রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৭

বিচারপতি অপসারণ: খসড়া উঠছে সোমবারের মন্ত্রিসভায়

বিচারপতি অপসারণ: খসড়া উঠছে সোমবারের মন্ত্রিসভায়

এস এম আববাস: উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফেরত দিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের খসড়া সোমবারের মন্ত্রিসভায় উঠছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শুক্রবার বাংলানিউজকে এ কথা জানান।

এ সময় তিনি বলেন, প্রস্তাবিত খসড়ায় জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকছে না। তবে খসড়া প্রস্তাবে বিচারপতিদের অভিযোগ অনুসন্ধান, তদন্ত, অভিযোগ উঠা বিচারপতিদের দক্ষতা-অদক্ষতা যাচাইয়ে আলাদা একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিচারবিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিশনের মতো একটি ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংসদে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তা তদন্ত করার ব্যবস্থা থাকছে কিনা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, খসড়া প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উঠলে সেদিন সবাই জানতে পারবেন।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগামী অধিবেশনে খসড়াটি উত্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। জাতীয় সংসদে খসড়াটির অনুমোদন হলে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। আর তা হলেই বিচারপতিদের অপসারণে বা অভিশংশন (ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের অভিযোগ আনা) ক্ষমতা ফিরে পাবে সংসদ।

বর্তমানে বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। বর্তমান সংবিধানের ৯৬ ধারা অনুযায়ী বিচারপতিদের অপসারণে রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করতে পারেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এবং অন্যান্য বিচারকের মধ্যে পরবর্তী যে দুইজন কর্মে প্রবীণ তাদের নিয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে। এই বিধান রেখে ১৯৭৭ সালে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের বিধান করে সামরিক সরকার।

১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া ছিল সংসদের হাতে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে ‘বিচারকদের পদের মেয়াদ’ শীর্ষক ৯৬ অনুচ্ছেদে ২ দফায় বলা হয়- ‘প্রমাণিত ও অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাইবে না।’

পরে সামরিক সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ বাতিল করে ১৯৭৭ সালের ১ ডিসেম্বর বিচারপতিদের অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান করেন। এরপর থেকে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা চলে যায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। বর্তমানে এই বিধান কার্যকর রয়েছে। জুডিশিয়াল কাউন্সিল না রাখা প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, সংসদের হাতে বিচারপতিদের অপসারণের বিধান ভারতসহ অন্যান্য দেশেও রয়েছে। ভারতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলও রয়েছে।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জানান, ভারতে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনুসন্ধান, তদন্ত করার কাজ করা হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে। এরপর পার্লামেন্টে দেওয়া হয় প্রতিবেদন আকারে। সবশেষ সিদ্ধান্ত নেয় পার্লামেন্ট। এখন যদি বাংলাদেশে সংবিধান সংধোধন করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বাদ দেওয়া হয়, তাহলে বিচারপতিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে না।

বিচারপতিদের অদক্ষতা, অযোগ্যতা যাচাই করবে কে? কেউ যদি অভিযোগ তোলে, আর মোজোরিটি দিয়ে যদি অপসারণ করা হয়, তাহলে স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য সেটি ভাল হবে না। বিচারপতিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য ব্যবস্থা রাখা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

২০১২ সালে তৎকালীন স্পিকার ও বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের একটি রুলিংকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে অপসারণের দাবি সংসদে তোলেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। ওই সময় সংসদে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা বা অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে। এ দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার জনপ্রতিনিধিদের হাতে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার এ উদ্যোগ নেয়।

সূত্র: বাংলানিউজ




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024