শীর্ষবিন্দু নিউজ: বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জাতিসংঘের মহাসচিবের সামনে উপস্থাপিত বক্তব্য দেশের বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন নয়। তার এই বক্তব্য দেশের জন্য গুরুতর অশনি সংকেত। রাষ্ট্রপতির দলীয় অবস্থান গ্রহণের কারণে সংকট উত্তরণে শেষ অবলম্বন হিসাবে আর কিছু থাকছে না। রোববার বিকেলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সভায় গৃহীত প্রস্তাবে এ কথা বলা হয়।
সভার শুরুতে দার্শনিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষক সরদার ফজলুল করিম, বিশিষ্ট চিকিৎসক ভাসানী পরিষদের সভাপতি ডা. টি আলী’র প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় বলা হয়, জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে নির্বাচন, রাজনৈতিক সংলাপ ও দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত বক্তব্য জনগণের মতামত ও দেশের বাস্তব অবস্থান প্রতিফলন হয়। সংলাপের মধ্য দিয়ে অবিলম্বে রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের সম্ভাবনা বাতিল করে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সরকারি দলের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। রাষ্ট্রপতির এই ধরনের বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট কেবল আরো ঘনীভূতই হবে।
সভার প্রস্তাবে বলা হয়, জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে দলীয় বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রধান অভিভাবক হিসাবে তিনি তার মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুন্ন করেছেন। রাষ্ট্রপতির পক্ষপাতদুষ্ট দলীয় অবস্থান গ্রহণের ফলে সংকট উত্তরণে জনগণের শেষ অবলম্বন বলে আর কিছু থাকছে না। দেশের জন্য এটা গুরুতর অশনি সংকেত। প্রস্তাবে সমগ্র বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাবি করা হয়। সভায় গৃহীত আরেক প্রস্তাবে বলা হয়, সরকার দলীয়দের আগ্রাসী দখলদারিত্বের কারণেই নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও মিরপুরের কালসীতে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মত একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে।
প্রস্তাবে অবিলম্বে মিরপুরের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লাসহ উর্দুভাষীদের উপর বর্বরোচিত হামলা-আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী সকল চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দাবি করা হয়। সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিরুদ্দীন আহমেদ নাসু, রাজা মিয়া, বহ্নিশিখা জামালী, শিবলুল বারী রাজু প্রমুখ।