আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত সমাবেশে নৃগোষ্ঠীগুলোর সঙ্কটের কথা উঠে আসে। বেলুন উড়িয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান। জাতীয় সংগীতের পর গারো সম্প্রদায়ের নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান,যাতে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী ফোরামের নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনীতিক, শিক্ষক, সংস্কৃতিককর্মী।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সমতলের আদিবাসীরা সবচেয়ে বেশি নিগ্রহের শিকার হয়েছে। দিনাজপুরে তাদের জীবনহানি ঘটেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধর্ষণের কথা আমরা শুনেছি, তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।
ভূমি সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের জন্য ভূমি কমিশন গঠনের যে দাবি সংসদে উচ্চারিত হয়েছে, সেই ভূমি কমিশন গঠন করা এবং ভূমি সমস্যার সমাধান করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। এই সরকারের আমলেই পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন এবং আদিবাসীদের নিজস্ব অধিকারও দেয়া হবে, বলেন মন্ত্রী।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বাঙালিদের ক্ষেত্রে যেমন জাতীয় অধিকার পরিপূর্ণভাবে পালন করা আমাদের দায়িত্ব, আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করাও মুক্তিযুদ্ধের মতোই একই পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। যখন প্রত্যেকটা জাতিগোষ্ঠীকে সব ধরনের শোষণ ও নিপীড়নের হাত থেকে মুক্ত করতে পারব, তখনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হবে।
নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আদিবাসী ফোরামের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। এবার আর কোনো আবেদন-নিবেদন নয়, দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। আদিবাসীরাও মানুষ, তাদেরও আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে, তারা জানে কিভাবে লড়াই করতে হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টাচার্য, নাট্যকার মামুনুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, আদিবাসী ফোরামের নেতা শক্তিপদ ত্রিপুরা প্রমুখ। বক্তব্যের পর পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।