বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২

সংলাপে আসুন নইলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি

সংলাপে আসুন নইলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সংলাপে না বসলে ঈদের পরেই কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার জয়পুরহাটে এক জনসভায় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য সংলাপে বসতে সরকারের প্রতি আবারো আহ্বান জানান বিএনপি প্রধান।

নইলে ঈদের কয়েকদিন পরেই জোরেশোরে আন্দোলনের কর্মসূচি দেব। এতে বাধা দিলে হরতাল-অবরাধ-অসহযোগসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। সেই পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত সংকট সমাধানে উদ্যোগী হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা। র সময় নষ্ট না করে আলোচনা মাধ্যমে সংকট সমাধানে ব্যবস্থা নিন। হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে যেতে আমাদের বাধ্য করবেন না বলেন তিনি।

১৯৮১ সালে স্বামী সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে আপনি (শেখ হাসিনা) দেশে আসলেন আর জিয়াউর রহমান হত্যা হয়েছে ৩০ মে। আপনি আসার ১৩ দিন পর কেন জিয়াউর রহমান খুন হলেন,নিশ্চয় কোনো কারণ ছিল। খালেদা জিয়া বলেন, জিয়াউর রহমানের জানাজায় অংশ নেয়ার জন্য যখন সারাদেশ থেকে মানুষ ঢাকায় আসছিলেন, তখন আপনি বোরকা পরে কেন ভারতের সীমান্তে পালাছিলেন। তাহলে কি প্রশ্ন করতে পারি আপনার ভয় ছিল। আপনি কোনো কিছুর সাথে জড়িত ছিলেন?

রোববার বিকালে জয়পুরহাটের রামদেও বাজলা (আরবি)সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্য শোনেন সমবেত কয়েক হাজার নেতা-কর্মী। জেলা বিএনপির উদ্যোগে সারা দেশে গুম-বিচারবর্হিভূত হত্যা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন’র প্রতিবাদে এই জনসভা হয়। ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর ঢাকার বাইরে এটি খালেদা জিয়ার তৃতীয় জনসভা।গত ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ ও ১ মার্চ রাজবাড়ী জনসভা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সর্বশেষ ২০১৩ সালের মার্চে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় এসেছিলেন খালেদা জিয়া। মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা থেকে জনসভায় আসেন নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি বগুড়া, নওগাঁ, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর থেকেও নেতা-কর্মীরা এই জনসভায় যোগ দেন। দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত মাঠে এই জনসভায় মুহুর্মুহু করতালিতে চারপাশ সরব রাখেন তারা। নেতা-কর্মীরা বার বার হরতাল শ্লোগান দিলে খালেদা জিয়া বলেন, এখন নয়। ঈদের পর আমরা ধারাবাহিক কর্মসূচি দেব। সেই কর্মসূচিতে বাধা দিলে হরতাল-অবরোধ-অসহযোগ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে জয়পুরহাটের সড়ক পথে শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।বিকাল পৌনে ৪টায় খালেদা জিয়া মঞ্চে এসে পৌঁছালে তুমুল করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান দলের নেতা-কর্মীরা। বিএনপি চেয়ারপারসন তার এক ঘণ্টার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা অবস্থা, দুর্নীতি ও আন্দোলনের কর্মসূচিসহ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে বলব,পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনে যে জিতবে,তারাই সরকার গঠন করবে। আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি,হবে না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ওই নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি। তাদের পক্ষে ৫ ভাগ ভোট পড়েছে। তাহলে তারা জনপ্রতিনিধি হয় কিভাবে? তারা সত্যিকারের সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করে না। যেহেতু ৯৫ ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি আমরা, আমরাই জনগণের প্রতিনিধি।

খালেদা জিয়া বলেন, ভোটে নির্বাচিত হয়নি বলে সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। তারা আজ দিশেহারা হয়ে গেছে। জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে তাদের পরিণতি কি হবে, তা তারা বুঝতে পারে। সেজন্যই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে আওয়ামী লীগ ভয় পায়। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের প্রতি ইংগিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ভারতের নির্বাচনে পরিবর্তন দেখে আওয়ামী লীগ হতাশ ও নার্ভাস হয়ে গেছে। তাই তারা আবোল-তাবোল কথা-বার্তা ও মিথ্যাচার করছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের বিষয়ে হাই কোর্টের রায়ের প্রতি ইংগিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ভোট ছাড়া ১৫৪ জন অনির্বাচিতরা যদি শুদ্ধ হয়ে থাকে,তাহলে কেন নির্দলীয় সরকারের অনির্বাচিত ১১জন উপদেষ্টার নিয়োগ শুদ্ধ হবে না? ওই ১১ উপদেষ্টা তো সংসদে কোনো আইন পাস করবেন না। সরকারকে বলব,সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করেন না করেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। যাতে সব দল ওই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। প্রয়াত স্বামী জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করে খালেদা বলেন, প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমানই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সীমান্তে পাড়ি দেয়া মুক্তিযোদ্ধার দল। তারা রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেনি।

খালেদা জিয়া বলেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের টাকা পাচারের খবর বেরিয়েছে। এই সরকারের আমলে যারা দেশে দুর্নীতি করেছে তারা পদ্মাসেতু, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ চুরি করে সুইস ব্যাংকে পাচার করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কারা টাকা পাঁচার করেছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেকার সমস্যার সমাধান, কর্মসংস্থান,নারীর উন্নয়ন,দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি,তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে একটি মধ্যম আয়ের স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

জেলা সভাপতি মোজাহার আলী প্রধানের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান,জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস,আবদুল মঈন খান,চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, মাহবুবউদ্দিন খোকন,সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ,আসাদুল হাবিব দুলু,যুবদলের সিনিয়র সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ,মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা,সাবেক সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া,জেলার সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা,সাংগঠনিক সম্পাদক মুশফিকুল আলম বুলু,সদর পৌর মেয়র আজিজুর রহমান মোল্লা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন

জনসভায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু,সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল,ড্যাব নেতা অধ্যাপক খন্দকার জিয়াউল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026