নিউজ ডেস্ক: বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতি তদন্তে প্রায় ৫ বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন না পাওয়াকে দায়ী করেছেন দুদক। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্নীতির মাত্রা অনেক বিস্তৃত বলে সময় লাগছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা, গুলশান ও শান্তিনগর এই তিনটি শাখা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা তুলে আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপে গত ২৫ মে অপসারিত হয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজি ফখরুল ইসলাম। তার আগে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। ঋণ জালিয়াতির পাশাপাশি বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। আইন অনুযায়ী, ঋণ জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম ও পাচার সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে দুদকের।
বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তবে তার এক বছর আগে থেকে অনুসন্ধান শুরু হয় বলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম এই অনুসন্ধানের দায়িত্বে ছিলেন। দুদক কর্মকর্তারা বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানেই ‘ব্যাপক মাত্রায়’ দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার পর বিশদ অনুসন্ধানের জন্য ২০১১ সালে কমিশন চার সদস্যের একটি টিম গঠন করে, যার প্রধান ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদিন শিবলী।
ওই টিমের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের আগেই বেসিক ব্যাংকের ওই তিন শাখার (দিলকুশা, গুলশান ও শান্তিনগর) তথ্য তাদের কাছে আসে। আমরা অনুসন্ধান করছিলাম এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াও কারা কারা যুক্ত, সেই সব তথ্যের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম।
তিনি জানান, ২০১২ সালে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির পর দুদক তার অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি অনুসন্ধানকারী টিমটি ভেঙে জয়নুল আবেদিন শিবলীকে হল-মার্ক দুর্নীতি অনুসন্ধান টিমের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় দুদকের উপপরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে।
তদন্তের কী অবস্থা জানতে চাইলে- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, যদ্দুর জানি, এ বিষয়টি বর্তমানে হিমাগারে রয়েছে। অনুসন্ধানের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, কমিশন থেকে আমার কাছে কোনো প্রকার নির্দেশনা আসেনি। এ ঘটনার সর্বশেষে তথ্য কর্তৃপক্ষই বলতে পারবেন।

দুদক চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে ইনভলভ হয়েছে, তাই আমরা আপাতত অনুসন্ধান বন্ধ রেখেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, তারা এখনো তা চূড়ান্ত করতে পারেননি। গত ৪ বছরে বেসিক ব্যাংকের এই তিনটি শাখার বিভিন্ন সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার ওপর কিছু খণ্ড খণ্ড রিপোর্ট আমাদের হাতে পৌছেছে। কিন্তু আপনারা জানেন, এখানে দুর্নীতির মাত্রা অনেক বিস্তৃত। তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন কবে নাগাদ জমা পড়বে, তা এখনি বলা যাচ্ছে না।