শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৬

আমাকে নয় শেখ মুজিবের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হওয়া উচিত

আমাকে নয় শেখ মুজিবের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হওয়া উচিত

তারেক রহমান।

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বর্তমান সরকার যেভাবে অবৈধ সেভাবে শেখ মুজিবও অবৈধ ছিলেন উল্লেখ করে শেখ মুজিব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে  অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেই শেখ মুজিব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রকৃত ইতিহাস বলার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ মামলা হওয়া উচিত শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। কারণ, তিনি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে এসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের আট্রিয়াম হলে এ সভা হয়।

তারেক রহমানের দাবি, তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক কিংবা প্রথম রাষ্ট্রপতিই ছিলেন না, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্টও ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার বক্তৃতায় তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান জোর করে ক্ষমতা দখল করেননি এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার সঙ্গে তাঁর বাবার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। নিজের বক্তব্যের পক্ষে নানা তথ্য এবং যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।

স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জেলহত্যার সঙ্গে জিয়া জড়িত বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার জবাবে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেরাই জেলহত্যা দিবস পালন করে ৩ নভেম্বর। ওই হত্যাকাণ্ডের আগের দিন ২ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে সেনানিবাসের বাসায় গৃহবন্দী করেছিলেন। তাঁর দাবি, জিয়া ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেননি। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর খন্দকার মোশতাক এটি জারি করেছিলেন।

বর্তমান সরকারকে অবৈধ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক বলেন, এই সরকার দাবি করছে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। অথচ গত ১ নভেম্বর সারা দেশে বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দিলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল পাঁচ হাজার মেগাওয়াট এবং আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ৫০০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সরকার প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বর্তমান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে জঙ্গি ইনু আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, এই ইনু বাহিনী ১৯৭৫-এ শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পটভূমি তৈরি করেছিল এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল। সে কাজে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে জিয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

তারেক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগস্ট থেকে নভেম্বর—এই কয়েকটি মাস ছিল ঘটনাবহুল এবং বিপৎসংকুল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা, সেনাবাহিনীতে চলে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান, খালেদ মোশাররফসহ সেনা অফিসার হত্যা, তাহের-ইনু চক্রের ষড়যন্ত্র এবং সিপাহী-জনতার সফল গণ-অভ্যুত্থানের পথ ধরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক বলেন, সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ সিকদারকে হত্যার পর জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিব বলেন, কোথায় আজ সিরাজ সিকদার। বিরোধী দলের একজন রাজনৈতিক নেতাকে বিনা বিচারে হত্যা করে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এভাবে দম্ভভরে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করেন শেখ মুজিব। তিনি বলেন, পিতার মত অন্যায়ভাবে এখন এই সংসদ বিনা ভোটের কথিত এমপি দিয়ে দখল করে রেখেছেন রং হেডেড শেখ হাসিনা।তারেক বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়কার চিত্র ছিল, শেখ মুজিব জনগণকে বিশ্বাস করতে পারেননি।

তবে জনগণের পক্ষে না দাঁড়ালে যে ইতিহাসের নির্মম শাস্তি পেতে হয় এটি তিনি ঠিকই বুঝেছিলেন। বিএনপি’র এই শীর্ষ নেতা বলেন, জোর খাটিয়ে বা রাজাকার আখ্যা দেয়ার ভয় দেখিয়ে শেখ মুজিবের পক্ষে যতই মিথ্যে ইতিহাস রচিত হোক, প্রকৃত সত্য হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসটি তার আনন্দে উদযাপনের সৌভাগ্য হয়নি। তার নির্যাতন ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে সর্বহারা পার্টির ডাকে ওইদিন আধাবেলা হরতাল পালিত হচ্ছিল।

১৯৭৪ সালের বিজয় দিবসেও হরতাল আহবান করে সর্বহারা পার্টি। এর আগে একই বছর ১৩ অক্টোবর শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনের ডাক দেয় শেখ হাসিনার আজকের বিশ্বস্ত ইনু গংদের জাসদ। তারেক বলেন, বিজয় দিবসের মর্যাদা অবশ্য শেখ মুজিবের কাছে খুব বেশি আনন্দদায়ক হওয়ার কথাও নয়। কারণ মুক্তিযুদ্ধ শেখ মুজিব দেখেননি। মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ভূমিকা রাখতে না পারার লজ্জা ছিল তার। আর একারণেই মুক্তিযুদ্ধে যারা বীরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন তাদের সঙ্গে শেখ মুজিব কখনও সহজ হতে পারেননি।

অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মহিদুর রহমান, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম, অপর উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক এম এ মালেক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ‘৭ই নভেম্বরের তাৎপর্য’ তুলে ধরে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার লিখিত বক্তব্য পেশ করেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে আঞ্চলিক শাখার নেতাদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026