শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯

রমজান না আসতেই বাজার চড়ছে

রমজান না আসতেই বাজার চড়ছে

নিউজ ডেস্ক:
bdnews24 news image
রমজান আসতে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় বাকি থাকলেও ওই মাসে বাজারে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পণ্যগুলোর বেশ কয়েকটির দাম ইতোমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের কয়েকটির সরবরাহও কমছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি ভোজ্যতেল, ছোলা ও বিভিন্ন ডাল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ইত্যাদির দাম বেড়েছে। বাজার পর্যবেক্ষণ ও স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা টিসিবি’র তথ্যানুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম ৫ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ সঙ্কট থাকায় রোজা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও কিছু দাম বাড়বে বলে মনে করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

যদিও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত এসব পণ্যের প্রত্যেকটিরই দেশে বর্তমানে উদ্বৃত্ত মজুদ রয়েছে। সরবরাহও স্বাভাবিক। ফলে দাম বাড়ার কোনো যুক্তি নেই।

ছোলা  বিভিন্ন ডাল

রমজানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাড়ে ছোলার। ইফতারির অন্যতম অংশ এটি। এছাড়া অন্যান্য ইফতারি তৈরিতে বেসনসহ অন্য ডাল ব্যবহার করা হয়। গত এক মাসের ব্যবধানে ছোলার দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে বলে টিসিবির হিসাবে দেখা যাচ্ছে। তবে বাস্তবে দাম বাড়ার হার আরও বেশি। টিসিবি মূল্য তালিকা, এক মাস আগে বাজারে ছোলা পাওয়া যেতো ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।

এছাড়া তুরস্ক এবং কানাডা থেকে আমদানি করা বড়ো দানার মশুর ডালের দাম বেড়েছে। এই ডাল প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা এক মাস আগে ৭০ থেকে ৮৫ টাকা দরে পাওয়া যেতো। আবার এসব পণ্যের সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ডালের দাম তেমন বাড়েনি। দু’এক প্রকারের ডালে সামান্য যা দাম বেড়েছে তা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারের কারণে।

চিনি

সরকারি-বেসরকারি মিলগুলোর কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ থাকায় এক বছর ধরে চিনির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকলেও গত কয়েকদিনে তা বাড়তে শুরু করেছে। গত এক বছর ধরে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছিলো। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই গত কয়েকদিন ধরে এ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যটি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, পাইকারি পর্যায়ে বা মিল গেটে চিনির দাম বাড়েনি। খুচরা পর্যায়ে বেড়ে থাকতে পারে। সে বিষয়ে কিছু বলার নেই।

পেঁয়াজ  রসুন

হঠাৎ করেই বাড়ছে রসুনের দাম। আর পেঁয়াজের দাম কয়েকদফায় কমার পর আবার বাড়ছে। এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০ শতাংশ এবং রসুনের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা দরে। এক মাস আগে দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৮ টাকায় পাওয়া যেতো।

অপরদিকে আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা। বাজারে এই রসুন ৭৭ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেল

রমজান মাসে সব ধরনের ভোজ্যতেলের চাহিদাই বাড়ে। তবে লুজ পাম অয়েল ও সুপার পাম অয়েলের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। ভোজ্য তেলের দাম না বাড়লেও মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, মিলগুলো পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পপাদক মোহাম্মাদ আলী ভুট্টো এ বিষয়ে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আমরা মিল গেট থেকে চাহিদা অনুযায়ী মাল পাচ্ছি না। একটি বড় মিল একদম তেল দিচ্ছে না, আরেকটি বড় মিল চাহিদার অর্ধেক মাল দিচেচ্ছ। এতে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি হচ্ছে। এছাড়া রমজান আসার আগেই বাড়তে শুরু করেছে মুরগি ও হলুদের দামও।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৬৭ টন ভোজ্যতেল মজুদ আছে মিলগুলোতে। আর কিছু তেল পাইপ লাইনে রয়েছে। রমজানে এই পণ্যটির চাহিদা ২ লা ৫০ হাজার টন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছে ৫ লাখ ২২ হাজার টন পেঁয়াজ, ৭৭ হাজার টন আদা, ১ লাখ ৩৫ হাজার টন মশুর ডাল, ৯০ হাজার টন ছোলা ও ১৪ হাজার টন খেজুর মজুদ রয়েছে। রমজান মাসে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ, ৫০ হাজার টন আদা, ৭০ হাজার টন মশুর ডাল, ছোলাও ৭০ হাজার টন এবং ১৩ হাজার টন খেজুরের চাহিদা থাকে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026