমান জ্বালানি তেল নেয় সে সব দেশে এর দাম ২৪২ দশমিক ৪৮ টাকা। এ হিসাবে বিদেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্য ৩০ দশমিক ৮১৩ ভাগ বেশি। বিমান তার মোট জ্বালানির ৪৬ ভাগ বাংলাদেশ থেকে এবং ৫৪ ভাগ বিদেশ থেকে সংগ্রহ করে। সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রণালয়ের এ যুক্তিকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
তাদের বক্তব্য, এখানে দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়নি। সংসদীয় কমিটিকে দেয়া এক প্রতিবেদনে  বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিমানের লোকসানের জন্য ৫টি কারণ তুলে ধরেছে। এর একটি জ্বালানি তেলের দাম। অপর চারটি কারণের মধ্যে রয়েছে পুরাতন উড়োজাহাজ বহরের জন্য অধিকতর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের জন্য ঋণ নেয়ার ফলে সুদ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি ও সঙ্কুচিত রুট নেটওয়ার্কের কারণে ফ্লাইটের লাভের ওপর ওভারহেড ব্যয়ের চাপ বৃদ্ধি।
সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, এত দিন বিমানের লোকসানের জন্য জ্বালানি তেলকে দায়ী করা হয়নি। এবার করা হয়েছে। বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক।  বিমানের লাভ-লোকসান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৭ সালের ২২শে জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি লোকসান গুনেছে ১১৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আর ২০০৭ সালের ২৩শে জুলাই থেকে গত বছরের ৩০শে জুন পর্যন্ত লোকসান হয়েছে ১০১৯ কোটি টাকা। গত ৬ বছরে বিমান মাত্র দু’টি অর্থবছরে লাভের মুখ দেখেছে। বাকি বছরগুলোতে লোকসানের পরিমাণ শুধুই বেড়েছে।  ২০০৭ সালের ২৩শে জুলাই থেকে ২০০৮ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত বিমান লাভ করেছে ৫ দশমিক ৯১ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে লাভের পরিমাণ ছিল ১৫ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা। এর পরের চার অর্থবছরে বিমানের লোকসান আকাশচুম্বী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিমানের লোকসান ছিল ৪৬ দশমিক ০২ কোটি টাকা।
পরের অর্থবছরে বিমানের আয় ছিল ৩৩৪৩ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা। অথচ ব্যয় ছিল ৩৫৬৮ দশমিক ০৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ অর্থ বছরে মোট লোকসান গুনতে হয়েছে ২২৪ দশমিক ১৬ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে বিমানের এ লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় দ্বিগুণেরও বেশি। ওই অর্থবছরে বিমানের লোকসান হয় ৫৯৪ দশমিক ২১ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় লোকসান বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। যদিও গত অর্থবছরে এ লোকসানের পরিমাণ কমে হয়েছে ১৯১ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা।
বিমানের লোকসান প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন মানবজমিনকে বলেন, অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি বিমানের জ্বালানির ওপর ভ্যাট আরোপ না করতে। তাহলে দেশ থেকে জ্বালানি নিলে দাম কমবে। এখন বেশির ভাগ সময় কলকাতা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কারণ ওখান থেকে নিলে দাম কম পড়ে। লোকসান কমানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিমানকে লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে লাভজনক রুটগুলোতে বিমানের ফ্লাইট চালুর চেষ্টা চলছে। আশা করি আগামী অর্থবছরে আমরা বিমানকে ব্রেক ইভেন পয়েন্টে নিতে পারবো।
এদিকে অব্যাহত লোকসানের কারণে বিমানের আন্তর্জাতিক রুটের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে বিমানের ফ্লাইট রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায় কলকাতা, কাঠমান্ডু ও দিল্লি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, হংকং ও ইয়াঙ্গুন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দুবাই, আবু ধাবি, দোহা, রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম, কুয়েত ও মস্কাট। এছাড়া ইউরোপের মধ্যে রয়েছে লন্ডন, রোম ও ফ্রাংকফুর্ট। অভ্যন্তরীণ রুটের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026