শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্য বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবার আগেই নতুন কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। আন্দোলন আর দলীয় কর্মসুচী পালন পেছনে রেখে আগামী কমিটির নেতৃত্বে আসতে পদপ্রত্যাশীরা আশ্রয় নিচ্ছেন নানা কৌশলের। মাঠে-ময়দানে না থাকলেও নিজের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার করাতে আশ্রয় নিচ্ছেন অনলাইন আর স্যোশাল মিডিয়ার।
সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিএনপির সিনিওর ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখানে দীর্ঘদিন ধরে থাকায় যুক্তরাজ্য বিএনপি আর নেতাদের সম্পর্কে তাঁর ধারনা স্পষ্ট। এছাড়া যুক্তরাজ্যে বিএনপির এখনকার পরিবর্তিত স্ট্যাটেজির বাস্তবতায় বিতর্কের বাইরে থাকা অপেক্ষাকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন চৌকস আর গ্রহণযোগ্য নেতাদের নেতৃত্বে আনার পক্ষে তারেক রহমান।
লন্ডনে বিএনপির নেতৃত্ব প্রত্যাশী নেতাদের আয়ের উৎস, নেতাকর্মীদের কাছে তাদের কার কেমন গ্রহণযোগ্যতা আর সক্ষমতা- এমন বিষয়ে ওয়াকিবহাল তারেক। আর এ কারনে ব্যাক্তিগত পছন্দের চেয়ে অপেক্ষাকৃত যোগ্য এবং নবীন প্রবীনের সমন্বয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির মুল নেতৃত্ব গঠন করে পদবঞ্চিতদের দলের অন্য পর্যায়ে কাজে লাগানো হতে পারে।
আর এমন বাস্তবতায় অতীতে লন্ডনে ভিসা কলেজ খুলে বাংলাদেশী ষ্টুডেন্টদের অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি করে ঋণের দায় এড়াতে নিজের নাম পাল্টানো, প্রতারনার দায়ে জেল খাটা নেতাদের এবার নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা নেই।
বিএনপির নীতিনির্ধারনী পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, আসন্ন কমিটিতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদস্য নন বা কমিটির বাইরে থাকা এমন কাউকে হুট করে নেতৃত্বে আনার সম্ভাবনা কম। নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল আর নিবেদিত এবং ত্যাগী নেতারাই যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃত্বে আসবেন, এমন প্রত্যাশা যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন জোনাল কমিটির নেতাকর্মীদের।
যুক্তরাজ্য বিএনপির আসন্ন কমিটি সম্মেলনে সরাসরি জোনাল কমিটিগুলোর নেতাদের ভোটে হবারও সম্ভাবনা রয়েছে। আবার বিএনপির গঠনতন্ত্রের নিয়ম মেনে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সাধারণ সভা ডেকে বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি পদে সাবেক আহবায়ক এম এ মালেক, যুক্তরাজ্য বিএনপির বর্তমান সহ সভাপতি দলের পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে পরিচিত আখতার হোসেনের নামই এখন পর্যন্ত হাইকমান্ডের এবং তৃনমুলের নেতাকর্মীদের কাছে নানা বিবেচনায় আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসও এ পদের দাবীদার হতে পারেন।
এম এ মালেক যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক থাকাকালীন সময়ের যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সিলেট ৩ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিষ্টার এম এ সালাম বর্তমানে তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। এ পদে থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন কিনা এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে সাধারন সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারন সম্পাদক কয়সর এম আহমদের পাশাপাশি বর্তমান প্রথম যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক নাসিম আহমদ চৌধুরীর নাম নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচিত হচ্ছে।
এদের বাইরে বর্তমান সহ-সভাপতি শাহ আখতার হোসেন টুটুল, লুতফুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শরীফুজ্জামান তপনের মতো নেতাদের যথাযথ মুল্যায়ন চান নেতাকর্মীরা।
এছাড়া তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আইনজীবীদের সরাসরি ব্যালটে সর্বচ্চো সংখ্যক ভোট পেয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের যুক্তরাজ্যের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া সলিসিটর বিপ্লব কুমার পোদ্দারের মত কলকাতা ও ঢাকায় ছাত্র নেতৃত্বের ধারায় উঠে আসা ক্লিনম্যান নেতাও মুল নেতৃত্ব ঠাঁই করে চমক দেখাতে পারেন।
যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, যেসব নেতারা যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন জোনে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এমন নেতাদের যুক্তরাজ্য বিএনপিতে তাদের যোগ্যতার মুল্যায়ন করা এবং দলে এক নেতার এক পদের নীতি অনুসরন করা এখন সময়ের দাবী। কারন বিএনপির মতো বড়ো দলে একজন নেতা কয়েকটি গুরুত্বপুর্ন পদ ধরে রাখলে বাড়ে পদ-বঞ্চিতদের সংখ্যা।