শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ নয় মাস পর জনসম্মুখে এসে ক্ষমতায় যাওয়ার টিপস দিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। শুক্রবার বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, অনেকদিন যাবত আমি কথা বলিনি। এতোদিন কথা বলার জন্য অনুপ্রাণিত বা উৎসাহিত বোধ করিনি। কারণ দেশে রাজনীতি নেই।তিনি বলেন, আজ দেশের মানুষের মনে প্রশ্ন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কি করবে? তারা কি আগের মত সরকার চালাবে?
আমাদের পরবর্তী সরকার হবে ভিন্ন ধরণের।মওদুদ বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে ক্ষমতায় যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়। জনগণ যদি মনে করে ক্ষমতায় যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। তাহলে তারা গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে নামবে না। আন্দোলন সফল হবে না। আমাদের বুঝাতে হবে, এ সংগ্রাম গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার। এটা অব্যাহত সংগ্রাম। এই সংগ্রামে সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে খালেদার নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে।
এসময় তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এ সংগ্রাম সফল হতে বাধ্য। স্বৈরাচার সরকার কখনো মানুষের মন জয় করতে পারে না। তারা (জনগণ) এখন ক্ষুব্ধ। নির্বাচন হলে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করবে।সাংবাদিকদের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, এই সংগ্রাম চিরন্তন। অনেকে আপনাদের সঙ্গে নেই। তারা ভুল করছে। তারা এও জানে যে, আপনার কারেক্ট (সঠিক)।
কিন্তু নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শের কারণে তারা এ সরকারের সমর্থন করছে। খালেদাই একমাত্র নেত্রী, যিনি এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে পারে বলেও দাবি করেন মওদুদ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কি কি করবে এমন ফিরিস্তিও তুলে ধরেন বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে বর্তমান সরকারের সংবাদপত্রের প্রতি সীমিত ও সংকুচিত নীতি বাতিল করবো। কোনো অজুহাতে কোনোভাবেই পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল বন্ধ করবো না। আমাদের ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনো সাংবাদিক জেলে যাবে না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে চলতে দেবো।
তিনি আরো বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উজ্জীবিত রাখবো। বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করে দেব। ভবিষ্যৎ সরকারকে কার্যকর করতে বিরোধী দলকে সম্মান করবো। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নির্বাচন কমিশন (নিক), পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কে স্বাধীন ও নির্মোহভাবে কাজ করতে দেবো। মওদুদ বলেন, স্বৈরাচাররা সংবাদপত্রকে ভয় করে। সমালোচনাকে ভয় করে। মানুষের কণ্ঠরোধ করতে চায়। বর্তমান স্বৈরাচার আরও নিষ্ঠুর ধরণের। তারা গণতন্ত্রের আবরণে সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
এ পর্যন্ত যারা সংবাদপত্রে আঘাত দিয়েছে, তাদের নিজেদের হাত উড়ে গেছে। ১৯৯০ সালের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ ছিল, তাই স্বৈরাচার প্রতিরোধে সফল হয়েছে। আজকেও সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংবাদপত্রের পক্ষে নামতে হবে।বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালণয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএফইউজের মহাসচিব এম এ আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ডিইউজে’র সভাপতি আব্দুল হাই শিকদার। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম আব্দুল্লাহ।