শীর্ষবিন্দু নিউজ: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মরে বেঁচে গেছেন। বেঁচে থাকলে তাকেও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি করা হতো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের এটাই ছিলো প্রথম যৌথসভা। বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও পার্লামেন্টারি পার্টির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি মুশতাক। আর মুশতাকের পছন্দ ছিলেন জিয়া। বিষয়টি তো পরিষ্কার। জিয়াউর রহমান হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মূল হোতা ছিলেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, মীর জাফরের মত বেঈমান মুশতাকও বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এরপর জিয়াউর রহমান বিচারপতি সায়েমকে অস্ত্র হাতে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করান। জিয়াউর রহমান বড় চক্রান্তকারী ছিলেন।
বক্তব্যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে ড. কামাল হোসেনের একটি রিটের তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ড. কামালকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে তিনি বাই ইলেকশনে আন-কন্টেস্টে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে। তিনি এখন কীভাবে আন-কন্টেস্টেড ইলেকশনের বিরুদ্ধে ওকালতি করছেন। আদালতে এ তথ্য দেওয়া উচিত।
গত বৃহস্পতিবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নিয়ে করা এক রিটের শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে পরামর্শদানকারী) হিসেবে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন আদালতে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। সংবিধানের মূলনীতি গণতন্ত্র। সংবিধানে বলা আছে, জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। সংবিধান অনুযায়ী জনগণের পক্ষে ক্ষমতার প্রয়োগ করবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরকে কি জনপ্রতিনিধি বলা যাবে?
বিনা প্রতিদন্ধিতায় প্রার্থী নির্বাচন বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জামায়াত ইলেকশন করতে পারবে না বলে বিএনপিও নির্বাচনে আসেনি। বিএনপি-জামায়াত ইলেকশনে আসেনি প্রার্থীরা তো আন-কন্টেস্টে নির্বাচিত হবেনই। একটি রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচনে না আসলে কী করার আছে? ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে গঠিত সরকারের গ্রহণযোগ্যতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। অথচ ৪০ ভাগের বেশি ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করেছে এ নির্বাচনে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আগামীর নানান উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ইনশাআল্লাহ ২০১৯ সালের মধ্যেই এটা করতে পারবো আমরা।
তিনি বলেন, আমরা অনেক উন্নয়ন করে যাচ্ছি। বিশ্ব মন্দা থাকা সত্ত্বেও দেশ অর্থনীতিতে অনেক এগিয়ে গেছে। আর এতে একটি শ্রেণীর চিন্তার খোরাক পাচ্ছে না। কারণ আমরা বলছি, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থাকবে। এটা ওনাদের পছন্দ নয়। ওনারা উল্টো চিন্তা করেন। এর কারণ তারা কেয়ারটেকার সরকারের কেয়ারে ছিলেন। তখন তাদের গুরুত্ব ছিলো। অবৈধ সরকার আসলে তাদের গুরুত্ব বাড়ে। বক্তব্যে গণমাধ্যমেরও কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মিডিয়াগুলো আমরা দিয়েছি। অথচ তারা আমাদের বিরুদ্ধে বলতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। দেশে কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। টক শো‘ গুলো দেখলে বোঝা যায়। যার যা ইচ্ছা বলে যাচ্ছে।
সরকার সমালোচক বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা আমাদের বিরুদ্ধে লেগেই আছে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে বলে যাচ্ছে যাক। আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, যাবো। কই তাদের তো বিএনপি আমলে এত স্বাধীনতা ছিলো না। তারা তো এখনো তারেকের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না। আবার এসে যদি তাদের মারে। পদ্মা সেতু বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র ছিলো, আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে, আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে। চক্রান্তকারীরা সফল হয়নি। আমরা সফল হয়েছি।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দশম জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট নিয়ে সংসদ সদস্যদের দিক নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের বক্তৃতা দেওয়ার সুযাগ মূলত দুইবারই আসে। তা হল মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ আলোচনা ও বাজেটের ওপর আলোচনা। তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশনে সেই সুযোগটা খুব বেশি থাকে না। সংবিধান অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে পাস করতে হবে। ওপেনিং ব্যাটসম্যান কে হবেন সেটাও আগে থেকেই ঠিক করতে হবে। একইসঙ্গে বাজেট বক্তব্যের জন্য প্রস্তুতি নিতেও বলেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার যেসব উন্নয়ন পদক্ষেপ নেয় তার যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে জনগণের কাছে যেতে হবে, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। সরকারের অর্জনগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতেও সংসদ সদস্যদের বলেন তিনি।