ঊর্মি মাহবুব: শুরু হয়েছে রমজান মাস। আসছে ইদুল ফিতর। আর ইদুল ফিতরকে সামনে রেখে বেতন বোনাসের দাবিতে পোশাক শিল্প পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মুসলিম উন্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ। ঈদকে ঘিরে থাকে নানা ধরনের প্রস্তুতি। কিন্তু পোশাক শিল্প শ্রমিকদের ঈদ উদযাপন নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। ইতোমধ্যেই একর্ড-এলায়েন্স পরিদর্শনে প্রায় ১৯টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়েছেন ২৬ হাজার শ্রমিক। প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো কারখানায় ছাটাই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মিরপুরের এসআর গার্মেন্টস জুন মাসে বন্ধ হয়ে যায়। এসআর কারখানার প্রায় দেড়শ’ শ্রমিক পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রোকসানা নামে এক শ্রমিক বলেন, রোজা শুরু হয়ে গেছে। ছেলে মেয়েরে খাইতেই দিমু কি, আর ঈদই কেমনে করুম। রোকসানা অনেক কারখানা চাকরির জন্য গেলেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন। ঈদের আগে আর কোনো কারখানায় চাকরি পাওয়ার সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। তাই এবারের ঈদ কেবল চোখের জলে কাটাতে হবে রোকসার মতো চাকরি হারানো পোশাক শ্রমিকদের।
মে মাসেও রাজধানীর মিফকিফ গার্মেণ্টস থেকে প্রায় ১৫ জন শ্রমিককে জোর করে অব্যাহতি পত্র জমাদিতে বাধ্য করেন মালিপকক্ষ। মিরপুরের লীবার্টি গার্মেন্টসের অবস্থাও প্রায় একই। মিফকফ ও লিবার্টি গার্মেন্টস এর মতো অনেক কারখানায় বাকি পড়ে আছে শ্রমিকদের বেতন। তাই নিয়ে পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এসব বিষয়ে রেডিমেট গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি লাভলী ইয়াসমীন কথা বলেন বাংলানিউজের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিন আমাদের কাছে বেতন বকেয়া সংক্রান্ত অভিযোগ আসছে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছি। সমস্যা সমাধানে ছুটে যাচ্ছি মালিকদের কাছে। কিন্তু কোনো গতিই হচ্ছে না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। অন্যদিকে অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক এখনো কাজ খুঁজে না পেয়ে বেকায় হয়ে আছেন। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে ঈদ এগিয়ে আসতেই শ্রমিকরা আর মুখ বন্ধ করে থাকবে না। তখন পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। আর তার দায় নিতে হবে মালিক পক্ষকেই।
অন্যদিকে গত সাত মাসেও ন্যুনতম মজুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ বিদ্যমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ঈদ সামনে রেখে শ্রমিকদেরও অনেক আশা আকাংখা থাকে তার পরিবার পরিজনদের নিয়ে। কিন্তু ঈদ এলেই দেখা যায়, মালিকরা বেতন বোনাস দেয়া নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে। ফলে শ্রমিকরা নানা সময় বিজিএমইএ ভবন পর্যন্ত ঘেরাও করে থাকে। মালিকদের এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরনের কারণে পরিস্থিতি অশান্ত হয়।
অন্য বছরের সঙ্গে চলতি বছরের পরিস্থিতির তুলনা করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ আজীম। চলতি বছর যাতে কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয় সেজন্য আগে ভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে বিজিএমইএ। এমনটাই জানিয়েছেন এই পোশাক মালিক নেতা।
বিজিএমইএ সহ-সভাপতি বাংলানিউজকে বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের একটি মনিটরিং টিম কাজ করছে। যেসব কারখানায় বেতন বোনাস সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেবে তা সমাধানে বিজিএমইএ মালিক শ্রমিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিজিএমইএ থেকে কোনো কার্পন্য করা হবে না।