মিজানুর রহমান: মৌলভীবাজার শহরে একটি ধূসর রংয়ের গাড়ির গতিবিধি নিয়ে সিভিল প্রশাসন বিব্রত। গাড়ির ফ্ল্যাগস্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকা। গতকাল মৌলভীবাজার শহর অতিক্রম করে যাওয়ার সময় অনেকের দৃষ্টিতে পড়ে এ পতাকা। গাড়ি পার্ক করা হয় ঢাকা-সিলেট সড়কের কোদালীপুল এলাকায়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শুরু হয় মালিক খোঁজা। অস্পষ্ট নম্বর প্লেট থাকায় মালিক পেতে বেশ বেগ পেতে হয়।
বিআরটিএ’র সহযোগিতায় পরে জানা যায় গাড়িটি একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের এক সূত্রের দাবি এই গাড়িটি প্রায়ই শহরে এভাবে প্রবেশ করে। তবে আগে কারও এমনভাবে দৃষ্টিতে পড়েনি। পতাকা উড়িয়ে কোন সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত যায়। মন্ত্রীর বাড়ি যায়। গত শনিবার দুইজন মন্ত্রী ছিলেন মৌলভীবাজার শহরে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এসেছিলেন জাসদের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি হয়ে। অপরজন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন নিজের এলাকায়। তাই প্রশাসন ছিল সতর্ক।
পতাকা দেখা যায় সাধারণত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর গাড়িতে। গতকাল শহরের সাধারণ মানুষ এবং সিভিল প্রশাসনের লোকজনের দৃষ্টিগোচর হয় পতাকাওয়ালা উপজেলা চেয়ারম্যানের এ গাড়িটি। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় সিভিল প্রশাসনে। প্রথমে অনেকে ভাবেন মন্ত্রী বা সমপর্যায়ের কারও গাড়ি এটি। যদি এমন কারও হয় তবে সরকারি প্রটোকলের বিষয় থাকে। গাড়িটি কে ব্যবহার করছেন জানতে না পেরে প্রশাসন থেকে সহযোগিতা নেয়া হয় বিআরটিএ কার্যালয়ের। নম্বর প্লেট অস্পষ্ট থাকায় বিআরটিএ প্রথমে জানায় এটি কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ি। যোগাযোগ করা হয় কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে। তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন তিনি। খবর পেয়ে চিন্তায় পড়ে যান। ভাল করে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার গাড়ি কুলাউড়ায়ই আছে। অন্য কেউ ব্যবহার করছে না। নিশ্চিত হয়ে প্রশাসনের কাছে বার্তা পৌঁছে দিলে আবার তালাশ শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত খবর মিলে গাড়িটি রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যানের। এটি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলা চেয়ারম্যান আছকির খান নিজে ব্যবহার করছেন। তবে তিনি সরকারি ড্রাইভার ব্যবহার করেন না। করেন নিজের পছন্দের ড্রাইভার। কারণ অজানা। গতকাল তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও গাড়ি চলেছে মৌলভীবাজার শহরে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা চেয়ারম্যানদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা টানানোর কোন বিধান না থাকলেও তার গাড়িতে পতাকা কেন এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানপুত্র রাসেল খান জানান, গাড়িটি মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে নেয়া হয়েছিল। সেখানে আনা নেয়ার পথে অন্য কেউ পতাকাটি লাগিয়ে থাকতে পারে।