বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৯

পদত্যাগ করেছেন ফরেন অফিস মিনিস্টার মার্ক সিমন্ডস

পদত্যাগ করেছেন ফরেন অফিস মিনিস্টার মার্ক সিমন্ডস

সুমন আহমেদ: আগামী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে কনজারভেটিভ পার্টির কেবিনেট থেকে পদত্যাগ করেছেন বোস্টন ও স্কেগনেজ আসনের এমপি, ব্রিটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার মার্ক সিমন্ডস। মার্ক সিমন্ডস তার পদত্যাগের সাথে ওয়ার্সির মতো গাজা ইস্যু কোনভাবেই স্থান পায়নি বলে জানিয়েছেন।

মার্ক সিমন্ডস তার পদত্যাগ পত্রে লিখেছেন, তিনি আগেই পদত্যাগের বিষয়ে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, অপেক্ষা শুধু ছিলো সরকারি কাজের গুরুদায়িত্ব- ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ব্যাপারে জাতি সংঘের অধিবেশনে চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য, তিনি গত সপ্তাহে সিদ্ধান্ত জানিয়েও সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন ও কাজ চালিয়ে চান। তিনি তার পদত্যাগে সরকারের ভূমিকার প্রশংসা এবং একই সাথে ডেভিড ক্যামেরনের সরকারের সাথে পূর্ণ সহযোগিতার ও সাপোর্টের আশ্বাস দেয়ার সাথে সাথে আগামী নির্বাচনেও সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের ভিত্তিতে ক্ষমতায় ফিরে এসে সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন।

মার্ক সিমন্ড তার পদত্যাগ পত্রে পরিবারের সাথে আরো অধিক সময় ব্যয় এবং সরকারি কাজ করতে গিয়ে পরিবার থেকে অনেক দূরে অবস্থান করার কারণে পরিবার পরিজনকে মিস করছেন- যাতে তিনি তার পরিবারকে আরো ব্যাপক সময় দিতে পারেন- সেটাই মূলত তিনি প্রধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ডাউনিং ষ্ট্রীটের রাজনীতি যারা গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তারা বলছেন, সরকার এখন চতুর্মুখি চাপের মধ্যে আছেন। নিজেদের দলের ভিতরের অনেক সদস্য ইসরায়েলের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন। অনেক ইসরায়েলি ব্রিটিশ লবিষ্ট পর্যন্ত ইসরায়েলের পদক্ষেপ ও ব্রিটিশ সরকারের গাজা নীতিতে রুষ্ট।তারা যেকোন সময় বিদ্রোহ করে দিতে পারেন। অবস্থা আঁচ করতে পেরেই সরকার এখন ইরাক ও গাজা ইস্যুতে পার্লামেন্টের জরুরী অধিবেশন ডাকছেনা।

গুঞ্জন ক্যামেরনের পিছু ছাড়ছেনা। ইরাক, সিরিয়া, ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন ইস্যুতে ক্যামেরন এখন দেশে বিদেশে সমালোচিত ও চাপের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী যে নারকীয় গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাতে বিশ্বের তাবৎ শান্তিকামী ও যুদ্ধবিরোধী জনগণ সোচ্চার এবং ক্ষত বিক্ষত ও আহত। সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরোধী যে র‍্যালি হয়ে গেলো তাতে লক্ষ লক্ষ লোক সামিল হয়ে গাজার জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশের সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকারের নমনীয় নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন।

১৫০,০০০ মতো লোক ব্রিটেনের রাজপথে সামিল হয়ে ক্যামেরন সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের লক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন। হাইড পার্কের সেই র‍্যালির সমাবেশে ব্রিটিশ এমপি ডায়ান এবোট, রোশনারা আলী সহ আরো অনেকেই তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন। এন্টি ওয়ার ক্যাম্পেইন এবং প্যালেস্টাইন সলিডারিটি গ্রুপ পার্লামেন্ট মেম্বারদের সাথে লিয়াজোর লক্ষে এখন ক্যাম্পেইন শুরু করছেন যাতে আর্লি মোশন আনা যায়।তারা স্বাক্ষর অভিযানও শুরু করে দিয়েছেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের আর্ম এম্বার্গো ও সরকারের আরো কঠোর ভূমিকা নেয়ার জন্য।

ইতিমধ্যে ক্যামেরনের সব চাইতে পছন্দের ও কনজারভেটিভ সিনিয়র অফিসিয়াল সাঈদা ওয়ার্সির পদত্যাগ সরকারের ভেতরকার তলানিতে নড়া চাড়া শুরু করে দিয়েছে। বিরোধী নেতা মিলিব্যান্ডও ইসরায়েল গাজা ইস্যুতে ক্যামেরনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। সব মিলিয়ে সামনের পার্লামেন্ট অধিবেশনে ক্যামেরনকে গাজা ও ইরাক ইস্যুতে যে অনেক নাটকীয় অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে- সে সম্ভাবনার আভাষ এখনি বেশ আলোচিত ভাবেই জানান দিচ্ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026