এনায়েত করিম: ধর্মের পাশাপাশি ক্রিকেটও বাংলাদেশের জনগণের কাছে একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্রিকেট নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র শুরু হলে তা প্রাণ দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন তারা। আর ক্রিকেটারদের মনে করেন দেবতা। সেই অনুযায়ী ভক্তিও কম করেন না। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত যখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের অস্তিত্ত্ব নিয়ে টানাটানি শুরু করে তার প্রতিবাদ জানাতেও পিছ পাঁ হয়নি এদেশের সাধারণ মানুষ।

দেশের ক্রিকেটারদের সফলতায় হাসি-আনন্দে মেতে ওঠেন এদেশের সাধারণ মানুষ। আবার খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় ও দুঃখ-কষ্টে কাঁদতেও দ্বিধা করেন তারা। অথচ সেই খেলোয়াড়রাই ভালবাসার প্রতিদান হিসেবে দেশের ক্রিকেটভক্ত সাধারণ জনগণের বুকে ছুরি মারতে পিছ পাঁ হন না। বাংলাদেশের হয়ে আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন না বলে হুমকি দিয়ে ক্রিকেটপ্রেমী জনগণের আবেগকে ক্ষত-বিক্ষত করেছেন সাকিব আল হাসান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতি না নিয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলতে যাওয়ার পর ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হলে এ হুমকি দেন তিনি। সাকিবের হুমকির এ কথা একটি টেক্সট ম্যাসেজ পাঠিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসানকে জানিয়ে দেন জাতীয় দলের কোচ চন্দ্রিকা হাথুরুসিঙ্গে। সাকিবের এই ঔদ্ধত্য এবারই প্রথম নয়। বোর্ডের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দর্শককে মারধর, অশালীন অঙ্গভঙ্গিসহ নানাভাবে মিডিয়ায় এসেছেন তিনি।
স্ত্রীকে ভালবাসা দেখাতে দর্শককে মারধর: স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে গত ১৬ জুন এক দর্শককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন সাকিব। ভারতের বিপক্ষে ওয়ান্ডে সিরিজ চলাকালে ক্রিকেট বোর্ডের অনুমতি ছাড়া বিসিবির করিডোরে স্ত্রীর কাছে এসে এ কাণ্ড করায় তাকে শাস্তিও পেতে হয়। এই ধরণের শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ সাকিব ছাড়াও আরো অনেক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ক্রিকেটপ্রীতি কোনো একটা ভীতিতে পরিণত হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।