সুমন আহমেদ: বিগত ১৭ বছর আবহমান কাল ধরে চলমান বরাবরের মতোই লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বাঙালির ঐতিহ্যর প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলা। যারা সরাসরি মেলায় উপস্থিত হতে পারেন নি তাদের জন্য লন্ডনের বাংলা টিভি বৈশাখী মেলা ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে।
১৯৯৭ সাল থেকে লন্ডনের ব্রিকলেন থেকে ছোট্র পরিসরে এ বৈশাখী মেলার যাত্রা শুরু। ক্রমান্বয়ে বিরাট আকার ধারন করে বর্তমানে এ মেলার আমেজ পূর্ব লন্ডন ছাড়িয়ে এখন লন্ডনের ভিক্টোরিয়া হয়ে ইউরোপ ও পশ্চিমের দেশ সমূহেও ঢেউ তুলেছে। রোববারের মেলাকে কেন্দ্র করে গোটা লন্ডনের বাঙালি পাড়া এবং ইউরোপের সকল বাঙালিদের মাঝে এক ধরনের মিলনের স্বাদ নিয়ে আনন্দে জেগে উঠেন। অনেক পুরনো সতীর্থ বন্ধু বান্ধবেরা মেলাকে তাদের যোগাযোগের সেতু বন্ধন হিসেবে দেখছেন বলেন মেলায় আগতরা ।
গত বছরের ন্যায় এবারের বৈশাখী মেলা ভিক্টোরিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। বাঙালি ছেলেরা পাজামা পাঞ্জাবী আর নারীরা নানা বর্ণের শাড়ী পড়ে মেলায় উপস্থিত হন। মেলার নতুন এক আকর্ষণ ছিলো প্রবাসী বাঙালি পরিবারের সাথে থাকা ছোট ছেলে মেয়েদের জন্য ফান ফেয়ার ও কিডস জোন- যেন এক নতুন শিশু পার্ক। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা আনন্দে মেতে উঠে এই ভ্রাম্যমান শিশু পার্কে- যার নাম ছিলো কিডস জোন।
বিকেলে শুরু হয় ভারত থেকে আসা সঙ্গীত শিল্পী কুমার শানুর গান। শিল্পী তার দরাজ ও মধুর কণ্ঠে সমবেত বাঙালিকে মাতিয়ে রাখেন। বাঙালিও কুমার শানুকে করতালি দিয়ে অভিনন্দিত করেন। এছাড়াও স্থানীয় ও ঢাকা থেকে আগত অনেক শিল্পীবৃন্দ বৈশাখী মঞ্চে গান, অভিনয়, আবৃত্তি করেন। যা সকলের কাছে ছিলো খুব আকর্ষণীয় ও ছেলে মেয়ে বুড়ো সকলেই বেশ উপভোগ করেছেন। পার্কের শীতল ছায়ায় একে অপরের সাথে মিলে জম্পেশ আড্ডায় মেতেছিলেন, স্কুল কলেজ জীবনের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। এক কোণায় এক দল ছেলে মেয়ে ঘুড়ি ও উড়িয়েছেন- অনেক দিন পর দেখা এই ঘুড়ি উড়ানো চিরন্তন বাঙালির এই শখের উৎসব সত্যি ছিলো উপভোগ্য।
লন্ডনের আবহাওয়া ছিলো খুব চমৎকার। অনেকেই বিলেতের মতো জায়গায় এমন ভ্যাপসা গরমে দেশীয় আমেজে কাপড় চোপড় পড়ে চলাফেরার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। দেশের মতো গরমে স্যান্ডেল পায়ে অনেকেই মেলায় এসেছিলেন। সাধারণত: ব্রিটেনের আবহাওয়া এতো গরম ও তাপ-দাহ এমন রকম হয়না, হলেও বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়না। রোববার যেন বাঙালির এই উৎসবের সাথে প্রকৃতিও উদার হয়ে মেলে ধরেছিলো তার গরম হাওয়া।
বৈশাখী মেলা প্রতি বছর মে মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এবার মে মাস থেকে সরিয়ে জুন মাসে নেয়া হয়। তার কারণ জানতে চাইলে মেলা আয়োজক কতৃপক্ষ শীর্ষবিন্দুকে জানান, এ বছর টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচন থাকায় মেলার তারিখ কিছুটা পরিবর্তন করতে হয়েছে। পূর্ব লন্ডনের বাঙালি পাড়া বলে খ্যাত ব্রিকলেনে আগে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হলেও স্থানীয় মুরুব্বী ও বাসিন্দাদের অনুরোধে অপ্রীতিকর অবস্থার প্রেক্ষিতে মেলার স্থান পূর্ব লন্ডন থেকে সরিয়ে ভিক্টোরিয়ার পার্কে খোলা মাঠে বড় পরিসরে স্থানান্তরিত করা হয়।