গত এক দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে স্প্যানিশ আধিপত্য চলছে। এ কারণে দেশে স্প্যানিশ সমর্থক সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। কিন্তু এখনও বেশীরভাগ সমর্থকদের হৃদয়ে সেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাই। একই ছাদের নিচে দুই দলের সমর্থক এবং একই ছাদের উপরে একাধিক দেশের পতাকা। কেবল ফুটবল বিশ্বকাপেই ঘটে এমন ঘটনা।
সময়ের সঙ্গে ধেই ধেই করে নিজেকেও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা। আর মেসির কারণে সারা বিশ্বে সমর্থক বেড়েছে আর্জেন্টিনার। আর ব্রাজিলের আছেন নেইমার। গত বছর ব্রাজিল কনফেডারেশন কাপ জিতেছিল তার কল্যাণেই। বার্সেলোনায় প্রথম মৌসুমটা মোটামুটি গেলেও নিজ মাটিতে তিনি আরও বেশী আলো ছড়াবেন। নেইমার এবং ব্রাজিল সমর্থকদের প্রত্যাশা এটাই। ১৯৫০ সালে হয়নি। এবার যে হতেই হবে।
রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কারণে পর্তুগালের সমর্থকদের সংখ্যাও কম নয় বাংলাদেশে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো পর্তুগালের জাতীয় পতাকা ওড়াচ্ছেন অনেকে। ব্রাজিলে গিয়ে বিশ্বকাপ যেতার মতো দল হয়তো পর্তুগাল নয়। এটা তাদের জানা। তবে সুপারস্টার রোনালদোর সুপার নৈপূণ্য আশা করছেন তার ভক্তরা।
‘ব্যাড বয়’ লুইস সুয়ারেজকে নিয়েও আগ্রহের কমতি নেই। কেউ কেউ তো তাকে মেসি-রোনালদোর কাতারে দাঁড় করাচ্ছেন। গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা আছে তার। আছে প্রতিভা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এ বছর সেটা দেখিয়েছেনও এই উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার।
ডি কস্টার জন্য স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা যেমন স্বপ্নের, তেমনি বিব্রতকরও। জন্মভূমির নাগরিকত্ব ছুড়ে ফেলে হয়েছেন স্পেনের নাগরিক। ব্রাজিলের মাঠে খেলতে নেমে নিশ্চয়ই দুয়োধ্বনি শুনতে হবে তাকে। কিন্তু এসব মাথায় রাখতে চাইবেন কেন? তিনি যে এবার স্পেনের বিশ্বকাপ ধরে রাখার অন্যতম স্তম্ভ। ব্রাজিল সমর্থকদের রক্তচক্ষু যতোই তার দিকে থাকুক না কেন, স্প্যানিশ সমর্থকরা যে তার পাশেই থাকছেন।