ড. এম মুজিবুর রহমান: নিউ ইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউ ইয়র্কস্থ টাঙ্গাইলবাসীর সাথে মতবিনিময়কালে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর হজ, তাবলিগ জামাত ও রাসূল (স:) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের সাথে সাথে দেশে বিদেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ধর্মপ্রাণ সাধারণ জনগণ সহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন সারা দেশে বিক্ষোভ করছেন । তাকে মন্ত্রীসভা থেকে বহিষ্কার ও গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়েছেন। হজ হচ্ছে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। হজকে অস্বীকার করলে কিংবা হজ নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও রাসূল (স:) এর প্রতি কটূক্তি করলে কেউ মুসলমান থাকতে পারে না বলে অনেকে মত দিয়েছেন। সুতরাং অনেকে বলছেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী একজন মুরতাদ।
নিউ ইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসের সভায় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরোধী। তার চেয়েও বেশি বিরোধী হজ ও তাবলিগ জামাতের। তিনি বলেন, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নেই। এদের কোনো প্রডাকশন নেই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। মন্ত্রী বলেন, এভারেজে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়। তিনি হজের শুরু প্রসঙ্গে বলেন, আবদুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল, এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কিভাবে চলবে। তারা তো ছিল ডাকাত। তখন একটি ব্যবস্থা করল যে আমার অনুসারীরা প্রতি বছর একবার এক সাথে মিলিত হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে। তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।
লতিফ সিদ্দকী তার বক্তৃতায় আওয়ামিলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের (ডিজিটাল উপদেষ্টা, সরকারের না উনার মা শেখ হাসিনার এখনো পরিস্কার নয়!)বিষয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। জয় ভাই, সে কে ? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন। শুধু পরামর্শ দিতে পারে, কোনো কিছু বাস্তবায়নের ক্ষমতা তার নেই।’ তিনি আরো বলেন ‘জয় প্রতিমাসে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেতন পান । একটা গরীব দেশে একজন ভিনদেশিকে এত টাকা বেতন দিয়ে নিয়োগ করা হয় কেন? প্রধানমন্ত্রী চুরি রাস্তা ভালই বের করেছে, বাহ্.. বাহ্..’ এ ধরনের মন্তব্যও করেছেন লতিফ সিদ্দিকী। শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অনেকটা উপহাস এবং অবজ্ঞা করে কথা বলেছেন। লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত সবার সামনে বলেছেন, সজীব ওয়াজেদ জয় আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে মাসে ২ লাখ ডলার বা ১ কোটি ষাট লাখ টাকা বেতন হিসাবে বাংলাদেশ সরকার থেকে পেয়ে থাকে। এটা জয়ের মাসিক বেতন। লতিফ সিদ্দিকী নিজেই এই বেতন অনুমোদন এবং সাইন করেন। এছাড়াও জয় কে নিয়ে তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যা সংবাদ মাধ্যম গুলো প্রচার করেনি। কিন্তু ওখানকার প্রবাসীদের কাছে এর প্রমান রয়ে গেছে।
হজ ও রাসূল (স:)কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তোপের মুখে থাকা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি তার মন্তব্যে অনড় বরং ঔদ্ধত্যের সাথে উল্টো বলেছেন বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না। তবে শুধু তার দলের নেতা শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেই তিনি তার সম্মানে মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। মেক্সিকো থেকে বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, একজন স্বাধীন ও আধুনিক মানুষ হিসেবেই তিনি হজ ও রাসূল (স:) সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, চাপের মুখে তার পদত্যাগ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। “আমি কিছুই করবো না। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দেবেন আমি সেটা প্রতিপালন করবো।” বলেন তিনি। বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি আরো বলেন, “যা রেকর্ড করা আছে। সেটা ঠিকই আছে। আমি ওই কথার ১০০ ভাগ দায়িত্ব্ব নিচ্ছি।” লতিফ বলেন, অনুতাপ করার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনায় তাকে কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন।
আসল কথা হলো লতিফ সিদ্দিকী হযরত মুহাম্মদ (স.), হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের পাশাপাশি আওয়ামিলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পুত্র, (ডিজিটাল উপদেষ্টা!)সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন । সম্প্রতি জাতীয় সম্প্রচার!(মিডিয়ার কন্ঠ রোধ) নীতিমালা পাশের কারণে ভয়ে সবকিছু মিডিয়ায় আসতে পারছে না। অনেকে মনে করেন আগের যে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন এ জন্য লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্ব যাচ্ছেনা । কিন্তু জয় প্রসঙ্গে কথা বলায় মন্ত্রিত্ব থাকছে না । লতিফ সিদ্দিকীর মুখ দিয়ে জয়ের বেতন ভাতাদির তথ্য জনসম্মুখে চলে আসায় বিপাকে পড়ে গেছেন তিনি । কথায় বলে না ধর্মের কল বাতাসে নড়ে !
যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য তাকে অবৈধ মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণের চিন্তা করা হত, তাহলে ইনু-মেননসহ আরো অনেক আগেই বহিষ্কার হয়ে যেতেন। লতিফ সিদ্দিকীও এর পূর্বে বলেছেন, ধর্ম হল তামাক, মাদকের মতো নেশা এবং কোরআন তেলওয়াতের কোনো প্রয়োজন নেই। যদি কেউ কোরআন তেলওয়াত করেন তাহলে এর সঙ্গে বাইবেল ও গীতা পড়তে হবে-মোল্লারা ভিক্ষা করে মসজিদ নির্মাণ করেন এবং সেখানে আযান দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করেন। দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতে আজকে লতিফ সিদ্দিকী হযরত মুহম্মদ (সা.) ও হজ সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। লতিফ সিদ্দিকিকে আস্কারা দিয়ে দিয়ে এই জায়গায় আনা হয়েছে।
লতিফ সিদ্দিকী একা নন, তার মত আরো অনেক লতিফ সিদ্দিকী বর্তমান অবৈধ মন্ত্রী পরিষদে রয়ে গেছেন। যেমন ডিজিটাল উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় বলেছেন সেনাবাহিনী থেকে ইসলামপন্থীদের বিতাড়িত করতে হবে। মাদ্রাসার ছাত্র কমানোর আন্দোলন শুরু করার পাশাপাশি বোরকার ব্যবহার ৫০০% বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তা বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। জয় এখানেই থেমে থাকেন নাই। আমাদের অতি সংবেদনশীল বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর শতকরা ৩৫ ভাগ সদস্য জঙ্গি বলেও উল্লেখ করেছেন। আওয়ামীলীগের অতি ঘনিষ্ট কবির চৌধুরী (মহান মুক্তিযুদ্ধে যিনি পুরুটা সময় বহাল তবিয়তে পাকিস্তানের তত্কালীন সরকারের অধীনে চাকুরী করে গেছেন, হালের চেতনার ফেরিওয়ালা )বলেছেন সংবিধানে বিসমিল্লাহ রাখা যাবে না । (আলহাজ/কমরেড)হাসানুল হক ইনু বলেছেন রাসুল (সাঃ)কে কটুক্তি করা স্বাভাবিক বিষয়, এ নিয়ে হৈচৈ করা ঠিক নয় ।
হাসান মাহমুদ (আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একাত্তরের তালিকাভুক্ত রাজাকার সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ভাষায়, ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ট বেয়াদব)বলেছেন মেয়েদেরকে বোরকার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে, তাদের নাচগান শিক্ষা দিতে হবে । আর অবৈধ সংসদের ডেপুটি স্পীকার, শওকত আলী বলেছেন কুৎসিত চেহারা ঢাকতেই মেয়েরা বোরকা পরে ।এছাড়া শেখ হাসিনার আইটেম বয় সৈয়দ মহসিন আলী বলেছেন তছবিহ পড়া আর শিরনি খাওয়া ছাড়া মাদরাসা ছাত্রদের কোনো কাজ নেই । মাদরাসার শিক্ষার দরকার নেই, মাদরাসার হুজুর মানুষের বাড়ি দাওয়াত খাওয়া ছাড়া কোনো কাজ করেন না। নোবেল পুরস্কার বিশেষজ্ঞ (আবিস্কার: ওয়াইন ও চিপস খেলে নোবেল পুরস্কার পাওয়া যায় )সৈয়দ আশরাফ অবশ্য তার অবস্থান খুব সুন্দরভাবে পরিস্কার করে বলেছেন তিনি মোসলমানও নন হিন্দুও না। আরো অনেকের উক্তি বলতে গেলে তালিকা দীর্ঘ হয়ে যাবে তবে দেশের মানুষ সবাই জানেন তারা ভুলেন নাই । এসব কথাবার্তা বা বিশ্বাসের কথা জনসম্মুখেই বলা হয়েছে বেড রুমে নয়।
আওয়ামলিীগ সভানত্রেী শখে হাসিনার প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যরে জন্য এ দেশের বিভিন্ন আদালত মানুষকে চাকরিচ্যুতি থেকে শুরু করে সাত বছর কারাদ- পর্যন্ত দিয়েছেন। লতিফ সিদ্দিকী বিভিন্ন সময় মহানবী (সা.), হাইকোর্ট, বিরোধী দলের নেতা-নেত্রী, সংখ্যালঘু মানুষ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তাকে এ জন্য কোনো শাস্তি পেতে হয়নি।
সৌদি দৈনিক ‘আরব নিউজ’ ইতিমধ্যে সংশয় প্রকাশ করেছে যে, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার বিষয়টি মুখ্য নয়, তাকে অপসারণের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করার বিষয়টি মুখ্য হতে পারে। ঢাকায় একজন টিভি বিশ্লেষক বলেন, যে প্রশ্নের উত্তরে লতিফ সিদ্দিকী ‘জয় কে’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন সেখানে জয়ের বিষয়ে বিরূপ বা প্রশংসাসূচক কোন মন্তব্য করার কোন সুযোগই ছিল না। তিনি সম্পূর্ণ আরোপিতভাবে জয় প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন।
এদিকে আওয়ামিলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিলম্বিত ও সতর্ক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সরকার বেকায়দায় নয়, লতিফ সিদ্দিকী নিজে বেকায়দায় পড়েছেন। লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যের কোন অংশটি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কিভাবে নিয়েছেন তা পরিষ্কার হয়নি। কারণটা এখনও তিনি তা উহ্য রেখেছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি (লতিফ সিদ্দিকী) ‘‘যা’’ (কোন অংশ কিন্তু পরিস্কার করে বলা হয় নাই) বলেছেন তার দায় সরকার নেবে না। সুতরাং রাষ্ট্রপতি দেশে এলে হয়তো দেখা যাবে মন্ত্রিসভা বিভাগ থেকে কেবিনেট সেক্রেটারি একটি এক বাক্যের প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। তাতে কোন কারণ উল্লেখ ছাড়া লেখা থাকবে তাকে অপসারণ করা হয়েছে । লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা হয়েছে। তার মাথার দাম হাঁকা হয়েছে। কিন্তু সরকারি বা দলীয়ভাবে তাকে এখনও অভিযুক্ত করা হয়নি। এমনকি তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একটি মামুলি কারণ দর্শাও নোটিশ পর্যন্ত জারি করা হয়নি।
এদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিক লিখেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যের বক্তব্যের কোন অংশ কি কারণে অগ্রহণযোগ্য তা চিহ্নিত না করার বিষয়টি অসাবধানতাবশত নয়। বরং এটা সুচিন্তিত হতে পারে। এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি মিডিয়ায় যে ভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে প্রচার পেয়েছে ঘটনাটি কেবলই তা নয়। বিষয়টি কেবলই হজ সম্পর্কে তাঁর কোন আপত্তিকর বক্তব্যের উদ্ধত বহিঃপ্রকাশ সংক্রান্ত বিষয় নয়। বরং অনেকের সন্দেহ যে, হজের বিষয়টি যা তিনি নিজেই ১৯৯৮ সালে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পালন করে এসেছেন সেটা একটা ক্যামোফ্লেজ হতে পারে। এর আড়ালে তিনি আসলে সরকারের উপরমহলের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বনিবনা না হওয়া সংক্রান্ত কোন বিরোধের প্রকাশ ঘটিয়ে থাকতে পারেন। কেউ কেউ বলছেন, সেখানে তিনি আর্থিক দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে টাঙ্গাইল সমিতিতে গোটা নাটক সাজিয়েছেন কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কামরুল ইসলাম নামের একটি জনপ্রিয় আইডি দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, মূলতঃ ২৫ মিলিয়ন ডলারের কমিশন ভাগ নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর চাকরি যাচ্ছে! মেক্সিকোর লেবানিজ বংশোদ্ভুত ধনকুবের ও টেলিযোগাযোগ ব্যবসায়ী কার্লোস স্লিমকে বাংলাদেশে টেলিকম ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার বিনিময়ে এই কমিশনের টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি সামনে চলে এসেছে বলে বলা হয়।
ইতিমধ্যেই ল্যাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অফসোর কোম্পানিতে বাংলাদেশের কালো টাকা বিনিয়োগ শুরু হয়েছে আগে থেকেই তা দেশি বিদেশী গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিনীরা নড়েচড়ে বসলে শেখ হাসিনার পরিবার কালো টাকার বিনিয়োগ ও নিরাপদ রাখার জন্য বেলারুশকে বেছে নেন । বেলারুশকে বাছাই করার পূর্বে বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটারকে কালো টাকা ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে বহনের জন্য ব্যবহার করা হয় বলে গোয়েন্দা সুত্রে জানা যায়।
কার্লোস স্লিম ২০১০ সালে তিনি ছিলেন বিশ্বের সেরা ধনী। সে মেক্সিকোর সবেচেয়ে বড় টেলিকম ব্যবসায়ী। মনোপলি ভেঙ্গে দেয়ার জন্য মেক্সিকোর বাইরে অন্য কোথাও অর্থ লগ্নি করতে হবে এই কারনেই দু’নম্বরী বেশী আছে এমন একটা দেশে বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশের নাম আসে কার্লোসের কাছে। জানতে পারেন শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ই হচ্ছে ওই কাজ দেয়ার যোগ্য ব্যক্তি। যোগাযোগ করলে জয় ব্যবসা করতে দিতে রাজী, তবে তার জন্য গুণতে হবে কমিশন। কার্লোস তাতেই রাজী হয়। ফান্ড ট্রান্সফার এবং গোপন চুক্তি চুড়ান্ত করতে আইসিটি মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে যেতে হবে মেক্সিকো। আর এটাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফরসঙ্গী না হয়েও লতিফ-পলক আমেরিকা হয়ে মেক্সিকো যাবে। সতর্কতার জন্য লতিফের সাথে পলককে দিয়ে দেয় জয়। আর ঐ সফরের উছিলা হিসাবে কার্লোস একটা ভুয়া আইটি পদকের ব্যবস্থা করে মেক্সিকোতে।
লতিফ সিদ্দিকী নিউইয়র্কে থেকেই কার্লোসের সাথে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ উঠেছে ২৫ মিলিয়ন ডলারের ফান্ড ট্রান্সফার হয়ে যায় লতিফ সিদ্দিকীর নির্দিষ্ট কয়েকটি একাউন্টে। এরপরেই লতিফ সিদ্দিকী মাথা ঠিক করে ফেলেন এবং টাঙ্গাইল সমিতির বৈঠকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস না করলেও লতিফ সিদ্দিকী একা একাই কথা বলে ফেলেন হজ্জের বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে, এমনকি রসুল (সঃ)কে অবমাননাকর উক্তি। এমনকি শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ছেলে জয়কেও একটু ছুয়ে দেন। উদ্দেশ্য ২৫ মিলিয়ন ডলারের দাওটা মেরে দেয়া, এবং অতপর আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়ার ক্ষেত্র তৈরী করা। এর আগেও আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েও পাননি তিনি। এবারের ঘটনার প্রস্ততি হিসাবে লতিফ সিদ্দিকী তার ২ মেয়ে নন্দিনী ও রায়না ফারজিন প্রীতু, এবং পুত্র অনীক সিদ্দিকীকে আগেই পার করে দেন কানাডায়। অন্যদিকে স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকীকে সাথেই নেন। অতি বিশ্বস্ত সোর্স মারফত লতিফ সিদ্দিকী আগেই জানতে পেরেছেন, নভেম্বরে হাসিনার খেল খতম হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্যরা পালাতে পারলেও শেখ হাসিনা সে সুযোগ নাও পেতে পারেন । কাজেই শেষ সময়ে লতিফ সিদ্দিকী ২৫ মিলিয়ন ডলার ছাড়বেন কেনো?
আওয়ামী লীগের বিগত সরকারের আমলেও তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরীসহ জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তা র বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘুষ গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল । মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরনকে বিনা টেন্ডারে ৩৭০ কোটি টাকায় একটি কম্প্রেসার স্টেশন বসানোর কাজ দেয়ার বিনিময়ে এ উৎকোচ গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে তথ্য দেয়া হয়েছিল । অভিযোগে আরও বলা হয়, সেই সময় এ কম্প্রেসার স্থাপনের কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে জ্বালানি উপদেষ্টা মার্কিন কোম্পানি শেভরনকে কাজটি পাইয়ে দেন। এ কাজ পাইয়ে দিতে জ্বালানি উপদেষ্টা শেভরনের কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উেকাচ গ্রহণ করে তার নেতৃত্বে ওই অর্থ ভাগবাটোয়ারা করেন। অভিযোগপত্রে প্রধানমন্ত্রীর নামে ২ মিলিয়ন ডলার গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে জানানো হয়, ওই ২ মিলিয়ন ডলার ১৪ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে টেক্সাসে স্বয়ং জ্বালানি উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হস্তান্তর করেন।
পেট্রোবাংলার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে আবু সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত পেট্রোবাংলার প্যাডে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে পেশ করা অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগে ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। চিঠিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে উপদেষ্টা এম তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক, সচিব মোহাম্মদ মোহসিন এবং পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোক্তাদির আলীকে। অভিযুক্তদের পারস্পরিক যোগসাজশে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি শেভরনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকার সমান ৫২ দশমিক ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে মুচাইতে কম্প্রেসার স্টেশন স্থাপনের কাজ দেয়া হয়েছে। নতুন আবরণে পুরনো কম্প্রেসার বসানোর এই কাজ বিনা দরপত্রে একক প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলার প্যাডে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ অভিযোগপত্রটি পেশ করা হয়েছিল। জ্বালানি মন্ত্রণালয় অভিযোগটি তদন্তের জন্য পেট্রোবাংলাকে দায়িত্ব দিলেও তারা ‘উচ্চ পর্যায়ের লোক জড়িত এবং স্পর্শকাতর বিষয়’ বলে তদন্ত করতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিষয়টি আর তদন্ত করা হয়নি । বিগত সেনাবাহিনী সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা বহুল আলোচিত নাইকো দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী। নাইকোর এক সময়ের বাংলাদেশ প্রধান কাশেম শরীফের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার বিষয়টিও মন্ত্রণালয়ে বহুল আলোচিত। নাইকো মামলায়ও প্রধান অভিযোগ ছিল বিনা টেন্ডারে নাইকোকে গ্যাসক্ষেত্র বরাদ্দ দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতিসাধন। ভোটছাড়া সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মার্কিন মুলুকে প্রবাসী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও এদেশের বোদ্ধা নাগরিকদের কাছে দুর্নীতির বরপুত্র রূপে খ্যাত জ্বালানী উপদেষ্টা ডঃ তৌফিক ইলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি বহুজাতিক কোম্পানীর নিকট হতে ৫ (পাঁচ) মিলিয়ন ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তদন্ত-সংক্রান্ত সংবাদ ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে আমার দেশ পত্রিকায় ছাপা হয়। আমরা সকলেই জানি আমার দেশের সাহসী ও সত্যবাদী মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এর পর থেকে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার স্বীকার। আজঅবধি তিনি বিনা বিচারে মিথ্যা সাজানো মামলায় মাসের পর মাস কারাভোগ করছেন।
শেখ হাসিনার দুর্নীতির মামলা তার দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও তার আত্মীয় শেখ সেলিম স্বিকারুক্তিমূলক সাক্ষী দেয়ার পরও যেখানে প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়, ঠিক তেমনিভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হয় নি। আর এবার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শেখ হাসিনার অতি আস্থাভাজন লতিফ সিদ্দিকী সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অর্থ চুরির কথা বলে মনে হয় ফেসে গেলেন।
তাই ধর্মীয় অনুভূতির জন্য নয় – জয় অনুভূতিতে আঘাতই কাল হলো লতিফ সিদ্দিকীর ।
লেখক : ড. এম মুজিবুর রহমান, পিএইচডি ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল, পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ ফেলো ইউনিভার্সিটি অব বাথ এন্ড ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম, ইউকে। সাবেক সহকারী অধ্যাপক, শাহ জালাল (রহ.) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট । সাবেক বিভাগীয় প্রধান, মার্টন কলেজ লন্ডন।