ইমরান আলী: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে রয়েছে। ওই এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা জালি ছেঁড়া। যার কারণে ওই ছেঁড়া অংশ দিয়ে অনায়াসে বহিরাগতরা অহরহ প্রবেশ করছে। বিমাবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এপিবিএন সদস্যরা মাঝে মধ্যেই এ ধরনের বহিরাগতদের আটক করছেন কিংবা প্রবেশের সময় ধাওয়া করছেন। জালিগুলো দ্রুত মেরামত করা না হলে ওই এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের চিফ সিকিউরিটি অফিসার (সিএসও) ইফতেখার জাহান বাংলানিউজকে বলেন, এখনো এটি আমাদের নজরে আসেনি। এলে দেখা যাবে। আর এ বিষয়ে ওই এলাকার যিনি দায়িত্বে আছেন তিনি ভালো বলতে পারবেন।
দেখা যায়, বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ এর দক্ষিণ পাশে ডমেস্টিক টার্মিনাল (অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল) অবস্থিত। এই টার্মিনাল ব্যবহার করে দেশের মধ্যে যাত্রীরা আসা যাওয়া করেন। টার্মিনালের দক্ষিণে অন্তত ৭/৮ স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনি ছেঁড়া রয়েছে। দীর্ঘদিন এটি মেরামত না করার ফলে ওই স্থানগুলো দিয়ে বহিরাগতরা ঢুকে পড়ে। অনেক সময় তারা রানওয়ে পর্যন্ত চলে যায়। যার ফলে দুর্ঘটনারও আশঙ্কা থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় বহিরাগতরা প্রবেশের ফলে সংরক্ষিত এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। প্রায়ই এপিবিএন সদস্যরা চোর ও টোকাইদের আটক করে থানায় সোপর্দ করে।
আকাশ পথের যাত্রী একরামুল কবির বলেন, বিশ্বের কোন বিমানবন্দরেই নিরাপত্তা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকে না। এক সময় আমাদের এই বিমানবন্দর বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ছিল। সেটি থেকে এখন উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ডমেস্টিক টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বেষ্টনি মেরামত না করার ফলে প্রায়ই লোকজন সেখানে ঢুকে পড়ে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটা না পর্যন্ত প্রশাসনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে মনে করিনা। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এটি মেরামত করা প্রয়োজন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এপিবিএনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ওই এলাকা দিয়ে প্রায়ই বহিরাগতরা ঢুকে পড়ে। কোন সময় তাদের আটক করা হয়, আবার কোন সময় দায়িত্বরত সদস্যদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বেষ্টনি ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে এটি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ছেঁড়া বেষ্টনি মেরামত করাও হচ্ছেনা। মেরামত করার দায়িত্ব সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের। তিনি বলেন, বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটার আগেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই নিরাপত্তা বেষ্টনি মেরামত করা প্রয়োজন।