নিউজ ডেস্ক: থাইল্যান্ডভিত্তিক প্রবাসী বর্মী অ্যাক্টিভিস্টদের ওয়েবসাইট দি ইরাবতি’তে তেল কোম্পানির সমস্যা থেকে বার্মার জন্য শিক্ষা বিষয়ক একটি বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। উইলিয়াম বুটের লেখা ওই রিপোর্ট বলেছে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কার্যক্ষেত্রে বাধা নিষেধ, আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব এবং অন্যায্য দাম বিষয়ে অভিযোগ করেছে। বার্মাতেও এখন সমুদ্র উপকূলে তেল আহরণ নিয়ে লাইসেন্সিং শর্ত নিয়ে দর কষাকষি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শেভরন ও কনোকো ফিলিপস-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অভিযোগের একটি তালিকা লিখিতভাবে হস্তান্তর করেছেন। ওই প্রতিবেদনটি দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে তা নজিরবিহীন। আর এটা কয়েক মাস ধরে অফশোর ও অনশোর ব্লক ইজারা দেয়া শর্তাদি নিয়ে দর কষাকষির পটভূমিতে ওই অভিযোগ করার ঘটনা ঘটে। এ রকম একটি অবস্থা বার্মায় ঘটতে পারে। কারণ তারা ৩০টির বেশি ব্লক ইজারা দেয়া নিয়ে বিদেশী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৮শে মে প্রস্তুত ওই রিপোর্টে তথ্য দেয়া হয়, ইন্ডাস্ট্রি অ্যানালাইসিস ফার্ম ‘প্লাটস’ বলেছে, কোম্পানিগুলোর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ জ্বালানি মন্ত্রীকে জানিয়েছেন, অপ্রতুল অফশোর ফিসক্যাল টার্মস এবং অনশোর ব্লকে প্রবেশাধিকারে কড়াকড়ি আরোপের ফলে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ সীমিত হয়ে পড়েছে। তারা উৎপাদনকারীদের জন্য উচ্চ গ্যাস মূল্য চাইছে। তারা তাদের প্রাপ্য গ্যাসের হিস্যা বাজারে ছাড়ার অনুমতি চাইছে। আর ব্লকের অবস্থানের ভিত্তিতে সম্পাদিত চুক্তির শর্তাবলি পরিবর্তনে নমনীয়তাও আশা করছে।
কনকোফিলিপস বাংলাদেশে আছে। এখন তারা বার্মাতেও দরকষাকষি করছে। তারা প্রশ্নের জবাবেও ইরাবতির কাছে কোন মন্তব্য করতে চায়নি। ওই রিপোর্ট বলেছে, বাংলাদেশের বাজারে গ্যাসের চাহিদা ক্রমবর্ধমান হলেও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বনিবনার সমস্যা তাদের গ্যাস সরবরাহের প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দিতে পারে। শর্ত মানতে না পেরে কনকোফিলিপস গত এপ্রিলে বঙ্গপসাগরের একটি ব্লক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে রাজি হয়নি।
ঢাকার ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস বলেছে, কোন ব্লক পেতে চূড়ান্তভাবে বাছাইয়ের পরে চুক্তি করতে অস্বীকৃতির ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম।
ওই প্লাটস বলেছে, বিদেশী তেল কোম্পানিগুলো কথিত মতে বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাকালে সমালোচনা করছে এই বলে, পিএসসির শর্তাবলিকে তারা ঝুঁকি ও অন্যান্য দিকে বিবেচনায় তারা বাস্তবসস্মত মনে করছে না। বিশেষ করে প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ বেশ বিলম্ব ঘটাচ্ছে।