রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৮

রংপুর বিভাগে গরু মোটাতাজাকরণ বাড়ছে আশংকাজনক হারে

রংপুর বিভাগে গরু মোটাতাজাকরণ বাড়ছে আশংকাজনক হারে

সাজ্জাদ বাপ্পীকোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ও বেশি দামের আশায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলার বিভিন্ন স্থানে গরু মোটাতাজাকরণ বাড়ছে আশংকাজনক হারে। জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এবার ঈদে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ঈদে প্রায় ৩  লাখ গরুকে ক্ষতিকর স্টেরয়েট ট্যাবলেট খাইয়ে মোটতাজা করা হচ্ছে। এ সব গরু বাজারজাত করতে ৮ জেলার কয়েক হাজার মৌসুমী ব্যবসায়ী ও খামারিরা ব্যাপক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করে জানান, তাদের কাছ থেকে যে সব খামারি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা কোনো ক্ষতিকর পদার্থ গরুকে খাওয়াচ্ছেন না। স্বাভাবিক নিয়মেই গরু মোটাতাজা করছেন তারা। তারা জানান, তবে স্বীকার করে নিতে হবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গরুকে মোটাতাজা করতে স্টেরয়েট জাতীয় ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। এ বিষয়টি সত্য।

রংপুর প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে (৮ জেলায়) দুগ্ধ খামার রয়েছে ৫ হাজার ৩৮৫টি। এ বিভাগে গরু রয়েছে ৬৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪৪টি। আর মহিষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৪৫টি। ছাগল ৪১ লাখ ২০ হাজার ৪০৬টি। ভোড়ার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২টি। এছাড়াও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে ১০ হাজার ৪০২টির মতো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খামারি ছাড়াও মৌসুমী ব্যবসায়ী রয়েছেন ২০ হাজারের অধিক। এ সব ব্যবসায়ী প্রায় ৩ লাখ গরুকে ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা করে ঈদে বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা কোরবানির ঈদের ৪ থেকে ৫ মাস আগে গরু ক্রয় করে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য খাইয়েও গরু মোটাতাজার কাজ পরিচালনা করছেন।

বেশ কয়েকটি খামার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রংপুরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ক্ষতিকর স্টেরয়েট জাতীয় ওষুধ খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এই জাতীয় ওষুধ গরু খেলে দেহে অধিক মাত্রায় পানি ধারণ করতে পারে। এতে করে গরুর শরীর ফুলে ফেপে ওঠে ও স্বাস্থ্যবান দেখায়। এছাড়া দ্রুত মোটাতাজা হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ জাতীয় ওষুধ ভারত থেকে সীমান্ত পথে দেশে নিয়ে আসছেন চোরাকারবারিরা। আর তা সরাসরি চলে যাচ্ছে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছে।

এ নিয়ে রংপুর সিভিল সার্জন ডা. মোজাম্মেল হক বাংলানিউজকে জানান, স্টেরয়েট জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলে গরুর  চর্বি মাত্রারিক্তভাবে বেড়ে যায়। চর্বি মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া এ সব গরুর মাংস খাওয়ায় ফলে মানুষের লিভারের কার্য শক্তি ও কিডনির সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

রংপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. দুলাল ভদ্র বাংলানিউজকে জানান, সরকারিভাবে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প রয়েছে। যারা প্রকৃত খামারি তারা গরু মোটাতাজা করতে ক্ষতিকারক কিছু ব্যবহার করছেনা। তিনি আরো জানান, যারা মৌসুমী ব্যবসায়ী তারাই মূলত ঈদকে কেন্দ্র করে এ সব কাজ করছেন। শুধুই অধিক লাভের আশায়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026