বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫১

যুক্তরাজ্য নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেনি

যুক্তরাজ্য নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেনি

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাজ্য সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেনি। শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের কোনো দ্বিধা ছিল না। আজ শনিবার গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার অস্বস্তিতে আছে—বিভিন্ন পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি (ডেভিড ক্যামেরন) তো সরকারকে নাকচ করেননি। বলেননি আমি প্রধানমন্ত্রী নই। ইলেকশন নিয়ে আলোচনা হবেই। পার্টিসিপেটরি ইলেকশন, আনকনটেসটেড…এসব নিয়ে আলোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ফরোয়ার্ড লুকিং। তিনি বলেছেন, যা হওয়ার হয়েছে, ফিরে তাকাতে চাই না।

প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন ছিল, ঘরের বদনাম বড় করে ফলাও করে কী লাভ? শেখ হাসিনার ভাষ্য, যুক্তরাজ্য সরকারের যদি বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে কোনো দ্বিধা থাকত, তাহলে তাঁকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বারবার ফোন করে দাওয়াত দিতেন না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তাঁকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নিজে রিসিভ করেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্য সরকার ও ইউনিসেফের আমন্ত্রণে ২১ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন। প্রথমবারের মতো আয়োজিত গার্ল সামিটে ২০২১ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধের অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলন শেষে রসিকতা করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কি, পরান জুড়াইছে?

যুক্তরাজ্য সফরের বাইরেও প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা, ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন, জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনের নির্বাচনও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিকভাবে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, কোন দুঃখে আঁতাতের রাজনীতি করতে যাব? জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে আমার লাভ কী? খালেদা জিয়া জামায়াতের নেতাদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তাঁদের হাতে আমার লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। তাঁদের গ্রেপ্তার করে জেলে পুরেছি, সে সাহসটা কে দেখিয়েছে? পারলে আমিই পারব। আর যারা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করে, কেঁদেকেটে অস্থির হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। তাঁদের আঁতাত কার সাথে হয়েছে, খোঁজ নেন। এমন ডুয়েল রোল কেন?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ধীরগতির যে অভিযোগ উঠেছে, এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি তো ধরে ফাঁসি দিতে পারি না। দায়িত্ব বিচার বিভাগের। জুডিশিয়ারি রায় দিলে রায় কার্যকর করব। সংলাপের সম্ভাবনা শেখ হাসিনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলকে যথাসময়ে যথাযথ ভূমিকা নিতে হয়। সেটি তারা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ভুলের খেসারত কেন আমাকে দিতে হবে? এখন ডায়ালগ ডায়ালগ করছেন। আমি যদি রাষ্ট্র চালাতে ব্যর্থ হতাম তাহলে কথা ছিল। বলেন, মানুষ শান্তিতে আছে কি না। যেভাবে হোক নির্বাচন হয়েছে। জনগণ মেনে নিয়েছে। ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ঈদের পর বিএনপি আন্দোলনে নামবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছে, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠে নামুক না। মাঠে আওয়ামী লীগ আছে, মানুষ আছে। মাঠের খেলা মাঠেই হবে। ফুটবল মাঠে কে কয়টা গোল দেয়, সেটা সেখানেই দেখা যাবে। বিএনপির আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহায়তা দেবে কি না, এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, আপনি কি চান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাস পোড়াতে, মানুষ মারতে সহায়তা করবে? আমি রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জনগণের সাথে থাকব। মানুষকে রক্ষা করতে হবে।

বিএনপির কয়েকজন নেতা ১৫ আগস্টের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁকে সরাসরি হত্যার হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন এর বিচারের ভার তিনি জনগণের হাতে দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, হায়াত-মওত আল্লাহর হাতে। সুরা আল ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াতে আছে সম্মান দেওয়ার মালিক আল্লাহ। জন্মালে মরতে হবে। মরার আগে মরে যাব না। দুর্বলের তর্জন-গর্জন বেশি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান ও জিয়া পরিবারের সম্পৃক্ততার কথা স্পষ্ট হয়। ওই দিন জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, বাবা-মা-ভাইবোনকে এভাবে হত্যার পরও সাহস করে এ মাটিতে রাজনীতি করতে এসেছি। আর কেউ করত কি না, সন্দেহ। দেশে ফিরেছি, যেন দেশ মিলিটারি ডিক্টেটরের হাত থেকে রক্ষা পায়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026