
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ অগাস্ট ফার্গুসনের রাস্তায় মাইকেল ব্রাউন (১৮) নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর পুলিশের গুলিতে নিহত হলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুরো সপ্তাহজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ান। যে পুলিশ সদস্য ব্রাউনকে গুলি করেছিলেন তার নাম প্রকাশের পর শুক্রবার সহিংসতা আরো ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি দোকানপাটে শুরু হয় লুটপাট।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন গভর্নর নিক্সন। তিনি বলেন, অনেকেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু কিছু লোক লুটপাটও চালাচ্ছে। তাদের সুযোগ দিয়ে আমরা ফার্গুসনের সাধারণ মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারি না।
গভর্নর বলেন, আমাদের অবশ্যই শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। পুরো বিশ্ব আমাদের দেখছে, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। গুটিকয় লোকের অপ তৎপরতার কারণে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর শুভ চেতনাকে আমরা ধ্বংস হতে দিতে পারি না। স্থানীয় পুলিশের প্রকাশ করা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক প্যাকেট সিগারেট ছিনিয়ে নিচ্ছেন ব্রাউন।
সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সংকেত দেয়ার পরও না থামায় ‘ডাকাত সন্দেহে’ ব্রাউনকে গুলি করা হয় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি। তবে ব্রাউনের পরিবার বলছে, হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করার জন্য পুলিশ এখন ওই ভিডিও প্রকাশ করেছে।
গভর্নর নিক্সন বলেন, ব্রাউনের মৃত্যু ঘটনা তদন্তে এফবিআই ও মার্কিন বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। মিসৌরি স্টেট হাইওয়ে পেট্রোলের ক্যাপ্টেন রন জনসন জানান, ঘটনা তদন্তে ৪০ জন এফবিআই কর্মকর্তা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বিক্ষোভের কারণে শনিবার স্থানীয় একটি চার্চে গভর্নরের সংবাদ সম্মেলন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। স্থানীয় মানবধিকার নেতা আল শার্পটন জানিয়েছেন, রোববারও তারা ‘শান্তিপূর্ণ’ প্রতিবাদের পরিকল্পনা করেছেন।