সৈয়দা রুমি আহমেদ: বহুল সমালোচিত প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রশ্নে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। আজ সোমবার কমন্স সভায় ব্রিটিশ এমপিরা ভোট প্রদান করবেন। হ্যা বা না প্রশ্নে এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
২০১২ সালে জাতি সংঘের সাধারণ অধিবেশনে ডি ফ্যাক্টো রিকগনিশন অব দ্য সভরেন ষ্টেইট অব প্যালেস্টাইন নামে রেজুলোশন পাশ করে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। এ পর্যন্ত জাতি সংঘ ভুক্ত ১৩৪টি দেশ প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কিছুদিন আগে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে সংগঠিত ৫০দিন ব্যাপী যে যুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্ব অবলোকন করেছিলো, যেখানে তাবৎ বিশ্বের মানবতাবাদী ও যুদ্ধবিরোধী সকল পক্ষই ইসরাইলের একপেশে ও বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সোচ্চার ছিলো, তখনো ব্রিটিশ সরকার যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা অবলোকন করেও এ ব্যাপারের ছিলো নীরব এবং প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি। মানবাধিকার ও যুদ্ধবিরোধী র্যালীর চাপে ক্যামেরন সরকার তখন দায় সাড়া এক বিবৃতি দিয়েছিলেন যে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও এই অঞ্চলে শান্তির প্রশ্নে উভয় রাষ্ট্রের যৌথ স্বীকৃতির মাধ্যমে টু-ষ্ট্যাট সলিউশনের কথা বলেছিলেন।
কমন্স সভার লেবারের দুই ডজন সংসদ সদস্যদের বাদ দিলে বাকী লেবার দলীয় সংসদ সদস্যরা মিলিব্যান্ডের নেতৃত্বে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রশ্নে মোটামুটি ইতিবাচক। লেবার দলের পেছনের অংশের সহ দুই ডজন সাংসদ প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রশ্নে আনুষ্ঠানিক ফরমেশনের সংশোধনীর সাথে উভয় রাষ্ট্র প্যালেস্টাইন ও ইসরাইলের শান্তির আলোচনায় ইতিবাচক সম্মতির দাবী জানিয়ে আসছেন, যা মিলিব্যান্ডের চীফ হুইপ সহ কমন্সের সামনের সারির তিন লাইনের এই অংশের সাথে দ্বন্ধ অনেকটাই শাপে নেউলের মতো।
প্রশ্ন জাগে মিলিব্যান্ড কি পারবেন সেই পেছনের সারির বিদ্রোহীদের প্রশমিত করে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবিতে ভোটাধিকার প্রয়োগে কার্যকর ভুমিকা রাখতে ? কেননা এর উপর নির্ভর করছে লেবার দলের সদস্যদের ভোটাভুটির স্বচ্ছ ভাবে মত প্রকাশের। এ দিকে কনজারভেটিভ দলের সাবেক সিনিয়র ফরেন অফিস মিনিস্টার ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সি আজকের পার্লামেন্টের মোশনের উপর ভোটাভুটির প্রাক্কালে সকল সদস্য যাতে ভোট দিয়ে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন সেজন্যে আহ্বান জানিয়েছেন। গার্ডিয়ানকে দেয়া এ
ক সাক্ষাতকারে ব্যারোনেস ওয়ার্সি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার মধ্যে নৈতিকতা মুছে গিয়েছে, এখানে আর কোন মধ্যস্থতা নেই, এখানে আর কোন শহর অবশিষ্ট নেই, যেখানে আমরা নতুন জীবনের জন্য বাইরের আলো বাতাসে শ্বাস প্রশ্বাস ফেলতে পারি, আমাদের একটাই পথ খোলা আছে আর তা হলো প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। সাঈদা ওয়ার্সির এই এই ক্লিয়ার ম্যাসেজ মধ্যপ্রাচ্যের আল-আরাবিয়া ইংলিশ এবং ডেইলি অবজারভার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশ করেছে।
অবশ্য সাবেক ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপম্যান্ট মিনিস্টার স্যার অ্যালান ডানকান স্কাই নিউজের সাথে এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র নিজদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অধিকার রাখে যেমন বিশ্বের অপরাপর রাষ্ট্র রাখেন। তিনি আরো বলেন, ১৯৪৮ সালে আমরা ইসরাইল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিলাম কিন্তু কি দেখলাম, সেখানে গৃহযুদ্ধ আর ইসরাইলীরা জোর করে প্যালেস্টাইনের সীমানা দখল করে বসতি স্থাপন করছে।
প্যালেস্টাইনীদের জীবন যাপন দুর্বিসহ হয়ে উঠে, ইসরাইল সেখানে একের পর আক্রমণ আর ঘর বাড়ী বসত ভিটা সব গুড়িয়ে দিচ্ছে। জাতি সংঘের ১৬০টি দেশের মধ্যে ১৩৪টি দেশ প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে। আর এখনি সঠিক সময় প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। এদিকে ফরেন অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন তারা এখনো দুটি রাষ্ট্রের মধ্যেকার মধ্যস্থতা ও সমাধানের মধ্যেই এর শান্তি ও সমাধান দেখছেন।
আজকের কমন্স সভার মোশনের উপর ভোটাভুটি মূলত সাবেক ফরেন সেক্রেটারি উইলিয়াম হেগ কর্তৃক প্রণীত ছক মোতাবেক, যেখানে তিনি আউট লাইন করেছিলেন, ইউকে অবশ্যই অধিকার রাখে দ্বিপাক্ষিক ভাবে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং এর শান্তির প্রশ্নে সহযোগিতা করার। আর সেই আলোকেই আজকের ভোটাভুটি পার্লামেন্টে এমপিরা দিবেন। লেবার দলীয় সাংসদদের মধ্যে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির সমর্থক অধিকাংশ সদস্য হলেও ফ্রেন্ডস অব লেবার দলের ডিরেক্টর জেনি জারবার ইতিমধ্যেই তার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি হয়ে গেলে শান্তি আলোচনায় প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তারা আগ্রহ কম দেখাবে।