সৈয়দা রুমি আহমেদ: বাঙালির চিরন্তন গ্রামীণ-নাগরিক- সংস্কৃতি ঐতিহ্যবাহী পিঠা মেলার আয়োজন করেছিল ব্রিটেনের জনপ্রিয় বাংলা চ্যানেল-বাংলা টিভি। লন্ডনের রিজেন্টস লেক ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে আয়োজিত শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই মেলা উদ্বোধন করেন টাওয়ার হ্যামলেটস বারার এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদায়ী হাই কমিশনার মিজারুল কায়েস।
বিশাল হলরুমে প্রবাসী বাঙালিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। লন্ডনসহ ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে নানা বয়সের নারী পুরুষ মেলায় অংশ গ্রহণ করেন। তারা দিনব্যাপী এই মেলা থেকে হরেক রকমের পিঠা কিনে তার স্বাদ অনুভব করেন। মেলার ফাকে ফাকে ছিলো পিঠা উৎসব নিয়ে বাংলা টিভির আয়োজনে আলোচনা, সঙ্গীতানুষ্ঠান, নাটক ও চিত্র প্রদর্শনীর। রিজেন্টস লেকের দ্বিতীয় তলাতে ছিলো কালচারাল প্রোগ্রাম, নীচের তলাতে বিশাল স্ক্রিনের মাধ্যমে দর্শককে দেখানোর ব্যবস্থা ছিলো চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বাঙালির এই চিরন্তন ঐতিহ্য পিঠা নগর জীবনের আধুনিকতার ছোঁয়া আর পিজ্জা ও ফার্স্ট ফুডের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। শেফ এম এ রহিম আরো বলেন, ক্যাটারার্স শেফ এসোসিয়েশনের মাধ্যমে তিনি আজকের এই অনুষ্ঠানের নানা ঐতিহ্যবাহী পিঠাসমূহ এবং আমাদের শ্বাসত গ্রামীন জনপদে যে সব পিঠার প্রচলন রয়েছে, সবগুলো পিঠা তারা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। মুহুর্মুহু করতালি আর অন্যান্য বিচারকদের ধন্যবাদের মাধ্যমে শেফ রহিমের বক্তব্য বিপুলভাবে সমাদৃত হয়।
অনেক প্রবাসী ইউরোপের বিভিন্ন শহর থেকেও পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছিলেন। ছিলেন ব্রিটিশ মূলধারার অনেক সেলেব্রিটি ও রাজনীতিবিদও। সকলেই বাংলা টিভির এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মেলার বিচারক হিসেবে যারা ছিলেন তারা হলেন ক্যাটারার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল এম এ মুনিম, শহমিকা আগুন, স্মৃতি আজাদ, শামীম আজাদ, সাঈদা চৌধুরী, হূসনা মতিন, শায়লা সিমি, মোজাহিদুল চৌধুরী। এবারের বিচারকদের আসনে একজন শেফও ছিলেন, তার নাম এম এ রহিম।
সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি ছিলো পুরো বাঙ্গালিয়ানায় পরিপূর্ণ। দেশের গান আর কবিতা আবৃত্তি, কৌতুক আর নাট্যাভিনয় ছিলো মনোমুগ্ধকর- যা দর্শকদের প্রচুর আনন্দ দিয়েছে। বাংলা টিভি প্রতিবছরই এধরনের উৎসবের আয়োজন করে থাকে। দর্শকেরা বলছেন এবারের পিঠা মেলা আগের যেকোন সময়ের তুলনায় এবারের অনুষ্ঠান ছিলো ব্যতিক্রম ধর্মী এবং অনেক বড় ধরনের আয়োজন। রিজেন্টস লেকের নীচের ফ্লোর এবং উপরের ফ্লোর উপচে পড়া মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে।